লামাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণার দাবি, স্থগিত জেলা কার্যক্রম পুনর্বহাল এবং নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় লামা প্রেসক্লাবে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লামা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া।
বৈঠকে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এম. রুহুল আমিন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সমাজসেবিকা আনোয়ারা বেগম, অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম খন্দকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ পৃষ্ঠার খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন
বৈঠকে লামাকে জেলা বাস্তবায়নের দাবির পক্ষে ৮ পৃষ্ঠার একটি খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন কমিটির আহ্বায়ক এম. রুহুল আমিন।
প্রস্তাবনায় লামার প্রশাসনিক ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন, জনসংখ্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে লামাকে জেলা ঘোষণার যৌক্তিকতা এবং দাবি বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, লামা একসময় ২১ দিন জেলা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে নির্বাহী আদেশে সেই কার্যক্রম স্থগিত করে লামাকে পুনরায় বান্দরবান জেলার উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে তারা দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরে লামার জনগণ স্থগিত জেলা কার্যক্রম পুনর্বহাল ও পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন।
জেলা পরিষদে প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ক্ষোভ
নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলা থেকে কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি না রাখায় বৈঠকে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ একটি উপজেলার জনগণের প্রতিনিধি জেলা পরিষদে না থাকায় স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি ও স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ সীমিত হতে পারে। তাই লামার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তারা।
প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ
বৈঠকে অ্যাডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক বলেন, লামাকে জেলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, লামার ন্যায্য অধিকার ও জেলা বাস্তবায়নের দাবিকে আইনগত ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও দলিলপত্র সংগ্রহ করা হবে।
দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান
বক্তারা বলেন, লামাকে জেলা করার দাবি কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; এটি লামার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। তাই দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে।
বৈঠক থেকে লামার উন্নয়ন, জনগণের ন্যায্য অধিকার, জেলা পরিষদে প্রতিনিধিত্ব এবং জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের সমাপ্তি হয়।
গোলটেবিল বৈঠক থেকে লামার স্থগিত জেলা কার্যক্রম পুনর্বহাল, দ্রুত লামাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মো: ইমরান খান: 























