ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত দুবাইতে চুরি করা টাকার ভাগ নিয়ে জেলে গেলেন রশিদ নগরের চেয়ারম্যান শাহ আলম চকরিয়া ডুলাহাজারা ক্রিড়া সংসদ নির্বাচনে ফজলুর কাদের সভাপতি নির্বাচিত পটিয়ার লুণ্ঠিত চিনি উদ্ধার হলো চকরিয়ার রাসেলের দোকান থেকে – রাসেল ছাত্রদল নাকি শিবির এ নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পেকুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু জামায়াতের দায়িত্বশীল বৈঠকে জেলা আমীর আনোয়ারী- জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩ পরিবারকে এমপি আলমগীর ফরিদের নগদ অর্থ সহায়তা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের সহযোগিতা চান জাবের আহমদ গং কক্সবাজারে স্বস্তি খুঁজে পায় মিমের মন অচিরেই ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনের আইন তুলে নেয়া হবে : এমপি কাজল গেলো ২৪ ঘন্টায় সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেলে থাকতে দিলে ব্যবস্থা- সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না পেকুয়ায় লবণাক্ত পানিতে ক্ষতির শঙ্কায় হাজারো কৃষকের ফসল এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও

হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড ও সহায়তাকারীদের ভিড় থাকে। গত কয়েক দশকে সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড খুম্বু হিমবাহ গলতে ভূমিকা রাখছে।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় হিমবাহ গলার তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে—বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপ।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০২৩ সালের বসন্তের আরোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণায় রান্না, গরম থাকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলপিজি, কেরোসিন ও পেট্রোল থেকে নির্গত তাপের পাশাপাশি মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপও হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এসব কর্মকাণ্ড থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ ± ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি নির্গত হয়েছে। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট।

তবে হিমবাহ গলার একমাত্র কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনও এর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণাটি দেখিয়েছে, স্থানীয় কর্মকাণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খুম্বু হিমবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

গবেষকেরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট ৫, ল্যান্ডস্যাট ৭ ও ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ৩২ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

বেস ক্যাম্পে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার পাশের খুম্বু হিমবাহের পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ক্যাম্পের ঠিক উত্তরের পাথর ও মাটি দিয়ে ঢাকা ভূখণ্ডের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর অবস্থিত একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল এলাকায়। প্রয়োজন হলে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও গবেষকেরা খতিয়ে দেখেছেন। এ জন্য বর্তমান ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিতিশীল ভূমির ওপর দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং পর্বতারোহণের গন্তব্য এভারেস্ট। তবে বেস ক্যাম্পে মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন খুম্বু হিমবাহের জন্য নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: স্টার নিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও

আপডেট সময় : ১২:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড ও সহায়তাকারীদের ভিড় থাকে। গত কয়েক দশকে সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড খুম্বু হিমবাহ গলতে ভূমিকা রাখছে।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় হিমবাহ গলার তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে—বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপ।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০২৩ সালের বসন্তের আরোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণায় রান্না, গরম থাকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলপিজি, কেরোসিন ও পেট্রোল থেকে নির্গত তাপের পাশাপাশি মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপও হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এসব কর্মকাণ্ড থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ ± ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি নির্গত হয়েছে। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট।

তবে হিমবাহ গলার একমাত্র কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনও এর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণাটি দেখিয়েছে, স্থানীয় কর্মকাণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খুম্বু হিমবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

গবেষকেরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট ৫, ল্যান্ডস্যাট ৭ ও ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ৩২ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

বেস ক্যাম্পে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার পাশের খুম্বু হিমবাহের পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ক্যাম্পের ঠিক উত্তরের পাথর ও মাটি দিয়ে ঢাকা ভূখণ্ডের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর অবস্থিত একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল এলাকায়। প্রয়োজন হলে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও গবেষকেরা খতিয়ে দেখেছেন। এ জন্য বর্তমান ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিতিশীল ভূমির ওপর দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং পর্বতারোহণের গন্তব্য এভারেস্ট। তবে বেস ক্যাম্পে মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন খুম্বু হিমবাহের জন্য নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: স্টার নিউজ