ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর জাতিসংঘে আবেদন  মেয়েদের শিক্ষা হবে ‘ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি’, আসছে ‘এলপিজি কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি রোধে কক্সবাজারে ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি, পছন্দের পদে ফেরাতে তদবিরে সক্রিয় অসাধুরা নির্মাণ শ্রমিককে চাপা দিয়ে পালানো পিকআপ ৩০ কিমি পর জব্দ ‘অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক’ গর্জনিয়া বাজারে রাজস্ব ‘গায়েব’ – অ্যাডভোকেট স্বপ্নাকে জেলা বারের সংবর্ধনা: সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি টেকনাফে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ কারবারি আটক বিজিবি দেখে ২৮২ রাউন্ড তাজা গুলি ফেলে পালাল দুষ্কৃতকারীরা ইংরেজি প্রথম পত্রে নকলের অভিযোগ, কক্সবাজারে ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার রামুর রাজারকুলে এপেক্সিয়ান আবুল কায়সারের সৌজন্যে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প টেকনাফে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি পাহাড় কেটে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ ! পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় মিললো বিপুল ইয়াবা

তীব্র গরমে আরাম পেতে যা করতে পারেন

একটানা কয়েক দিনের তীব্র গরম শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এই সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার সঙ্গে যোগ হয়েছে লোডশেডিং, ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত তাপে শরীর নিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে হিট স্ট্রোক বা হিট এক্সহস্টনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদযন্ত্র ও কিডনির ওপরও মারাত্মক চাপ পড়ে। তাই এই সময়ে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে আমরা যা করতে পারি।

ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

গরমে ঘর শীতল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কিছু সহজ উপায়ে তা সম্ভব। সন্ধ্যার পর যখন বাইরের বাতাস ঠান্ডা হয়, তখন জানালা খুলে দিন। দিনের বেলা রোদ বেশি থাকলে জানালা বন্ধ রেখে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখলে ঘরের তাপ কমে।

ফ্যান ও এসি ব্যবহারের নিয়ম

তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ফ্যান ব্যবহার করা ভালো। এর বেশি হলে ফ্যান উল্টো শরীরকে গরম অনুভব করাতে পারে। এসি ব্যবহার করলে ২৭ ডিগ্রিতে সেট করে সঙ্গে ফ্যান চালালে ঘর বেশি ঠান্ডা লাগে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।

শরীরের যত্ন

গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন এবং প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছুন বা পানি স্প্রে করুন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন—প্রতিদিন অন্তত ২–৩ লিটার। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে।

খাবারে সতর্কতা

এই সময়ে ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিপসে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে। ক্যাফেইন ও বেশি চিনি যুক্ত পানীয়ও ক্ষতিকর। বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমে সমস্যা করে এবং শরীরের তাপ বাড়ায়।

মাথা ঘোরা, বমিভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে, তাঁদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন থাকলেই এই তীব্র গরমে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

সূত্র: দ্য টাইমস ম্যাগাজিন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর জাতিসংঘে আবেদন 

তীব্র গরমে আরাম পেতে যা করতে পারেন

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

একটানা কয়েক দিনের তীব্র গরম শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এই সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার সঙ্গে যোগ হয়েছে লোডশেডিং, ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত তাপে শরীর নিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে হিট স্ট্রোক বা হিট এক্সহস্টনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদযন্ত্র ও কিডনির ওপরও মারাত্মক চাপ পড়ে। তাই এই সময়ে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে আমরা যা করতে পারি।

ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

গরমে ঘর শীতল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কিছু সহজ উপায়ে তা সম্ভব। সন্ধ্যার পর যখন বাইরের বাতাস ঠান্ডা হয়, তখন জানালা খুলে দিন। দিনের বেলা রোদ বেশি থাকলে জানালা বন্ধ রেখে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখলে ঘরের তাপ কমে।

ফ্যান ও এসি ব্যবহারের নিয়ম

তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ফ্যান ব্যবহার করা ভালো। এর বেশি হলে ফ্যান উল্টো শরীরকে গরম অনুভব করাতে পারে। এসি ব্যবহার করলে ২৭ ডিগ্রিতে সেট করে সঙ্গে ফ্যান চালালে ঘর বেশি ঠান্ডা লাগে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।

শরীরের যত্ন

গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন এবং প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছুন বা পানি স্প্রে করুন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন—প্রতিদিন অন্তত ২–৩ লিটার। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে।

খাবারে সতর্কতা

এই সময়ে ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিপসে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে। ক্যাফেইন ও বেশি চিনি যুক্ত পানীয়ও ক্ষতিকর। বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমে সমস্যা করে এবং শরীরের তাপ বাড়ায়।

মাথা ঘোরা, বমিভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে, তাঁদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন থাকলেই এই তীব্র গরমে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

সূত্র: দ্য টাইমস ম্যাগাজিন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন