ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরের কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে মালিক নিহত : আটক-২ ক্যামজা-র ১৪তম বার্ষিক মিলনমেলা ও আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন, যা জানা গেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হবে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ দুই নারী প্রধানমন্ত্রীর ৩৬ বছরে নারীর ক্ষমতায়ন কতটা? এক হাসিনায় আটকে থাকবে না ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ফখরুল বিজিবি’র ৫ পৃথক অভিযান,ইয়াবাসহ আটক ৫ বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ নাফ নদীতে আটক ৭৩ বাংলাদেশী জেলের মুক্তি ও হস্তান্তর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন শাহজাহান চৌধুরী—জিরো টলারেন্স ঘোষণা। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ অবশেষে জুলাই সনদে সই করছে এনসিপি ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে
শ্রীলঙ্কার সাহায্য নাকি নিজেদের যোগ্যতা!

টাইগারদের সুপার ফোরে ওঠার লড়াইয়ের ময়নাতদন্ত

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠেছে—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই দাবি করছেন, শ্রীলঙ্কার জয়ে ভর করেই বাংলাদেশ টিকে গেছে। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের কারণ হয়েছে, আর তুলনামূলকভাবে ভালো খেলার ফলেই বাংলাদেশ পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোথায় পিছিয়ে গেছে। হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্মরণীয় সাফল্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে ১৮ ওভারের মধ্যেই হেরে বসেছে।

পুরো গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভর করেছে গুটিকয়েক ইনিংসে। নবীর ৬২, হংকংয়ের বিপক্ষে সাদিক অটলের ৭৩ আর ওমরজাইয়ের ফিফটি ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বেশিরভাগ সময় ব্যাটাররা ২০–৩০ রান তুলতেই হিমশিম খেয়েছেন। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ধার ছিল না। সেরা দশ বোলারের তালিকায় আফগানিস্তানের মাত্র একজন জায়গা পেয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের আছেন তিনজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দলীয় পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও জাকের আলি আর শামীম হোসেনের ৪০+ ইনিংস ছিল। হংকংয়ের বিপক্ষে লিটনের ৫৯, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিমের ৫২ দলের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডু-অর-ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫৫ রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে জয়লাভই বলে দেয়, কে মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এশিয়া কাপ ইতিহাসে বাংলাদেশ একাধিকবার “সবাই হারবে” বলা পরিস্থিতি থেকেও ফাইনালে উঠেছে। এবারও তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সুপার ফোরে গেছে শ্রীলঙ্কার সহায়তায় নয়, বরং নিজেদের কনসিসটেন্ট দলীয় পারফরম্যান্সের কারণেই। আর আফগানিস্তানের অতিরিক্ত শর্ট বল, এক্সট্রা, আর দিশাহীন ব্যাটিংই তাদের বিদায়ের মূল কারণ।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মানে খালি কয়েকটা ফ্লেয়ারফুল শট নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য। সেই জায়গাতেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকেছে, আর যোগ্যতর দল হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে সুপার ফোরে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরের কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে মালিক নিহত : আটক-২

This will close in 6 seconds

শ্রীলঙ্কার সাহায্য নাকি নিজেদের যোগ্যতা!

টাইগারদের সুপার ফোরে ওঠার লড়াইয়ের ময়নাতদন্ত

আপডেট সময় : ০৮:১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠেছে—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই দাবি করছেন, শ্রীলঙ্কার জয়ে ভর করেই বাংলাদেশ টিকে গেছে। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের কারণ হয়েছে, আর তুলনামূলকভাবে ভালো খেলার ফলেই বাংলাদেশ পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোথায় পিছিয়ে গেছে। হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্মরণীয় সাফল্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে ১৮ ওভারের মধ্যেই হেরে বসেছে।

পুরো গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভর করেছে গুটিকয়েক ইনিংসে। নবীর ৬২, হংকংয়ের বিপক্ষে সাদিক অটলের ৭৩ আর ওমরজাইয়ের ফিফটি ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বেশিরভাগ সময় ব্যাটাররা ২০–৩০ রান তুলতেই হিমশিম খেয়েছেন। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ধার ছিল না। সেরা দশ বোলারের তালিকায় আফগানিস্তানের মাত্র একজন জায়গা পেয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের আছেন তিনজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দলীয় পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও জাকের আলি আর শামীম হোসেনের ৪০+ ইনিংস ছিল। হংকংয়ের বিপক্ষে লিটনের ৫৯, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিমের ৫২ দলের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডু-অর-ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫৫ রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে জয়লাভই বলে দেয়, কে মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এশিয়া কাপ ইতিহাসে বাংলাদেশ একাধিকবার “সবাই হারবে” বলা পরিস্থিতি থেকেও ফাইনালে উঠেছে। এবারও তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সুপার ফোরে গেছে শ্রীলঙ্কার সহায়তায় নয়, বরং নিজেদের কনসিসটেন্ট দলীয় পারফরম্যান্সের কারণেই। আর আফগানিস্তানের অতিরিক্ত শর্ট বল, এক্সট্রা, আর দিশাহীন ব্যাটিংই তাদের বিদায়ের মূল কারণ।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মানে খালি কয়েকটা ফ্লেয়ারফুল শট নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য। সেই জায়গাতেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকেছে, আর যোগ্যতর দল হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে সুপার ফোরে।