ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইনানী সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক সায়েমের মরদেহ উদ্ধার উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী কক্সবাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে ফিচারড SURGE Bangladesh শহরের কুতুবদিয়া পাড়ার আলোচিত রোজিনাকে আটক করেছে পুলিশ বিয়ের অতিথি ১০০ ছাড়ালে জনপ্রতি ১০০০ টাকা ট্যাক্স বসানোর দাবি এমপির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা আ’র’কা’ন আ’র্মি প্রধানের বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার খবর কতটুকু সত্য? মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রোজিনা গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমীরের উদ্যোগে মুক্ত হলো হাসপাতাল বিলের জন্য আটকে থাকা রিয়াজের মরদেহ মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সবুজ উদ্যোগ -কক্সবাজারে ১ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার  কক্সবাজার সদর থানায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আগুন

“ম্যাম, আমরা আপনার অপসারণ চাই…”

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • 3812

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক হয়রানি, অবৈধ লাইসেন্স প্রদান ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে পৌরবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পৌরসভা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রশাসক আন্দোলনকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তারা কি চায়। এর উত্তরে সংগঠক এসএস সাগর জবাব দিয়েছিলেন, “ম্যাম আমরা আপনার অপসারণ চাই”।

যা সাগর নিজের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস আকারে দিয়েছেন। এরপর তা নিয়ে চলে আলোচনা।

টিটিএন সাগরের কাছে জানতে চায় তার এমন জবাব শোনার পর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ কি বলেছিলেন? সাগর জানান তার এমন উত্তরে প্রশাসক কিছুটা সময় চুপ হয়ে যান, তারপর বলেন, “আমার অপসারণের দাবি থাকলে সেটা ডিসি স্যার সিদ্ধান্ত নিবেন”।

এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয় প্রশাসকের কাছে। এসময় আন্দোলনকারীদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক সেবা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে জানিয়ে পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ আন্দোলনকারীদের বলেন, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভায় চলমান সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা সহায়ক কমিটি’ নামে একটি কমিটি এবিষয়ে কাজ করছে।

টমটমের লাইসেন্সের বিষয় যুক্তিতর্ক হয় আন্দোলনকারী ও প্রশাসকের মধ্যে। এসময় আন্দোলনের সংগঠক সাগর টমটম লাইসেন্স ইস্যুকে বিশৃঙ্খলার একটি বড় কারণ বলে সেখানে তুলে ধরেন।

প্রশ্ন করা হয়, “পৌর শহরে আগে থেকেই প্রায় তিন হাজার টমটম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরপরও যানজট বেড়েই চলেছে। তাহলে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?”

এর উত্তরে পৌর প্রশাসক জানান, “বিভিন্ন কমিটি ও বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে শহরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনায় নতুন লাইসেন্স প্রদান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে”।

এ প্রসঙ্গে সাগর জানান, “যদি পৌর শহর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত হয়, তাহলে নিয়ম মেনে লাইসেন্স দেওয়া হোক। আর যদি না হয়, তাহলে শুধু স্থগিত নয়, এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।”

প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ জানান, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার পৌর প্রশাসককে অপসারণের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপিও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসক এসময় আশ্বস্ত করেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আন্দোলনের সংগঠক সাগর জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ১১ দিনের মাথায় ১৯ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয় কাউন্সিলরদের।

এরপর সবখানেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

রুবাইয়া আফরোজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের বেশিরভাগই প্রকাশ্যে নেই। তাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইনানী সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক সায়েমের মরদেহ উদ্ধার

“ম্যাম, আমরা আপনার অপসারণ চাই…”

আপডেট সময় : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক হয়রানি, অবৈধ লাইসেন্স প্রদান ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে পৌরবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পৌরসভা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রশাসক আন্দোলনকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তারা কি চায়। এর উত্তরে সংগঠক এসএস সাগর জবাব দিয়েছিলেন, “ম্যাম আমরা আপনার অপসারণ চাই”।

যা সাগর নিজের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস আকারে দিয়েছেন। এরপর তা নিয়ে চলে আলোচনা।

টিটিএন সাগরের কাছে জানতে চায় তার এমন জবাব শোনার পর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ কি বলেছিলেন? সাগর জানান তার এমন উত্তরে প্রশাসক কিছুটা সময় চুপ হয়ে যান, তারপর বলেন, “আমার অপসারণের দাবি থাকলে সেটা ডিসি স্যার সিদ্ধান্ত নিবেন”।

এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয় প্রশাসকের কাছে। এসময় আন্দোলনকারীদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক সেবা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে জানিয়ে পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ আন্দোলনকারীদের বলেন, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভায় চলমান সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা সহায়ক কমিটি’ নামে একটি কমিটি এবিষয়ে কাজ করছে।

টমটমের লাইসেন্সের বিষয় যুক্তিতর্ক হয় আন্দোলনকারী ও প্রশাসকের মধ্যে। এসময় আন্দোলনের সংগঠক সাগর টমটম লাইসেন্স ইস্যুকে বিশৃঙ্খলার একটি বড় কারণ বলে সেখানে তুলে ধরেন।

প্রশ্ন করা হয়, “পৌর শহরে আগে থেকেই প্রায় তিন হাজার টমটম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরপরও যানজট বেড়েই চলেছে। তাহলে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?”

এর উত্তরে পৌর প্রশাসক জানান, “বিভিন্ন কমিটি ও বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে শহরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনায় নতুন লাইসেন্স প্রদান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে”।

এ প্রসঙ্গে সাগর জানান, “যদি পৌর শহর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত হয়, তাহলে নিয়ম মেনে লাইসেন্স দেওয়া হোক। আর যদি না হয়, তাহলে শুধু স্থগিত নয়, এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।”

প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ জানান, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার পৌর প্রশাসককে অপসারণের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপিও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসক এসময় আশ্বস্ত করেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আন্দোলনের সংগঠক সাগর জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ১১ দিনের মাথায় ১৯ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয় কাউন্সিলরদের।

এরপর সবখানেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

রুবাইয়া আফরোজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের বেশিরভাগই প্রকাশ্যে নেই। তাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েছেন।