ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু

অতিরিক্ত রোগীর চাপে নিজেই রোগী কক্সবাজার সদর হাসপাতাল!

জেলা সদর হাসপাতাল হলো প্রতিটি জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থাকলেও যেকোনো জটিল রোগের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় রোগীদের। কক্সবাজারে সেই জেলা সদর হাসপাতালের চিত্র বেশ করুণ।

অতিরিক্ত রোগীর চাপে নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। সাথে যুক্ত হয়েছে জনবল সংকটও। রোগীদের সেবা দিতে যেমন হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের, তেমন সেবাপ্রাপ্তিদের অভিযোগেরও শেষ নেই।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারীর তথ্য বলছে, কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা ২৮ লাখ ২৩ হাজার ২৬৮ জন। সাথে আছে প্রায় ১২ লাখের অধিক আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপ।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখের অধিক মানুষের জন্য জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ এই চিকিৎসা কেন্দ্রের জনবলের সংখ্যা দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ডা. মং টিং ঞো জানান, সরকারি ভাবে ৬৮ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন ৪৯ জন। যেখানে সংকট আছে আরো ১৯ জন চিকিৎসক।

অংক কষে বের করলে দেখা যাবে, জেলার প্রতি ৮২ হাজার (প্রায়) মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন।

এছাড়া একশো সাতান্ন জন নার্সের স্থলে আছেন একশো তেরোজন। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে ৪২ জনের স্থলে আছেন শুধুমাত্র তেরো জন।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুইশো পঞ্চাশ শয্যার হলেও হাসপাতালে নিয়মিত ভর্তি থাকেন প্রায় আটশো রোগী। তাছাড়া বহির্বিভাগে নিয়মিত সেবা নেন আরো আড়াই হাজার মানুষ।

রোগীদের অভিযোগসহ সবকিছু স্বীকার করেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, জনবল আর অবকাঠামোর নির্দিষ্টতা অনুযায়ী যে পরিমাণ সেবা পাওয়ার কথা, তারচেয়ে তিনগুণ চাপ নিতে হলে তো পরিস্থিতি কেমন হবে তা অনুমেয়।

সম্প্রতি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরসহ অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালককে সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেছেন, কক্সবাজার একটি বিশেষ জেলা, এখানে যেনো কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবা ব্যহত নাহয়।

বিভাগীয় পরিচালকের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সেবা দিয়ে যেতে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে

অতিরিক্ত রোগীর চাপে নিজেই রোগী কক্সবাজার সদর হাসপাতাল!

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

জেলা সদর হাসপাতাল হলো প্রতিটি জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থাকলেও যেকোনো জটিল রোগের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় রোগীদের। কক্সবাজারে সেই জেলা সদর হাসপাতালের চিত্র বেশ করুণ।

অতিরিক্ত রোগীর চাপে নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। সাথে যুক্ত হয়েছে জনবল সংকটও। রোগীদের সেবা দিতে যেমন হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের, তেমন সেবাপ্রাপ্তিদের অভিযোগেরও শেষ নেই।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারীর তথ্য বলছে, কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা ২৮ লাখ ২৩ হাজার ২৬৮ জন। সাথে আছে প্রায় ১২ লাখের অধিক আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপ।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখের অধিক মানুষের জন্য জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ এই চিকিৎসা কেন্দ্রের জনবলের সংখ্যা দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ডা. মং টিং ঞো জানান, সরকারি ভাবে ৬৮ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন ৪৯ জন। যেখানে সংকট আছে আরো ১৯ জন চিকিৎসক।

অংক কষে বের করলে দেখা যাবে, জেলার প্রতি ৮২ হাজার (প্রায়) মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন।

এছাড়া একশো সাতান্ন জন নার্সের স্থলে আছেন একশো তেরোজন। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে ৪২ জনের স্থলে আছেন শুধুমাত্র তেরো জন।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুইশো পঞ্চাশ শয্যার হলেও হাসপাতালে নিয়মিত ভর্তি থাকেন প্রায় আটশো রোগী। তাছাড়া বহির্বিভাগে নিয়মিত সেবা নেন আরো আড়াই হাজার মানুষ।

রোগীদের অভিযোগসহ সবকিছু স্বীকার করেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, জনবল আর অবকাঠামোর নির্দিষ্টতা অনুযায়ী যে পরিমাণ সেবা পাওয়ার কথা, তারচেয়ে তিনগুণ চাপ নিতে হলে তো পরিস্থিতি কেমন হবে তা অনুমেয়।

সম্প্রতি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরসহ অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালককে সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেছেন, কক্সবাজার একটি বিশেষ জেলা, এখানে যেনো কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবা ব্যহত নাহয়।

বিভাগীয় পরিচালকের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সেবা দিয়ে যেতে।