ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন ৪১ জন পেলেন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক “সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগজনক সময় পার করছে দেশবাসী” রামুতে পৃথক অভিযানে ৩২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩ রোহিঙ্গা সংকট জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুতুবদিয়ায় পানিতে পড়ে নিখোঁজ শিশুকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত কারাগারে উখিয়ায় সতীনের সঙ্গে বিরোধের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেন আইনজীবী ইয়াছির আরাফাত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে সাগরের মাছ পাচার তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ? ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই চার্জশিট: আইনমন্ত্রী স্পোর্টস ও ইভি গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী

৮ বছর পর আলোয় আলোকময় রাতের সৈকত

  • আফজারা রিয়া:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 388

দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল অপরাধ আর ভয়।অবশেষে সে অন্ধকার মুছে গেছে নতুন আলোয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারো সৈকতের পিলার গুলোতে বসলো লাইট৷ জ্বললো বাতি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  হেলোজেন লাইট। ফলে রাতের সৈকত এখন শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিতই নয়,আরও নিরাপদ।

কক্সবাজারে হানিমুন করতে আসা ঢাকা বনানীর ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নয়না ফাতিমা জানান,লাইট লাগানোর ফলে রাতের সৈকত কে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আর নিরাপদবোধ করছি।

কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফার জাহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, আগে সন্ধ্যা নামলেই সৈকত অন্ধকারে ডুবে যেত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

৮ নভেম্বর থেকে সৈকতে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এ কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা। বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব বলেন,বর্তমানে অর্ধশতাধিক লাইট লাগানো হয়েছে। আগের অনেক পিলার অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে লাগাতে হয়েছে হোল্ডার, তারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

নতুন লাইটগুলোর কোনোটি ৪০০ ওয়াট, কোনোটি আবার ৭০০ ওয়াটের। তাই ঝাউবন আর সাগরপাড় থেকে শুরু করে পুরো বিচ এখন উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সৈকতে প্রথম ধাপের লাইট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে,প্রথমধাপে ডায়বেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও বসানো হবে।

জানা যায়,২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিটলাইট বসানো হলেও এর মধ্যে ৭৮টি বাতি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর সৈকত পরিণত হয় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ভুতুড়ে অন্ধকার নিয়ে গণমাধ্যমসহ টিটিএনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় নতুন করে আলো স্থাপনের উদ্যোগ।

পর্যটকেরা বলছেন, নবসজ্জিত আলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি।ফিরিয়ে এনেছে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর নির্ভরতার পরিবেশ। অন্ধকারের ভয় কাটিয়ে কক্সবাজারের রাতের সৈকত এখন আবারও প্রাণবন্ত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন

৮ বছর পর আলোয় আলোকময় রাতের সৈকত

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল অপরাধ আর ভয়।অবশেষে সে অন্ধকার মুছে গেছে নতুন আলোয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারো সৈকতের পিলার গুলোতে বসলো লাইট৷ জ্বললো বাতি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  হেলোজেন লাইট। ফলে রাতের সৈকত এখন শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিতই নয়,আরও নিরাপদ।

কক্সবাজারে হানিমুন করতে আসা ঢাকা বনানীর ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নয়না ফাতিমা জানান,লাইট লাগানোর ফলে রাতের সৈকত কে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আর নিরাপদবোধ করছি।

কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফার জাহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, আগে সন্ধ্যা নামলেই সৈকত অন্ধকারে ডুবে যেত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

৮ নভেম্বর থেকে সৈকতে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এ কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা। বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব বলেন,বর্তমানে অর্ধশতাধিক লাইট লাগানো হয়েছে। আগের অনেক পিলার অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে লাগাতে হয়েছে হোল্ডার, তারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

নতুন লাইটগুলোর কোনোটি ৪০০ ওয়াট, কোনোটি আবার ৭০০ ওয়াটের। তাই ঝাউবন আর সাগরপাড় থেকে শুরু করে পুরো বিচ এখন উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সৈকতে প্রথম ধাপের লাইট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে,প্রথমধাপে ডায়বেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও বসানো হবে।

জানা যায়,২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিটলাইট বসানো হলেও এর মধ্যে ৭৮টি বাতি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর সৈকত পরিণত হয় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ভুতুড়ে অন্ধকার নিয়ে গণমাধ্যমসহ টিটিএনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় নতুন করে আলো স্থাপনের উদ্যোগ।

পর্যটকেরা বলছেন, নবসজ্জিত আলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি।ফিরিয়ে এনেছে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর নির্ভরতার পরিবেশ। অন্ধকারের ভয় কাটিয়ে কক্সবাজারের রাতের সৈকত এখন আবারও প্রাণবন্ত।