মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ ৩১ নাবিক নিয়ে আটকে পড়ে পারস্য উপসাগরে শারজাহ বন্দরের অদূরে। তবে বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে যুদ্ধবিরতির পর আটকে থাকা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য নোঙর তোলে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। জয়যাত্রা এখনও হরমুজের কাছাকাছি স্থানে অবস্থান করছে। আপাতত এটি শারজার বন্দরে ফিরে যাবে। তবে অনুমতি পেলে ফের রওনা হবে হরমুজের দিকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজে যে সার রয়েছে তার গুণগত মান দুই মাস পরও অটুট থাকবে। এর মধ্যে একটা সুরাহা আশা করি হয়ে যাবে।’
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে আমরা দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে ছিলাম। যুদ্ধবিরতির পর নোঙর তোলা হয়। হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে। তবে ইরান হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় পুনরায় ফিরে যেতে হচ্ছে।’
বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে ভেড়ে সেটি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়।
পরে পণ্য গত ১১ মার্চ জেবেল আলি বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর এটির কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। যুদ্ধবিরতি আলোচনার পর এটি সম্ভব হবে বলে মনে করেছিল তারা। কিন্তু হরমুজ প্রণালির মুখ পর্যন্ত গিয়েও ফেরত আসতে হচ্ছে তাদের।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘এটি ছাড়াও বিএসসির মালিকানায় থাকা আরও ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে রয়েছে। সেগুলো নিরাপদে আছে।’
এর আগে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
টিটিএন ডেস্ক: 






















