ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা সাজেকে চাঁদের গাড়ি উল্টে ৭ পর্যটক আহত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বছরে কয়েকবার উচ্ছেদ, তবুও যানজটের কারণ সেই বিদ্যুতের খুঁটি ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিককে প্রধান আসামি করে পুলিশের মামলা টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ১৩ পরিবার

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কক্সবাজারে পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা : স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত অন্যতম বেসরকারি সংস্থা ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ (জিকে)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদ এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চরম প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, স্বজনপ্রীতি ও কর্মীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগপত্র, লিখিত অভিযোগ ও ইমেইল বার্তা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এসব অনিয়মের কারণে সংস্থায় চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোও এখন ঝুঁকির মুখে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য ও ঔদ্ধত্য প্রকাশঃ
নথিপত্র অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে না জানিয়ে জ্যেষ্ঠ এক আইটি অফিসারকে চাকরিচ্যুত করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদ। নিয়ম মেনে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে তিনি তা উপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উক্ত বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে পরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করলেও তিনি সিইও-র নির্দেশ অমান্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ এপ্রিল ওই কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার সময় সিইও-র আদেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ডা. মুনজুর উচ্চবাচ্য করে বলেন, “এখানে সিইও বা ট্রাস্টি চেয়ারম্যান কারও নির্দেশ চলবে না, আমার নির্দেশই চূড়ান্ত।”

কর্মীদের লাঞ্ছনা ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগঃ
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন বরাবর পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসের পর মাস নিয়োগপত্র ঝুলিয়ে রাখা, বেতন-ভাতা ও প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা এবং ছুটির দিনে জোরপূর্বক ডিউটি করানোর মতো মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। গত ৬ জুন কর্মীরা এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলতে জিকে-এমআই অফিসের মিটিং রুমে সমবেত হলে তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ উঠেছে, তিনি উপস্থিত কর্মীদের ‘গার্মেন্টস কর্মী’ ও ‘দিনমজুর’ বলে গালিগালাজ করেন, অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং প্রতিবাদ জানালে এক কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করেন।

স্বজনপ্রীতি ও চিকিৎসকদের পদত্যাগঃ
অসহনীয় প্রশাসনিক পরিবেশ ও স্থানীয় কর্মীদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে গত ৬ মাসে সংস্থাটি থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্যাম্প-১১-এর ক্লিনিক ম্যানেজার ডা. সানজিদা, মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ডা. জাফর সাদেক এবং মেডিকেল অফিসার ডা. রাবেয়া বসরী মৌসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করা হয়, নিয়ম ভেঙে এক নারী কর্মকর্তাকে বিনা সাক্ষাৎকারে পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রসূতি কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে, নিয়োগ বোর্ডে মার্কশিট জালিয়াতি এবং সরকারি ও এনজিও ব্যুরোর নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে কক্সবাজারের স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদী কর্মকর্তাদের দূরবর্তী জেলা বা ঢাকায় বদলি করে কক্সবাজার প্রকল্পকে অভিজ্ঞ কোর-স্টাফশূন্য করে ফেলা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রকল্পঃ
কক্সবাজার ও ভাসানচরে ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ডব্লিউএফপি (WFP), ইউনিসেফ (UNICEF), কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি অনুমোদনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত অডিট ও কমপ্লায়েন্স রক্ষায় সহযোগিতা না করায় দাতা সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তের আশ্বাস সিইও-র, এমপি কাজলের ডিও লেটার
অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এইচ এম শফিকুজ্জামান জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে ছাড় দেওয়া হবে না।” অবশ্য তিনি জানান, কিছু কর্মীর ছাঁটাই প্রকল্প ফান্ডের ঘাটতির কারণে স্বাভাবিক নিয়মে হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজারের এনজিও ও আইএনজিওগুলোতে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের অন্তত ৬০ শতাংশ চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব (এনজিও বিষয়ক) বরাবর একটি বিশেষ আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। এমপি কাজল সতর্ক করে জানান, “গণস্বাস্থ্যসহ যেকোনো এনজিওতে স্থানীয় কর্মীরা বৈষম্য বা অন্যায় ছাঁটাইয়ের শিকার হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কক্সবাজারে পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা : স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:০০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত অন্যতম বেসরকারি সংস্থা ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ (জিকে)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদ এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চরম প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, স্বজনপ্রীতি ও কর্মীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগপত্র, লিখিত অভিযোগ ও ইমেইল বার্তা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এসব অনিয়মের কারণে সংস্থায় চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোও এখন ঝুঁকির মুখে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য ও ঔদ্ধত্য প্রকাশঃ
নথিপত্র অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে না জানিয়ে জ্যেষ্ঠ এক আইটি অফিসারকে চাকরিচ্যুত করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদ। নিয়ম মেনে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে তিনি তা উপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উক্ত বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে পরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করলেও তিনি সিইও-র নির্দেশ অমান্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ এপ্রিল ওই কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার সময় সিইও-র আদেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ডা. মুনজুর উচ্চবাচ্য করে বলেন, “এখানে সিইও বা ট্রাস্টি চেয়ারম্যান কারও নির্দেশ চলবে না, আমার নির্দেশই চূড়ান্ত।”

কর্মীদের লাঞ্ছনা ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগঃ
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন বরাবর পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসের পর মাস নিয়োগপত্র ঝুলিয়ে রাখা, বেতন-ভাতা ও প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা এবং ছুটির দিনে জোরপূর্বক ডিউটি করানোর মতো মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। গত ৬ জুন কর্মীরা এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলতে জিকে-এমআই অফিসের মিটিং রুমে সমবেত হলে তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ উঠেছে, তিনি উপস্থিত কর্মীদের ‘গার্মেন্টস কর্মী’ ও ‘দিনমজুর’ বলে গালিগালাজ করেন, অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং প্রতিবাদ জানালে এক কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করেন।

স্বজনপ্রীতি ও চিকিৎসকদের পদত্যাগঃ
অসহনীয় প্রশাসনিক পরিবেশ ও স্থানীয় কর্মীদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে গত ৬ মাসে সংস্থাটি থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্যাম্প-১১-এর ক্লিনিক ম্যানেজার ডা. সানজিদা, মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ডা. জাফর সাদেক এবং মেডিকেল অফিসার ডা. রাবেয়া বসরী মৌসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করা হয়, নিয়ম ভেঙে এক নারী কর্মকর্তাকে বিনা সাক্ষাৎকারে পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রসূতি কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে, নিয়োগ বোর্ডে মার্কশিট জালিয়াতি এবং সরকারি ও এনজিও ব্যুরোর নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে কক্সবাজারের স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদী কর্মকর্তাদের দূরবর্তী জেলা বা ঢাকায় বদলি করে কক্সবাজার প্রকল্পকে অভিজ্ঞ কোর-স্টাফশূন্য করে ফেলা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রকল্পঃ
কক্সবাজার ও ভাসানচরে ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ডব্লিউএফপি (WFP), ইউনিসেফ (UNICEF), কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি অনুমোদনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত অডিট ও কমপ্লায়েন্স রক্ষায় সহযোগিতা না করায় দাতা সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তের আশ্বাস সিইও-র, এমপি কাজলের ডিও লেটার
অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এইচ এম শফিকুজ্জামান জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে ছাড় দেওয়া হবে না।” অবশ্য তিনি জানান, কিছু কর্মীর ছাঁটাই প্রকল্প ফান্ডের ঘাটতির কারণে স্বাভাবিক নিয়মে হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজারের এনজিও ও আইএনজিওগুলোতে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের অন্তত ৬০ শতাংশ চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব (এনজিও বিষয়ক) বরাবর একটি বিশেষ আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। এমপি কাজল সতর্ক করে জানান, “গণস্বাস্থ্যসহ যেকোনো এনজিওতে স্থানীয় কর্মীরা বৈষম্য বা অন্যায় ছাঁটাইয়ের শিকার হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”