ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৈকতে প্রশাসনের অভিযান: সুগন্ধার পর এবার কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ রামুর উখিয়ারঘোনাতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী আজ পবিত্র শবে কদর হঠাৎ বৃষ্টি পর্যটন শহরে বিএসপিএ কক্সবাজার শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন তারেক অসুস্থ রোগীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা জনি বিএসপিএ কক্সবাজারের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন: মাহবুবসভাপতি, সুমন সম্পাদক টিটিএনের প্রতিনিধি সম্মেলন: নব উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন কুতুবদিয়ার নুরুল বশর চৌধুরী উঠে গেলো সৈকতের বালিয়াড়ীর দোকান: পুনর্বাসনের আকুতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ​ ২ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে যাত্রী আহত, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ মাতারবাড়ি থেকে অস্ত্রসহ যুবক আটক

কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও কক্সবাজার জেলায় অর্ধেকের মতো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে গড়ে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও টহলের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হলে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় গণনা।

আসনভিত্তিক ভোটের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৪ শতাংশ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ৪৬ শতাংশ, কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে ৪৮ শতাংশ এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে কক্সবাজার-১ আসনে এবং সর্বনিম্ন কক্সবাজার-২ আসনে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ জানান, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ভোটের দিন সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক বেশি। দুপুরের পর ভোটারের উপস্থিতি কমে শেষ পর্যন্ত গড় হার ৫০ শতাংশেই থেমে যায়।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও প্রত্যাশিত হারে ভোটার উপস্থিতি ছিল না।ভোট চলাকালে সদর উপজেলার গর্জনীয় ও খুরুশকুল ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ। তবে ভোটগ্রহণ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলায় ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের টহল ছিল দৃশ্যমান। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। ক্যাম্প এলাকায় চলাচলে নজরদারি জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথবাহিনী প্রস্তুত ছিল। কক্সবাজার জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলো। এর মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ১৬৬ জন সেনা, ৮৮০ জন বিজিবি, ৩৯৯ জন নৌবাহিনী, ৫০ জন বিমান বাহিনী, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড, ৮০ জন র‌্যাব, ১৯০ জন আনসার ব্যাটেলিয়ন ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আনসার ও ভিডিপির ৭ হাজার ৭৭৪ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতি কেন্দ্রে তাঁদের ১৩ জন সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করেছেন।

জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়েছে এবং ফলাফল পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অর্ধেক ভোটার ভোট না দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ

আপডেট সময় : ০১:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও কক্সবাজার জেলায় অর্ধেকের মতো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে গড়ে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও টহলের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হলে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় গণনা।

আসনভিত্তিক ভোটের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৪ শতাংশ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ৪৬ শতাংশ, কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে ৪৮ শতাংশ এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে কক্সবাজার-১ আসনে এবং সর্বনিম্ন কক্সবাজার-২ আসনে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ জানান, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ভোটের দিন সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক বেশি। দুপুরের পর ভোটারের উপস্থিতি কমে শেষ পর্যন্ত গড় হার ৫০ শতাংশেই থেমে যায়।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও প্রত্যাশিত হারে ভোটার উপস্থিতি ছিল না।ভোট চলাকালে সদর উপজেলার গর্জনীয় ও খুরুশকুল ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ। তবে ভোটগ্রহণ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলায় ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের টহল ছিল দৃশ্যমান। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। ক্যাম্প এলাকায় চলাচলে নজরদারি জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথবাহিনী প্রস্তুত ছিল। কক্সবাজার জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলো। এর মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ১৬৬ জন সেনা, ৮৮০ জন বিজিবি, ৩৯৯ জন নৌবাহিনী, ৫০ জন বিমান বাহিনী, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড, ৮০ জন র‌্যাব, ১৯০ জন আনসার ব্যাটেলিয়ন ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আনসার ও ভিডিপির ৭ হাজার ৭৭৪ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতি কেন্দ্রে তাঁদের ১৩ জন সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করেছেন।

জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়েছে এবং ফলাফল পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অর্ধেক ভোটার ভোট না দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।