ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন চারজন, রাতে শপথ পুলিশের অভিযানে পেকুয়ায় ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, আজ বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক ​টেকনাফের সাবরাংয়ে অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ড্রেজার ও ৩টি ড্রাম ট্রাক জব্দ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং লামায় জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪৫ ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ১০ ভিকটিম উদ্ধার, গ্রেফতার ১ লোহাগাড়ায় মাদক সেবন করতে গিয়ে ধরা, সাবেক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনের কারাদণ্ড দুদকের মামলায় টেকনাফ ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল্লাহ ও তার বাবা আবুল বশরের কারাদন্ড সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণমুখী নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: মির্জা ফখরুল সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয়

‘ঘুরতে’ আসলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা

৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিন কক্সবাজার আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র ৫ শীর্ষ নেতা হোটেল পরিবর্তন করে এখন পর্যটন শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন।

এনসিপিরি এই শীর্ষ নেতারা কক্সবাজারে আসার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছেন। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন জানান, এনসিপির নেতারা আসবেন বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অবগত ছিলেন না। তবে যখন থেকে কক্সবাজার এসেছেন তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখছেন।

জসীম উদ্দিন বলেন, কোনো সিকিউরিটি থ্রেট নেই। তাই বিশেষ কোনো কিছুও না। দেশের একজন নাগরিকের যতোটুকু নিরাপত্তা দরকার তাই দিচ্ছি৷ তবে এই মুহুর্তে তারা যেহেতু রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাই তাদের মুভমেন্ট গুলো নজরদারিতে রেখে যতোটুকু দরকার নিরাপত্তা দিচ্ছি।

এনসিপির নেতারা কখন কক্সবাজার ত্যাগ করবেন এই বিষয়ে পুলিশও অবগত নয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১ টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরের ইনানীর জালিয়াপালং এলাকার হোটেল সী পার্ল রিসোর্ট ত্যাগ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং তাঁর স্ত্রী দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। তাদের সাথে আছেন সারজিসের স্ত্রীও।

হোটেলটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কামরুজ্জামান বলেন, দুপুরে তারা চেক আউট করেন এবং তারা প্রবেশ করার দিন গতকাল ও আজ আমাদের হোটেলে কোনো বিদেশী নাগরিক অবস্থান করেনি।

কক্সবাজার শহরে পৌঁছে কলাতলীর শালিক রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন বলে জানান রেস্টুরেন্টের একজন কর্মকর্তা। এরপর বিকেল ৩ টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত ‘প্রাসাদ প্যারাডাইজ’ হোটেলে উঠেন তারা।

হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইজের ব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বিডিনিউজকে জানান, সাড়ে ৩টার দিকে তারা হোটেলে উঠেন।

ইয়াকুব আলী বলেন, প্রথমে তারা পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে গিয়েছিলেন সম্ভবত সেখানে ভালো লাগেনি, তাই আমাদের এখানে এসেছেন। আগে থেকে বুকিং ছিলোনা। আজকে এসেই চেক ইন করেছেন, তবে কখন তারা চলে যাবেন সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে সৈকতে সময় কাটাচ্ছেন।

তাদের সাথে থাকা স্থানীয় এনসিপির একজন সংগঠক বিডিনিউজকে জানান, গতকাল যখন নেতারা এসেছিলেন কক্সবাজারের স্থানীয় কোনো নেতাকর্মীই বিষয়টি জানেন না। তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সফরে এসেছেন। মিডিয়ায় খবর পাওয়ার পর কয়েকজন নেতাকর্মী রাতে হোটেলে দেখা করেন। ছড়িয়ে পড়া গুজবে নেতাদের বিরক্ত মনে হয়েছে তাদের৷

তবে আজ কক্সবাজারে আসার পর থেকে স্থানীয় কয়েকজন সংগঠক তাদের সাথে আছেন। তবে কখন নাগাদ কক্সবাজার ত্যাগ করবেন এ বিষয়ে তারাও অবগত নন বলে জানান এই সংগঠক।

এদিকে, বুধবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর পক্ষ থেকে দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে না জানিয়ে কক্সবাজার সফরে আসা পাঁচ নেতাকে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে ।

নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে নেতাদের লিখিত বক্তব্যে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।

এই নোটিশের জবাব দিতে হলে আগামীকাল দুপুরের আগে তাদের ঢাকায় ফিরে যেতে হবে।

এনসিপিরি নেতাদের এমন ‘গোপনে’ ও বিশেষ দিনে কক্সবাজার আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার ইনানীর হোটেলের সামনেই বিক্ষোভ করেন সেখানকার স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্বে থাকা উখিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা সেলিম সিরাজী বলেন, বিক্ষোভ করার জন্য কোনো দলীয় নির্দেশনা ছিলোনা। মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়েই আমরা গিয়েছি।

“তাদের দল থেকে আজকে তাদেরকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে, তাই আমাদের বিক্ষোভ করা যে যৌক্তিক সেটা তো এখানেই প্রমাণিত।”

বিক্ষোভে থাকা জেলা যুবদলের সদস্য রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, এমন বিশেষ দিনে এসব গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এখানে কেনো আসবেন? এটা তো সন্দেহের। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়েই এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ করেছি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’

‘ঘুরতে’ আসলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিন কক্সবাজার আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র ৫ শীর্ষ নেতা হোটেল পরিবর্তন করে এখন পর্যটন শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন।

এনসিপিরি এই শীর্ষ নেতারা কক্সবাজারে আসার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছেন। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন জানান, এনসিপির নেতারা আসবেন বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অবগত ছিলেন না। তবে যখন থেকে কক্সবাজার এসেছেন তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখছেন।

জসীম উদ্দিন বলেন, কোনো সিকিউরিটি থ্রেট নেই। তাই বিশেষ কোনো কিছুও না। দেশের একজন নাগরিকের যতোটুকু নিরাপত্তা দরকার তাই দিচ্ছি৷ তবে এই মুহুর্তে তারা যেহেতু রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাই তাদের মুভমেন্ট গুলো নজরদারিতে রেখে যতোটুকু দরকার নিরাপত্তা দিচ্ছি।

এনসিপির নেতারা কখন কক্সবাজার ত্যাগ করবেন এই বিষয়ে পুলিশও অবগত নয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১ টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরের ইনানীর জালিয়াপালং এলাকার হোটেল সী পার্ল রিসোর্ট ত্যাগ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং তাঁর স্ত্রী দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। তাদের সাথে আছেন সারজিসের স্ত্রীও।

হোটেলটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কামরুজ্জামান বলেন, দুপুরে তারা চেক আউট করেন এবং তারা প্রবেশ করার দিন গতকাল ও আজ আমাদের হোটেলে কোনো বিদেশী নাগরিক অবস্থান করেনি।

কক্সবাজার শহরে পৌঁছে কলাতলীর শালিক রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন বলে জানান রেস্টুরেন্টের একজন কর্মকর্তা। এরপর বিকেল ৩ টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত ‘প্রাসাদ প্যারাডাইজ’ হোটেলে উঠেন তারা।

হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইজের ব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বিডিনিউজকে জানান, সাড়ে ৩টার দিকে তারা হোটেলে উঠেন।

ইয়াকুব আলী বলেন, প্রথমে তারা পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে গিয়েছিলেন সম্ভবত সেখানে ভালো লাগেনি, তাই আমাদের এখানে এসেছেন। আগে থেকে বুকিং ছিলোনা। আজকে এসেই চেক ইন করেছেন, তবে কখন তারা চলে যাবেন সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে সৈকতে সময় কাটাচ্ছেন।

তাদের সাথে থাকা স্থানীয় এনসিপির একজন সংগঠক বিডিনিউজকে জানান, গতকাল যখন নেতারা এসেছিলেন কক্সবাজারের স্থানীয় কোনো নেতাকর্মীই বিষয়টি জানেন না। তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সফরে এসেছেন। মিডিয়ায় খবর পাওয়ার পর কয়েকজন নেতাকর্মী রাতে হোটেলে দেখা করেন। ছড়িয়ে পড়া গুজবে নেতাদের বিরক্ত মনে হয়েছে তাদের৷

তবে আজ কক্সবাজারে আসার পর থেকে স্থানীয় কয়েকজন সংগঠক তাদের সাথে আছেন। তবে কখন নাগাদ কক্সবাজার ত্যাগ করবেন এ বিষয়ে তারাও অবগত নন বলে জানান এই সংগঠক।

এদিকে, বুধবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর পক্ষ থেকে দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে না জানিয়ে কক্সবাজার সফরে আসা পাঁচ নেতাকে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে ।

নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে নেতাদের লিখিত বক্তব্যে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।

এই নোটিশের জবাব দিতে হলে আগামীকাল দুপুরের আগে তাদের ঢাকায় ফিরে যেতে হবে।

এনসিপিরি নেতাদের এমন ‘গোপনে’ ও বিশেষ দিনে কক্সবাজার আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার ইনানীর হোটেলের সামনেই বিক্ষোভ করেন সেখানকার স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্বে থাকা উখিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা সেলিম সিরাজী বলেন, বিক্ষোভ করার জন্য কোনো দলীয় নির্দেশনা ছিলোনা। মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়েই আমরা গিয়েছি।

“তাদের দল থেকে আজকে তাদেরকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে, তাই আমাদের বিক্ষোভ করা যে যৌক্তিক সেটা তো এখানেই প্রমাণিত।”

বিক্ষোভে থাকা জেলা যুবদলের সদস্য রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, এমন বিশেষ দিনে এসব গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এখানে কেনো আসবেন? এটা তো সন্দেহের। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়েই এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ করেছি।