ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল সারাদেশে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও চোটের মিছিল দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী থাকলেও তাদের মান নিয়ে সংশয় রয়েছে: আইনমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া, প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিক আদালতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহেদ গ্রেপ্তার খুরুশকুলের মোস্তাক আহমেদ আর নেই শহরের পানশালায় তর্কাতর্কি থেকে ভাঙ্গা কাঁচের বোতলের আঘাতে যুবকের মৃত্যু, আটক ১ সভাপতি পদে হাশেম-ফরিদ আর সাধারণ সম্পাদক পদে ২ আমিনের লড়াই অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুতুবদিয়ায় অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ হোয়ানকের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের জানাযায় মানুষের ঢল লামাকে জেলা ঘোষণা ও জেলা পরিষদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবি জেলাভিত্তিক তদারকি ও সমন্বয়ের জন্যে দায়িত্ব বন্টন : কক্সবাজারের দায়িত্বে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া, প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের ৫ হাজার নাগরিককে ধাপে ধাপে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। প্রথম দফায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রথম দফায় ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৪৭৬ জনের পরিচয় মিয়ানমার সরকারের ১৩ আগস্টের কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায় প্রত্যাবাসনের তারিখও অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রথম দফার প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ৪ হাজার ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ (ডিপিপি) বা শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হবে। একই সময়ে আরও ৫ হাজার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।

গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ছিলেন ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে না। ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন অবস্থা, শরণার্থী দাবি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে। এই যাচাই কার্যক্রম ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিপিপির শর্ত পূরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের ‘ডিপিপি কার্ড’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত ও সরকারি নজরদারির আওতায় তারা সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত এবং প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে।

মালয়েশিয়া সরকারের পরিকল্পনায় মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা এবং শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করার বিষয়টি রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় থাকা ৯৫ শতাংশের বেশি শরণার্থী মিয়ানমার থেকে আসা। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা, চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। এ কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের সম্মতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া, প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর

আপডেট সময় : ১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের ৫ হাজার নাগরিককে ধাপে ধাপে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। প্রথম দফায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রথম দফায় ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৪৭৬ জনের পরিচয় মিয়ানমার সরকারের ১৩ আগস্টের কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায় প্রত্যাবাসনের তারিখও অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রথম দফার প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ৪ হাজার ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ (ডিপিপি) বা শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হবে। একই সময়ে আরও ৫ হাজার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।

গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ছিলেন ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে না। ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন অবস্থা, শরণার্থী দাবি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে। এই যাচাই কার্যক্রম ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিপিপির শর্ত পূরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের ‘ডিপিপি কার্ড’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত ও সরকারি নজরদারির আওতায় তারা সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত এবং প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে।

মালয়েশিয়া সরকারের পরিকল্পনায় মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা এবং শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করার বিষয়টি রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় থাকা ৯৫ শতাংশের বেশি শরণার্থী মিয়ানমার থেকে আসা। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা, চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। এ কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের সম্মতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সূত্র: রয়টার্স