ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ-“আওয়ামীলীগের বিচার শুরু হবে বলে আশা করছি” কবে গঠিত হবে নতুন সরকার? চট্টগ্রামে ১৬টির মধ্যে ১৪ আসন বিএনপির, কে কত ভোট পেলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতেছে, কী কী বদল আসবে গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির জিলানী কক্সবাজারের চার আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল; কে কতো ভোটে জিতলেন কত ভোট পেলেন তাসনিম জারা সরকার গঠনে জোট করার প্রশ্নই আসে না: সালাহউদ্দিন তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা, কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন দূতাবাস তারেক রহমানকে মোদির অভিনন্দন রুমিন ফারহানা–তাহসিনা রুশদীর–শামা ওবায়েদসহ জয়ী হলেন ৭ নারী পোস্টাল ব্যালটের চূড়ান্ত হিসাব জানালো ইসি সারা দেশে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ: ইসি ২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, প্রথমবার বিরোধী দলে জামায়াত নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯ আসনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ

সিগারেটের প্রতি শলাকায় ২ টাকা বৃদ্ধি “বলতেও পারিনা সইতেও পারিনা”

নতুন অর্থ বছরও আসেনি। বাজেটও এখনো পাস হয়নি। কিন্তু সিগারেটের দাম বেড়ে গেছে তড়িৎ গতিতেই৷ সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। খুচরা দোকান গুলোতে সোমবার সকাল থেকেই যেকোনো সিগারেটের প্রতি শলাকায় অতিরিক্ত ২টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

এতে ধূমপায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রতিবছর নতুন অর্থ বছর মানেই তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ে, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত বলা যায়। কিন্তু নতুন অর্থ বছর শুরুর আগেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।

সোমবার কক্সবাজার শহরের বেশ কয়েকটি খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে পণ্যটির উপর অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির চিত্র। শহীদ স্মরণী সড়কের এক বিক্রেতা বলেন, কোম্পানির গাড়ি আসছে না। পাইকারী দোকানেও প্যাকেট প্রতি মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদেরও তাই হিসেব করে বিক্রি করতে হয়।

ওই দোকানের সামনেই বিক্রেতার সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত এক ক্রেতা বলেন, “এই এক আজব কান্ড। এখনো বাজেট পাসও হয়নাই, তারা দাম বাড়াই ফেললো। বলতেও পারিনা সইতেও পারিনা।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ক্রেতা বাজারে সিগারেটের এমন কৃত্রিম সংকটের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরের অভিযান প্রত্যাশা করেছেন।

তবে অগ্রিম কর ও ‘সিগারেট পেপার’ আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রভাবে নতুন অর্থবছরে আরেক দফা বাড়বে সিগারেটের দাম।

সোমবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সম্ভাব্য মুনাফার পরিমাণ বিবেচনায় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে নিট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৩ শতাংশের জায়গায় ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে।”

এছাড়া সিগারেট পেপার আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য সম্পূরক শুল্ক হার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ শতাংশ করার কথাও বলেন উপদেষ্টা।

ধুমপান মরণব্যাধিসহ নানাবিধ শারিরীক জটিলতার তৈরি করে। তাই চিকিৎসকরা ধুমপানে নিরুৎসাহিত করে থাকেন।

এদিকে অগ্রিম কর ও সিগারেট পেপার আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলছে তামাক বিরোধী সংগঠন ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান-প্রজ্ঞা’ ও তামাকবিরোধী জোট ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা’।

তবে এ উদ্যোগ তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে তারা।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ফলে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া তরুণ জনগোষ্ঠী সিগারেট ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

সিগারেটের প্রতি শলাকায় ২ টাকা বৃদ্ধি “বলতেও পারিনা সইতেও পারিনা”

আপডেট সময় : ১২:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

নতুন অর্থ বছরও আসেনি। বাজেটও এখনো পাস হয়নি। কিন্তু সিগারেটের দাম বেড়ে গেছে তড়িৎ গতিতেই৷ সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। খুচরা দোকান গুলোতে সোমবার সকাল থেকেই যেকোনো সিগারেটের প্রতি শলাকায় অতিরিক্ত ২টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

এতে ধূমপায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রতিবছর নতুন অর্থ বছর মানেই তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ে, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত বলা যায়। কিন্তু নতুন অর্থ বছর শুরুর আগেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।

সোমবার কক্সবাজার শহরের বেশ কয়েকটি খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে পণ্যটির উপর অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির চিত্র। শহীদ স্মরণী সড়কের এক বিক্রেতা বলেন, কোম্পানির গাড়ি আসছে না। পাইকারী দোকানেও প্যাকেট প্রতি মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদেরও তাই হিসেব করে বিক্রি করতে হয়।

ওই দোকানের সামনেই বিক্রেতার সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত এক ক্রেতা বলেন, “এই এক আজব কান্ড। এখনো বাজেট পাসও হয়নাই, তারা দাম বাড়াই ফেললো। বলতেও পারিনা সইতেও পারিনা।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ক্রেতা বাজারে সিগারেটের এমন কৃত্রিম সংকটের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরের অভিযান প্রত্যাশা করেছেন।

তবে অগ্রিম কর ও ‘সিগারেট পেপার’ আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রভাবে নতুন অর্থবছরে আরেক দফা বাড়বে সিগারেটের দাম।

সোমবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সম্ভাব্য মুনাফার পরিমাণ বিবেচনায় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে নিট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৩ শতাংশের জায়গায় ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম কর সংগ্রহের বিধান করা হয়েছে।”

এছাড়া সিগারেট পেপার আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য সম্পূরক শুল্ক হার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ শতাংশ করার কথাও বলেন উপদেষ্টা।

ধুমপান মরণব্যাধিসহ নানাবিধ শারিরীক জটিলতার তৈরি করে। তাই চিকিৎসকরা ধুমপানে নিরুৎসাহিত করে থাকেন।

এদিকে অগ্রিম কর ও সিগারেট পেপার আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলছে তামাক বিরোধী সংগঠন ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান-প্রজ্ঞা’ ও তামাকবিরোধী জোট ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা’।

তবে এ উদ্যোগ তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে তারা।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ফলে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া তরুণ জনগোষ্ঠী সিগারেট ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে।