কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানা হাজতে মৃত্যু হওয়া যুবককে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছেন পরিবার। পুলিশের দাবী করা আত্মহত্যাকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন বলেন মৃত্যু হওয়া দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী।
এই ঘটনায় গতকাল তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পর আজ চকরিয়া থানার ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে একটি চিরকুট লিখে গেছে দুর্জয়। সেখানে তিনি ল্যাপটপে কিছু তথ্য থাকার কথা লিখেছেন। যেটি পুলিশ খুঁজছে।
একই ভাবে দূর্জয়ের বাবার ধারণা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও সাবেক প্রধান শিক্ষকের অবৈধ কার্যকলাপের বিষয়ে জানতো দূর্জয়। তিনি বলেন, “আমার ছেলের ব্যাগ ও ল্যাপটপ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো তার ল্যাপটপে থাকা কোন তথ্যের কারণেই প্রাণ হারিয়েছে দূর্জয়।”
কমল চৌধুরী বলেন, তার ছেলে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি দুর্জয় চৌধুরীকে চকরিয়া থানা হাজতে পরিকল্পিত হত্যার পেছনে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম, সিনিয়র শিক্ষক জসিম উদ্দিন জড়িত।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে নিহত দুর্জয়ের বাবা কমল চৌধুরী আরো বলেন, “কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার ছেলেকে থানায় রাখা হয়েছে।”
এই ‘পরিকল্পিত’ হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, “গতকাল আমাদের ব্রেন ওয়াশ করার জন্য তিনজন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়। যদি তারা জড়িত না থাকতো কেন তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওইদিন রাতের সিসিটিভি ফুটেজও গায়েব করেছে পুলিশ।পুলিশের গাফিলতির কারণেই আমি ছেলে হারিয়েছি। আমি সকলের বিচার চাই।”
দূর্জয়ের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা সুস্পষ্ট অভিযোগ ছিলনা জানিয়ে কমল চৌধুরী বলেন, “সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমাকে ফোন করে বলে আমার ছেলে টাকা জালিয়াতি করেছে। আমি তখন প্রধান শিক্ষিকাকে বলেছি যত টাকা জালিয়াতি হয়েছে সবটাকা আমি পরিশোধ করে দেব। দরকার পড়লে ওর চাকরি চলে যাক তবুও আপনারা আমার ছেলেকে কিছু করবেন না। ও অপমান সহ্য করতে পারেনা।”
“আমাকে যদি এখানে দা-ছুরি দিয়ে জবাইও করে দেওয়া হয় তবুও আমি মানবো না এটা আত্মহত্যা।”
থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় ছেলের শেষ অবস্থানের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “দূর্জয়ের হাত দুটো জানালার গ্রিলের সাথে ঝুলে ছিল, মাথা ছিল উপরের দিকে। মাটি থেকে ২ ইঞ্চি উপরে থেকে কেউ কিভাবে আত্মহত্যা করতে পারে? এটি অবশ্যই একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
কমল চৌধুরীর এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, হাজতের যে স্থানে দুর্জয় আত্মহত্যা করেছে ওই জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা কাভার করেনা। তবে সে যে হাজতে ছিলো সেটার দরজা খোলা ছিলো, কারন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাই করিডোরে পায়চারী করার কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে।
জসীম উদ্দিন বলেন, দুর্জয় একটা কাগজ আর কলম চেয়ে নিছিলেন। পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে সেই কাগজ পাওয়া গেছে, সেখানে সে আবেগের কিছু কথা লিখেছেন। সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং তার একটা ল্যাপটপ আছে, ওখানে কিছু তথ্য আছে বলেও লিখে গেছে। আমরা সেটাও খুঁজছি।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ওইরাতে আমাদের চকরিয়া থানার ওসিসহ বেশকয়েকজন ডাকাত ধরার অভিযানে গিয়েছিলেন। তাই যখন ঘটনা ঘটে তারা বাইরে ছিলেন। তবে অভিযানে দুইজন লোক ধরা হয়। তাদের যখন হাজতে নেয়া হলো, তখন দুর্জয়কে ঝুলন্ত পাওয়া যায়।
“তাও আমাদের কোনো গাফিলতি আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ করছে” বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন।
এছাড়াও এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাইরে থেকেও কেউ ঢুকে হত্যা করার মতো সিসিটিভি ফুটেযে দেখা যায়নি।
শুক্রবার ভোরে দুর্জয় চৌধুরী নামের ২৭ বছরের ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় চকরিয়া থানার হাজত থেকে৷ একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করেন বলে জানায় পুলিশ এবং দাবী করা হয় আত্মহনন করে দুর্জয় চৌধুরী।