ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ টেকনাফের হ্নীলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ১০-১২টি বসতবাড়ি

অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অপহরণের জন্য আলোচিত এবং ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক থেকে অপহরণের শিকার হওয়া ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলীকে (৪১) প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে স্বজনরা জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণের খবর রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একাধিক দল দিনভর ঈদগড় ও রশিদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। রাত ৯টার দিকে রশিদনগরের পানিরছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে রুস্তম আলীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম বলেন, অপহরণের পরপরই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। টানা অভিযানের একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অপহরণের পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপহরণের ঘটনাকে ঘিরে দিনভর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধির অপহরণ সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।’

প্রসঙ্গত, একই দিন ভোর রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে রাবার বাগানের তিন শ্রমিক অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাময়িক অভিযানে অপহৃতকে উদ্ধারের ঘটনা এই সড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন হবে না। অপহরণকারীদের নির্মূলে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান জরুরি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী

আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অপহরণের জন্য আলোচিত এবং ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক থেকে অপহরণের শিকার হওয়া ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলীকে (৪১) প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে স্বজনরা জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণের খবর রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একাধিক দল দিনভর ঈদগড় ও রশিদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। রাত ৯টার দিকে রশিদনগরের পানিরছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে রুস্তম আলীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম বলেন, অপহরণের পরপরই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। টানা অভিযানের একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অপহরণের পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপহরণের ঘটনাকে ঘিরে দিনভর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধির অপহরণ সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।’

প্রসঙ্গত, একই দিন ভোর রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে রাবার বাগানের তিন শ্রমিক অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাময়িক অভিযানে অপহৃতকে উদ্ধারের ঘটনা এই সড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন হবে না। অপহরণকারীদের নির্মূলে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান জরুরি।