ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ কক্সবাজারে একদিনে চার মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ গুপ্ত লিখে ফেইসবুক পোস্ট,উখিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
পানিতে ডুবে মৃত্যুর উদ্বেগজনক চিত্র

কক্সবাজারে ৭ মাসে প্রাণ গেল ৬০ জনের

চলতি বছর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে গোসলে নেমে ১২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত। আর জেলার বিভিন্ন স্থানে আরো ৫০ জনের অধিক মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে।

এর মধ্যে কুতুবদিয়া, উখিয়া ও রামুত উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এই তথ্য জানিয়েছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করে থাকে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিশ্বে পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সচেতনামূলক র‍্যালী বের করে সিআইপিআরবি’র সি সেইফ প্রজেক্ট। র‍্যালী শেষে সি সেইফ প্রজেক্টের মাঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবদি ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে তারা ৭৯৫ জনকে পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে সি সেইফ লাইফগার্ড। এরমধ্যেই সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে যায়। তারমধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও অরিত্র হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।

“বিশ্বে প্রতিবছর ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ প্রতি বছর পানিতে ডুবে মারা যায়। তারমধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। গড় হিসাব করলে প্রতিদিন ৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জনই শিশু। এই নিরব মহামারীকে প্রতিরোধ করার জন্য জাতিসংঘ ২০২১ সালে ২৫ জুলাই বিশ্ব দিবস উপলক্ষে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা চাই মানুষ এই দিবসকে উপলক্ষ করে সকলেই সচেতন ও সতর্ক হোক। নিজেরা নিরাপদ থাকুক।”

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসলে লাইফগার্ডের পরামর্শ মেনে চলুন। বিভিন্ন এলাকায় সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু হোক। পানিতে ডুবে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধে সকলেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। এই নিরব মহামারী প্রতিরোধে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

তবে কক্সবাজার পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়নি।

এবিষয়ে সমাজকর্মী কলিম উল্লাহ বলেন, সরকারের উচিত বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা চালু করা। এছাড়া কোথায় গোসলে নামবে এবং কোথায় গোসলে নামা যাবেনা সেটি নির্ধারণ করে দেওয়া।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

পানিতে ডুবে মৃত্যুর উদ্বেগজনক চিত্র

কক্সবাজারে ৭ মাসে প্রাণ গেল ৬০ জনের

আপডেট সময় : ০৬:১২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

চলতি বছর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে গোসলে নেমে ১২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত। আর জেলার বিভিন্ন স্থানে আরো ৫০ জনের অধিক মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে।

এর মধ্যে কুতুবদিয়া, উখিয়া ও রামুত উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এই তথ্য জানিয়েছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করে থাকে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিশ্বে পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সচেতনামূলক র‍্যালী বের করে সিআইপিআরবি’র সি সেইফ প্রজেক্ট। র‍্যালী শেষে সি সেইফ প্রজেক্টের মাঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবদি ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে তারা ৭৯৫ জনকে পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে সি সেইফ লাইফগার্ড। এরমধ্যেই সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে যায়। তারমধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও অরিত্র হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।

“বিশ্বে প্রতিবছর ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ প্রতি বছর পানিতে ডুবে মারা যায়। তারমধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। গড় হিসাব করলে প্রতিদিন ৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জনই শিশু। এই নিরব মহামারীকে প্রতিরোধ করার জন্য জাতিসংঘ ২০২১ সালে ২৫ জুলাই বিশ্ব দিবস উপলক্ষে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা চাই মানুষ এই দিবসকে উপলক্ষ করে সকলেই সচেতন ও সতর্ক হোক। নিজেরা নিরাপদ থাকুক।”

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসলে লাইফগার্ডের পরামর্শ মেনে চলুন। বিভিন্ন এলাকায় সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু হোক। পানিতে ডুবে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধে সকলেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। এই নিরব মহামারী প্রতিরোধে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

তবে কক্সবাজার পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়নি।

এবিষয়ে সমাজকর্মী কলিম উল্লাহ বলেন, সরকারের উচিত বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা চালু করা। এছাড়া কোথায় গোসলে নামবে এবং কোথায় গোসলে নামা যাবেনা সেটি নির্ধারণ করে দেওয়া।