এতে চট্টগ্রামে ট্রেন পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবে এসব জেলার যাত্রীরা। তবে একটি রেক দিয়ে পুরো রুটে ট্রেনটি পরিচালিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চলাচল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুটি ট্রেনই বিরতিহীনভাবে চলাচল করছে। ট্রেন দুটি কমলাপুর থেকে ছাড়ার পর শুধু বিমানববন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
এরপর ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম গিয়ে থামে। সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। এতে করে ৫ জেলার যাত্রীদের কক্সবাজার যেতে হলে প্রথমে চট্টগ্রামে পৌঁছে ভিন্ন ট্রেনে কক্সবাজারে যেতে হতো। তবে এখন মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ায় ৫ জেলার যাত্রীরা এক ট্রেনেই কক্সবাজার যেতে পারবে।
এতে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।
রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সম্প্রসারিত সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেই লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চালুর খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। এতে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীরা সহজে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, পর্যটন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলপথে নতুন এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন এই রেলসংযোগ পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে ট্রেনটির বর্ধিত চলাচলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে মুহূর্তেই প্রথম দিনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তী দিনগুলোর বেলায়ও একই অবস্থা দেখা গেছে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার। ট্রেনটির আসন সংখ্যা ২৭০০-এর বেশি।
তবে একটি রেকে (যেটি যাবে সেটিই ফিরবে) চলাচল করবে বিধায় এই ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে চলাচল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রবিবার সপ্তাহিক ছুটি বাদে সপ্তাহের ছয় দিন চলাচলকালে ট্রেনটি ঢাকায় দুই ঘণ্টা ও কক্সবাজারে তিন ঘণ্টা সময় পাবে। লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) বদল, ট্রেন পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে হবে ওই সময়ের মধ্যে। চলার পথে বিলম্ব হলে ট্রেনিটির নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মহানগরের মতো বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহের বদলে জামালপুর নাগাদ বর্ধিত করা হলে ঘটে বিপত্তি। ট্রেনটি প্রতিনিয়তই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বে চলে। এটিও এক রেকে চট্টগ্রাম-জামালপুর পথে আসা-যাওয়া করে।
আখাউড়ার ব্যবসায়ি ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, ‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আকিজ কম্পানির একটি প্রোগ্রাম কক্সবাজার যাব। আমি মহানগর এক্সপ্রেসে করেই যাব। এটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। আগে চট্টগ্রাম গিয়ে আবার আরেকটি ট্রেন বা বাসে করে কক্সবাজার যেতে হতো।’
শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার যাওয়ার জন্য তিনি ২৭ অক্টোবর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়বেন। এরই মধ্যেই টিকিট কেটে ফেলেছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্ত নগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পরিচালনা করা হবে। আন্ত নগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত রুটে যাত্রা উদ্বোধনের প্রাক্কালে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত থাকবেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রের ট্রেনের আজকের চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটির খালি রেক রবিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
টিটিএন ডেস্ক: 



















