ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোলকিপার সাঈদীর ওপর হামলা: হোয়ানকের চেয়ারম্যান ও তার পুত্রের নামে এজাহার দায়েরের প্রতিবাদে মানববন্ধন সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় ১৫ জন উদ্ধার ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পূর্ব শাখা বিএনপির ১৮১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন ঈদগাঁওয়ে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে হেলপার নিহত নাফ নদীতে আরাকান আর্মির গুলিতে জেলে আহত উখিয়া সীমান্তে ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ কক্সবাজারে গৃহকর্ত্রীকে চেতনাশক খাইয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল চুরি : মালামালসহ গৃহকর্মী গ্রেপ্তার পেকুয়ার যানজট নিরসন, ডাস্টবিন স্থাপন ও খেলার মাঠ উন্মুক্তকরণে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা এবার এড. মোসলেমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে জিনিয়ার মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে এমপি কাজল-সৈকতকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে হবে মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে শৃংখলা ফেরাতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত : যে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে নিতে হবে অনুমতি

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যে বড় একটি বাস্তবতা, তা আবারও সামনে এসেছে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক শক্তির গভীর উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা, যা অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যাঁর সম্পদ ৪৭৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রার্থীর সম্পদ পরিমাণ দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিসরের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তোলে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির, যা দলটির অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ কোনো অংশে কম নয়। সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা এবং এম এ এইচ সেলিমের সম্পদ ২৬২ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ (২৯৯ কোটি), জাকারিয়া তাহের (২৯২ কোটি), মো. জালাল উদ্দিন (২৪৯ কোটি), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি), মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (১৯০ কোটি) এবং মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি টাকা)। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীই দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অর্থ প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আর্থিক প্রভাব কি সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে? আদর্শ, নীতি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কি ধীরে ধীরে অর্থবলের নিচে চাপা পড়ছে?

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই করবেন সম্পদের প্রভাবের ভিত্তিতে, নাকি যোগ্যতা, সততা ও জনআস্থার ওপর ভর করে।

সূত্র: ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গোলকিপার সাঈদীর ওপর হামলা: হোয়ানকের চেয়ারম্যান ও তার পুত্রের নামে এজাহার দায়েরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

আপডেট সময় : ১২:২২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যে বড় একটি বাস্তবতা, তা আবারও সামনে এসেছে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক শক্তির গভীর উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা, যা অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যাঁর সম্পদ ৪৭৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রার্থীর সম্পদ পরিমাণ দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিসরের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তোলে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির, যা দলটির অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ কোনো অংশে কম নয়। সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা এবং এম এ এইচ সেলিমের সম্পদ ২৬২ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ (২৯৯ কোটি), জাকারিয়া তাহের (২৯২ কোটি), মো. জালাল উদ্দিন (২৪৯ কোটি), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি), মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (১৯০ কোটি) এবং মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি টাকা)। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীই দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অর্থ প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আর্থিক প্রভাব কি সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে? আদর্শ, নীতি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কি ধীরে ধীরে অর্থবলের নিচে চাপা পড়ছে?

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই করবেন সম্পদের প্রভাবের ভিত্তিতে, নাকি যোগ্যতা, সততা ও জনআস্থার ওপর ভর করে।

সূত্র: ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা