সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের গর্জন আর নোনা বাতাসের আবহে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং পারিবারিক জীবনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকার উদ্যোগে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা ছিল দেশব্যাপী প্রদর্শনীর প্রথম ধাপের সমাপনী পর্ব।
সৈকতের বালুচরে সারি সারি সাজানো ফ্রেমে বন্দি হয়েছে এক সাহসী নারীর লড়াই, কারাবন্দিত্ব এবং অটল নেতৃত্বের প্রতিটি ছবি। সূর্যাস্তের লাল আভায় এই প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আগতদের উপস্থিতিতে সাগরপাড় যেন রূপ নেয় স্মৃতি আর শ্রদ্ধার এক নীরব প্রাঙ্গণে। আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানান, বেগম জিয়ার জীবন মানেই গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। মূলত নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস।

ইতিমধ্যে আটটি বিভাগীয় শহর এবং বেগম জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত জেলাসহ মোট ১২টি স্থানে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে রাজধানীর জিয়া উদ্যান ও বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কেও সফলভাবে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। শনিবার রাতে সাগরপাড়ে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার-০৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, কক্সবাজার বেগম জিয়ার অনেক স্মৃতিবিজড়িত একটি জায়গা। তাঁর কর্মময় জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই আয়োজন প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখবে।
সাগরের ঢেউ যেমন বারবার প্রতিকূলতা পেরিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে, বেগম জিয়ার জীবনকেও বারবার বাধা জয় করে ফিরে আসার এক অবিস্মরণীয় গল্প হিসেবে দেখছেন দর্শনার্থীরা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দেশের বাকি জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 



















