ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, টানা ৩ দিন ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস সংসদ থেকে বিরোধীদল সদস্যদের ওয়াকআউট কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৩৮ রোববার থেকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কউকের সেমিনার-কক্সবাজারে সুপেয় পানির পরিমান কমছে নানার বাড়ি এসে পুকুরেডুবে দুই শিশুর মৃ’ত্যু আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে : ইরা‌নি রাষ্ট্রদূত আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে মানবপাচার চক্রের আস্তানা থেকে ১৩ জন উদ্ধার ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আরব আমিরাত ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত গর্জনিয়ার মিন্টু ইরান নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন ট্রাম্প আরাকান আর্মির কবল থেকে মুক্ত ১৪ জেলে দেশে ফিরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবের খোলা চিঠি পাল্টাপাল্টি চাঁদা দাবির অভিযোগে মুখোমুখি যুবদল–ছাত্রদল নেতা

কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৩৮

কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করেন। এতে কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২ টিতে।

৭ মাস বয়সী শিশুটি মহেশখালীর বাসিন্দা সরওয়ার আলমের কন্যাশিশু হিরা মনি। হিরা মনিকে ৩০ মার্চ সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি শিশু মারা গেছে। শিশুটির হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও মুখে ঘা ছিলো। তবে মুখে খেতে না পারায় মুখে নল দিয়েছিলাম। তবে অভিভাবক ভুলবশত মুখে খাওয়াতে গিয়ে নাকে-মুখে হয়ে শিশুটি অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। পরে বহু চেষ্টার পরেও আমরাকে শিশুটিকে বাঁচাতে পারিনি।

এর আগে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য জানা যায়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিলো। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়া সহ নানা সমস্যা ছিলো। শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। আমরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি শিশুটিকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।

এদিকে কক্সবাজারে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়াচ্ছে ছোঁয়াচে হাম রোগের প্রকোপ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) ভর্তি রয়েছে ৩৫ টি শিশু। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও ৩টি শিশু ভর্তি রয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা জিনিসপত্র দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশাকরি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১১৯ টি শিশু। তবে সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৩৮

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করেন। এতে কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২ টিতে।

৭ মাস বয়সী শিশুটি মহেশখালীর বাসিন্দা সরওয়ার আলমের কন্যাশিশু হিরা মনি। হিরা মনিকে ৩০ মার্চ সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি শিশু মারা গেছে। শিশুটির হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও মুখে ঘা ছিলো। তবে মুখে খেতে না পারায় মুখে নল দিয়েছিলাম। তবে অভিভাবক ভুলবশত মুখে খাওয়াতে গিয়ে নাকে-মুখে হয়ে শিশুটি অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। পরে বহু চেষ্টার পরেও আমরাকে শিশুটিকে বাঁচাতে পারিনি।

এর আগে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য জানা যায়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিলো। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়া সহ নানা সমস্যা ছিলো। শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। আমরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি শিশুটিকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।

এদিকে কক্সবাজারে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়াচ্ছে ছোঁয়াচে হাম রোগের প্রকোপ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) ভর্তি রয়েছে ৩৫ টি শিশু। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও ৩টি শিশু ভর্তি রয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা জিনিসপত্র দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশাকরি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১১৯ টি শিশু। তবে সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।