চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রাজধানী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারা দেশে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এই বিশেষ নির্দেশ বাস্তবায়নের কথা জানান মন্ত্রী।
সম্প্রতি রাজধানীর শান্তিনগরে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের হামলায় মারাত্মক আহত চিকিৎসাবিদ অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি অপরাধ দমনে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। মন্ত্রী জানান, ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতাসহ চার আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাতে তিনি জানান, বিদেশে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশের ফিরে একটি চক্র গড়ে তোলে অপরাধীরা। মূলত দেশের বড় হাসপাতাল, স্বনামধন্য চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করাই ছিল এদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর সহ্য করা হবে না এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযান চলবে।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশের কেউ যদি কোনো চাঁদাবাজ বা অপরাধী চক্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে, তবে তাদেরও তালিকা তৈরি করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
এদিকে দেশের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ইতোমধ্যে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা চিকিৎসকরা সরকারের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা 




















