ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক

৮ বছর পর আলোয় আলোকময় রাতের সৈকত

  • আফজারা রিয়া:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 363

দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল অপরাধ আর ভয়।অবশেষে সে অন্ধকার মুছে গেছে নতুন আলোয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারো সৈকতের পিলার গুলোতে বসলো লাইট৷ জ্বললো বাতি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  হেলোজেন লাইট। ফলে রাতের সৈকত এখন শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিতই নয়,আরও নিরাপদ।

কক্সবাজারে হানিমুন করতে আসা ঢাকা বনানীর ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নয়না ফাতিমা জানান,লাইট লাগানোর ফলে রাতের সৈকত কে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আর নিরাপদবোধ করছি।

কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফার জাহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, আগে সন্ধ্যা নামলেই সৈকত অন্ধকারে ডুবে যেত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

৮ নভেম্বর থেকে সৈকতে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এ কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা। বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব বলেন,বর্তমানে অর্ধশতাধিক লাইট লাগানো হয়েছে। আগের অনেক পিলার অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে লাগাতে হয়েছে হোল্ডার, তারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

নতুন লাইটগুলোর কোনোটি ৪০০ ওয়াট, কোনোটি আবার ৭০০ ওয়াটের। তাই ঝাউবন আর সাগরপাড় থেকে শুরু করে পুরো বিচ এখন উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সৈকতে প্রথম ধাপের লাইট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে,প্রথমধাপে ডায়বেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও বসানো হবে।

জানা যায়,২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিটলাইট বসানো হলেও এর মধ্যে ৭৮টি বাতি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর সৈকত পরিণত হয় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ভুতুড়ে অন্ধকার নিয়ে গণমাধ্যমসহ টিটিএনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় নতুন করে আলো স্থাপনের উদ্যোগ।

পর্যটকেরা বলছেন, নবসজ্জিত আলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি।ফিরিয়ে এনেছে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর নির্ভরতার পরিবেশ। অন্ধকারের ভয় কাটিয়ে কক্সবাজারের রাতের সৈকত এখন আবারও প্রাণবন্ত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার

৮ বছর পর আলোয় আলোকময় রাতের সৈকত

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল অপরাধ আর ভয়।অবশেষে সে অন্ধকার মুছে গেছে নতুন আলোয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারো সৈকতের পিলার গুলোতে বসলো লাইট৷ জ্বললো বাতি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে  হেলোজেন লাইট। ফলে রাতের সৈকত এখন শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিতই নয়,আরও নিরাপদ।

কক্সবাজারে হানিমুন করতে আসা ঢাকা বনানীর ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নয়না ফাতিমা জানান,লাইট লাগানোর ফলে রাতের সৈকত কে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আর নিরাপদবোধ করছি।

কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফার জাহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, আগে সন্ধ্যা নামলেই সৈকত অন্ধকারে ডুবে যেত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

৮ নভেম্বর থেকে সৈকতে লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এ কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা। বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব বলেন,বর্তমানে অর্ধশতাধিক লাইট লাগানো হয়েছে। আগের অনেক পিলার অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে লাগাতে হয়েছে হোল্ডার, তারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

নতুন লাইটগুলোর কোনোটি ৪০০ ওয়াট, কোনোটি আবার ৭০০ ওয়াটের। তাই ঝাউবন আর সাগরপাড় থেকে শুরু করে পুরো বিচ এখন উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সৈকতে প্রথম ধাপের লাইট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে,প্রথমধাপে ডায়বেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত লাইট বসানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও বসানো হবে।

জানা যায়,২০১৭ সালে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অর্থায়নে ডায়াবেটিস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১১৯টি স্ট্রিটলাইট বসানো হলেও এর মধ্যে ৭৮টি বাতি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর সৈকত পরিণত হয় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ভুতুড়ে অন্ধকার নিয়ে গণমাধ্যমসহ টিটিএনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় নতুন করে আলো স্থাপনের উদ্যোগ।

পর্যটকেরা বলছেন, নবসজ্জিত আলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি।ফিরিয়ে এনেছে নিরাপত্তা, স্বস্তি আর নির্ভরতার পরিবেশ। অন্ধকারের ভয় কাটিয়ে কক্সবাজারের রাতের সৈকত এখন আবারও প্রাণবন্ত।