ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে বকেয়া বিলের জন্য আটকে থাকা টেকনাফের তরুণ শিক্ষার্থী রিয়াজ আরাফাতের মরদেহ অবশেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর বিশেষ ও আন্তরিক উদ্যোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পর এই জটিলতার অবসান ঘটে।
আজ শনিবার (২৭ জুন)সকাল ৭টায় ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজ আরাফাত। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়াজের মৃত্যুর পর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পারছিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
একদিকে সন্তান হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ, অন্যদিকে টাকার অভাবে লাশ আটকে থাকার এই চরম অসহায়ত্বের বিষয়টি কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর নজরে আসে।
বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী দ্রুত এবং আন্তরিকভাবে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর বিশেষ তৎপরতা ও জিম্মায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার মোট বিল থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মওকুফ (ডিসকাউন্ট) করতে সম্মত হয়। একই সাথে তাঁর ব্যক্তিগত জিম্মায় বাকি থাকা প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই রিয়াজের মরদেহটি দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর এই সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপের কারণে একটি বড় সংকট থেকে রেহাই পায় শোকাহত পরিবারটি।
এদিকে জামায়াত আমীরের এমন মানবিক ও অনন্য সহযোগিতার পর রিয়াজের সহপাঠী এবং টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “এই কঠিন বিপদের মুহূর্তে রিয়াজের মরদেহ দ্রুত বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী হুজুর যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর এই মানবিক ও মহান উদ্যোগের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তি 























