ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যখন সময় হবে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের

  • রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 270

স্বল্প জনবল, সীমিত অবকাঠামো—তবুও নিরলস প্রচেষ্টা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে এটি দেশের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে মোট ৫৪ হাজার ৩৪ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৮ জন রোগী জরুরি সেবা নিয়েছেন, যা একটি গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের প্রথম চালু হওয়া ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (OSEC) ব্যবস্থা।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি রোগীরা একই স্থানে দ্রুত নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রেফারেল সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব কমেছে এবং জীবনরক্ষাকারী সেবার গতি বেড়েছে বহুগুণে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এই সমন্বিত সেবাপদ্ধতি চালুর ফলে রোগীর চাপ সামলানো সহজ হয়েছে এবং সেবার মানও দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক সেবার মান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, রোগী সন্তুষ্টি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং (HSS) স্কোরিংয়ে ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

শুধু তাই নয়, বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষ দশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি—যা একটি টেকসই উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে দেশসেরা হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা এই অর্জন পেকুয়াবাসী ও সেবাগ্রহীতাদের উৎসর্গ করছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যে অনাস্থা ছিল, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জরুরি সেবার দ্রুততা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সেবার মানোন্নয়নের কারণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, “সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করবো—অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা নিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

স্বল্প জনবল, সীমিত অবকাঠামো—তবুও নিরলস প্রচেষ্টা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে এটি দেশের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে মোট ৫৪ হাজার ৩৪ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৮ জন রোগী জরুরি সেবা নিয়েছেন, যা একটি গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের প্রথম চালু হওয়া ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (OSEC) ব্যবস্থা।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি রোগীরা একই স্থানে দ্রুত নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রেফারেল সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব কমেছে এবং জীবনরক্ষাকারী সেবার গতি বেড়েছে বহুগুণে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এই সমন্বিত সেবাপদ্ধতি চালুর ফলে রোগীর চাপ সামলানো সহজ হয়েছে এবং সেবার মানও দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক সেবার মান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, রোগী সন্তুষ্টি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং (HSS) স্কোরিংয়ে ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

শুধু তাই নয়, বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষ দশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি—যা একটি টেকসই উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে দেশসেরা হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা এই অর্জন পেকুয়াবাসী ও সেবাগ্রহীতাদের উৎসর্গ করছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যে অনাস্থা ছিল, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জরুরি সেবার দ্রুততা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সেবার মানোন্নয়নের কারণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, “সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করবো—অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা নিন।