ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা! ‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

উখিয়ায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ায় একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ-(বিএনপিএস) এর উদ্যোগে উখিয়ার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এবং বাংলাদেশে প্রণীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP 2022–2025) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি, মাদক ও পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ স্থানীয় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শম্পা চৌধুরী বলেন,”নারী ও শিশুদের প্রতি অবহেলার অন্যতম কারণ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে এসে আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

আদিবাসী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার এবং স্থানীয় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য মাটিন টিন বলেন,”উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। নারী ও কিশোরীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী দুঃস্থ ও মহিলা সংস্থার সংগঠক নুসরাত জাহান মেরী বলেন, “নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা এখনও সর্বত্র অবহেলিত। একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে আমি জানি প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম কতটা কঠিন। তাই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।”

এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টেকসই ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর, শফিকুল ইসলাম ফরাজী ও নাসিমা আকতার।তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা!

উখিয়ায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ায় একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ-(বিএনপিএস) এর উদ্যোগে উখিয়ার গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এবং বাংলাদেশে প্রণীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP 2022–2025) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি, মাদক ও পাচার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ স্থানীয় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শম্পা চৌধুরী বলেন,”নারী ও শিশুদের প্রতি অবহেলার অন্যতম কারণ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে এসে আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

আদিবাসী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার এবং স্থানীয় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য মাটিন টিন বলেন,”উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। নারী ও কিশোরীবান্ধব সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী দুঃস্থ ও মহিলা সংস্থার সংগঠক নুসরাত জাহান মেরী বলেন, “নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা এখনও সর্বত্র অবহেলিত। একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে আমি জানি প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম কতটা কঠিন। তাই আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।”

এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টেকসই ও জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলোচকরা।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর, শফিকুল ইসলাম ফরাজী ও নাসিমা আকতার।তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা হবে।