ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার ভারতে পরলোকগত আ ফ্রু রাখাইনের শেষকৃত্য সম্পন্ন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মরদেহ উদ্ধার মহেশখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ৫৩ জনের নামে মামলা প্রাইভেট কারে তল্লাশি: ৮৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আরাকান আর্মির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজিবি বলছে-

“আরসা-আরএসও’র সঙ্গে আঁতাত নয়”

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি (এএ)-এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তুলেছে তা “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ইউএলএ দাবি করেছে, বিজিবি নাকি আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) মদদ দিচ্ছে। কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।

বিজিবির দাবী, তারা সবসময় আরসা ও আরএসওকে সীমান্তের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের কার্যক্রম দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজিবি বলছে, তাদের দায়িত্ব জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতির বোঝা সামলানো। মিয়ানমারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করে। নাফ নদী থেকে বান্দরবান-কক্সবাজারের পাহাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত নানা স্থানে সেনা সদস্যরা এখন ছয় ঘণ্টা করে পালাক্রমে টহল দিচ্ছে। অতিরিক্ত অস্ত্র, সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করে সীমান্ত সিলগালা করার চেষ্টা চলছে, যাতে পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রবেশের সুযোগ না পায়।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরো বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিপর্যয় মোকাবিলায় বিজিবি লাল পতাকা টাঙিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।

বিজিবি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উত্তর মংডু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আরাকান আর্মি নিজেই গভীর সংকটে পড়েছে। মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, মনোবল ভাঙন ও সেনাদের মানসিক ক্লান্তি সব মিলিয়ে অনেক যোদ্ধা দলত্যাগ করেছে। নতুন সদস্য সংগ্রহে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষকে যুক্ত করলেও ভাষাগত বাধা, ভূমি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও যুদ্ধের অনিচ্ছা তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বুথিডং অঞ্চলে খাদ্যসংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে, যার ফলে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এএ শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ ছোট নৃগোষ্ঠীগুলোকেও নির্যাতন করছে। এমনকি চাঁদা না দিলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও হয়রানি, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেকে এ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজিবির দাবি, আরসা/আরএসওকে উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে, ইয়াবা পাচার রোধে নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই সব সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে, বাংলাদেশ থেকে নয়। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় এএ কর্তৃক পাতা মাইন থাকায় আরসা’র অবাধ চলাচলের অভিযোগ অবাস্তব।

বিজিবি জানায়, ইউএলএ’র এসব অভিযোগ আসলে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড আড়াল করার কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বাস্তবতা স্বীকার করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানায় বিজিবি।

বিজিবির বক্তব্য, তারা কখনোই উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত করেনি, বরং মানবিক দায়িত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্কতা, কূটনীতি ও সহানুভূতির পথেই এগিয়ে চলেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি

আরাকান আর্মির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজিবি বলছে-

“আরসা-আরএসও’র সঙ্গে আঁতাত নয়”

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি (এএ)-এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তুলেছে তা “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ইউএলএ দাবি করেছে, বিজিবি নাকি আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) মদদ দিচ্ছে। কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।

বিজিবির দাবী, তারা সবসময় আরসা ও আরএসওকে সীমান্তের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের কার্যক্রম দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজিবি বলছে, তাদের দায়িত্ব জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতির বোঝা সামলানো। মিয়ানমারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করে। নাফ নদী থেকে বান্দরবান-কক্সবাজারের পাহাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত নানা স্থানে সেনা সদস্যরা এখন ছয় ঘণ্টা করে পালাক্রমে টহল দিচ্ছে। অতিরিক্ত অস্ত্র, সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করে সীমান্ত সিলগালা করার চেষ্টা চলছে, যাতে পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রবেশের সুযোগ না পায়।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরো বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিপর্যয় মোকাবিলায় বিজিবি লাল পতাকা টাঙিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।

বিজিবি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উত্তর মংডু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আরাকান আর্মি নিজেই গভীর সংকটে পড়েছে। মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, মনোবল ভাঙন ও সেনাদের মানসিক ক্লান্তি সব মিলিয়ে অনেক যোদ্ধা দলত্যাগ করেছে। নতুন সদস্য সংগ্রহে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষকে যুক্ত করলেও ভাষাগত বাধা, ভূমি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও যুদ্ধের অনিচ্ছা তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বুথিডং অঞ্চলে খাদ্যসংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে, যার ফলে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এএ শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ ছোট নৃগোষ্ঠীগুলোকেও নির্যাতন করছে। এমনকি চাঁদা না দিলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও হয়রানি, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেকে এ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজিবির দাবি, আরসা/আরএসওকে উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে, ইয়াবা পাচার রোধে নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই সব সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে, বাংলাদেশ থেকে নয়। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় এএ কর্তৃক পাতা মাইন থাকায় আরসা’র অবাধ চলাচলের অভিযোগ অবাস্তব।

বিজিবি জানায়, ইউএলএ’র এসব অভিযোগ আসলে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড আড়াল করার কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বাস্তবতা স্বীকার করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানায় বিজিবি।

বিজিবির বক্তব্য, তারা কখনোই উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত করেনি, বরং মানবিক দায়িত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্কতা, কূটনীতি ও সহানুভূতির পথেই এগিয়ে চলেছে।