দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উপকূলীয় পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সেন্টমার্টিন পৌঁছে সবুজায়ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ-সময় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সেন্টমার্টিনের মতো সংবেদনশীল প্রবাল দ্বীপে পরিবেশ রক্ষা করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আগামী পাঁচ বছরে। দ্বীপের মানুষের উচিত গাছের পরিচর্যা করা। জীব বৈচিত্র্য রক্ষা যেমন দরকার তেমনি মানুষের স্বাস্থ্য সেবাসহ অন্যান্য যা কিছু জড়িত সব ধরনের গাছকে রোপণ করা হবে।
দ্বীপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাদেরকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। জনগণের নির্বাচিত সরকার, জনগণের স্বার্থ দেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের স্বার্থ দ্বীপের অস্তিত্ব সবকিছু নিয়েই সমন্বয় করে পরিকল্পনা করা হবে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, এনরুট ফাউন্ডেশন এবং বিজিএস-এর যৌথ উদ্যোগে ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে দ্বীপজুড়ে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় দ্বীপে আম, পেয়ারা, বহেরা, হরীতকী, নিম, বাতাবি লেবু, কুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল, সাগর লতা, হরগজা, কেয়া এবং নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সমুদ্র সৈকত থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
আরো উপস্থিত ছিলেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনসাধারণ, পরিবেশকর্মী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সমন্বয় অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক।
উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গত ৩ বছরে দেশজুড়ে ৩২ লাখ চারা রোপণ করেছে এবং আগামী ৫ বছরে আরও ৭৫ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে সংস্থাটি সারাদেশে ১৫ লাখ এবং কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।
নোমান অরুপ: 





















