ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় গলায় ফাঁস লাগানো সেই কিশোরের মৃত্যু জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগামীর সময়ের কক্সবাজার প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক ইমরান হোসাইন নিজের অস্ত্রের গু’লিতে পুলিশ সদস্য নি’হ’ত কচ্ছপিয়ায় কৃষি কর্মকর্তা জহিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে কৃষক সমাবেশ ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান মানবতার দায়: বৈশ্বিক সহায়তা ও আইনগত পদক্ষেপ এখন জরুরি শুরু হলো হজযাত্রা, প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯ বাংলাদেশি জেদ্দায় মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু রামুর প্রজ্ঞামিত্র বিহারে ৪০তম স্বর্গপুরী উৎসব : পুন্যার্থীর ঢল কক্সবাজারে শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রেং উৎসব

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের

  • রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 84

স্বল্প জনবল, সীমিত অবকাঠামো—তবুও নিরলস প্রচেষ্টা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে এটি দেশের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে মোট ৫৪ হাজার ৩৪ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৮ জন রোগী জরুরি সেবা নিয়েছেন, যা একটি গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের প্রথম চালু হওয়া ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (OSEC) ব্যবস্থা।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি রোগীরা একই স্থানে দ্রুত নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রেফারেল সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব কমেছে এবং জীবনরক্ষাকারী সেবার গতি বেড়েছে বহুগুণে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এই সমন্বিত সেবাপদ্ধতি চালুর ফলে রোগীর চাপ সামলানো সহজ হয়েছে এবং সেবার মানও দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক সেবার মান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, রোগী সন্তুষ্টি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং (HSS) স্কোরিংয়ে ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

শুধু তাই নয়, বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষ দশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি—যা একটি টেকসই উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে দেশসেরা হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা এই অর্জন পেকুয়াবাসী ও সেবাগ্রহীতাদের উৎসর্গ করছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যে অনাস্থা ছিল, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জরুরি সেবার দ্রুততা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সেবার মানোন্নয়নের কারণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, “সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করবো—অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা নিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় গলায় ফাঁস লাগানো সেই কিশোরের মৃত্যু

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

স্বল্প জনবল, সীমিত অবকাঠামো—তবুও নিরলস প্রচেষ্টা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে এটি দেশের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে মোট ৫৪ হাজার ৩৪ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৮ জন রোগী জরুরি সেবা নিয়েছেন, যা একটি গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের প্রথম চালু হওয়া ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (OSEC) ব্যবস্থা।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি রোগীরা একই স্থানে দ্রুত নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রেফারেল সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব কমেছে এবং জীবনরক্ষাকারী সেবার গতি বেড়েছে বহুগুণে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এই সমন্বিত সেবাপদ্ধতি চালুর ফলে রোগীর চাপ সামলানো সহজ হয়েছে এবং সেবার মানও দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক সেবার মান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, রোগী সন্তুষ্টি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং (HSS) স্কোরিংয়ে ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

শুধু তাই নয়, বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষ দশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি—যা একটি টেকসই উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে দেশসেরা হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা এই অর্জন পেকুয়াবাসী ও সেবাগ্রহীতাদের উৎসর্গ করছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যে অনাস্থা ছিল, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জরুরি সেবার দ্রুততা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সেবার মানোন্নয়নের কারণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, “সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করবো—অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা নিন।