কথায় কথায় আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদ্গার, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, এসব কি কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সামাজিক ও মানসিক সংকট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সাধারণত একক কোনো কারণ থেকে জন্ম নেয় না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা মানুষের আচরণকে ক্রমশ আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দারিদ্র্য, দীর্ঘমেয়াদি চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্য মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতি কমে গেলে মানুষ সহজেই ক্ষোভ, ভয় ও সংঘাতমুখী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
অতএব, পুলিশকে আক্রমণ করা হোক বা সামান্য মতবিরোধে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়া, এসবকে শুধু “রাগের বহিঃপ্রকাশ” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো অনেক সময় একটি বৃহত্তর সামাজিক ক্লান্তি, হতাশা এবং মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ।
একটি সুস্থ সমাজ গড়তে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক আস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ অসহিষ্ণুতা হঠাৎ জন্ম নেয় না, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, চাপ ও বিচ্ছিন্নতার জমে থাকা প্রতিক্রিয়া।
প্রশ্ন হলো, আমরা কি কেবল সহিংসতার ঘটনা দেখছি, নাকি তার জন্মদাতা কারণগুলোও দেখার সাহস করছি?
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 























