ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবার এড. মোসলেমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে জিনিয়ার মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে এমপি কাজল-সৈকতকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে হবে মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে শৃংখলা ফেরাতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত : যে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে নিতে হবে অনুমতি পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান : হত্যা ও চুরির আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১ উখিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, গাড়ি ও চালক আটক হোয়াইক্যংয়ে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে পালংখালীতে মাদক কারবারী রুবেলের গুলিবর্ষণ

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

  • কালাম আজাদ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 764

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এবার এড. মোসলেমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে জিনিয়ার মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।