ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের সশস্ত্র সংঘাতের গুলিতে বিদ্ধ বাংলাদেশি জেলে উখিয়ায় দুই ভাইয়ের পাহাড় নিধন: একই জায়গায় আবারো শ্রমিকের মৃত্যু স্থান ও কৌশল বদল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের,ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের হাতে : আটক চক্রের ৮ সদস্য কুতুবদিয়ায় বোটডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার-নিখোঁজ ১ পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত নির্বাচন ও গণভোটে সিলের কোড নম্বর গোপন রাখার নির্দেশ ইসির ভোটের সময় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩ সেট প্রশ্ন ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা: প্রাথমিকের প্রশ্ন ফাঁস চক্র কক্সবাজারে সক্রিয় সেন্টমার্টিনে ধরা পড়লো ৪৩ মণ লাল কোরাল : বিক্রি ১০ লাখ টাকায় কমলো শীতের দাপট: বাড়বে কবে? এসএসসি ৯৯ ব্যাচের পারিবারিক মিলন মেলা ১৬ জানুয়ারি এমপি প্রার্থী ‘ভাইরাল আবছার’কে ‘হত্যার হুমকি’ দাবি সত্য নয় ভারতে বন্দী জেলে পরিবারকে কোস্ট ফাউন্ডেশনের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান ‎‘জুলাই বার্তাবীর’ সম্মাননা পেলেন পেকুয়ার কৃতিসন্তান ঢাবি শিক্ষার্থী মাহির কাইয়ুম বাইশারীতে অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়লো ৪৩ মণ লাল কোরাল : বিক্রি ১০ লাখ টাকায়

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • 935

কক্সবাজারের টেকনাফে এক জেলের জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে।

বাংলাদেশে এই মাছ লাল কোরাল ও ভেটকি দুই নামেই পরিচিত। তবে চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন এই মাছকে লাল পানসা, রাঙা ছইক্কা বা রাঙাচই নামে চেনে।

ট্রলারে ধরা পড়া একেকটি মাছের ওজন দুই থেকে চার কেজির বেশি।

বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের মৌলভীর শীল এলাকায় মোহাম্মদ জাকারিয়ার (৪০) মালিকানাধীন ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে মাছগুলো।

বিকাল ৫টার সময় ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটে ফিরে জেলেরা।

ট্রলার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, একদিন আগে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারি ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ট্রলারটি ছেড়ে যায়। ট্রলারের মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে নয়জন মাঝিমাল্লা ছিলেন ট্রলারটিতে। সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিনে দ্বীপের উত্তর পাশে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জেলেরা জাল বসান। সকালে তাতেই লাল কোরালগুলো ধরা পড়ে।

৬৮৭টি মাছ থেকে ১০টি রেখে দিয়ে বাকি ৬৭৭টি বিক্রি করা হয়েছে ১০ লাখ টাকায় । প্রথমে মণ ২৪ হাজার টাকা দরে মাছ গুলোর দাম হাঁকা হয়েছিল ১২ লাখ টাকা। পরে দর–কষাকষি করে ২৩ হাজার টাকা মণে ১০ লাখ টাকায় রহিম উল্লাহ নামের মৎস্য ব্যবসায়ী কে বিক্রি করা হয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার মাছগুলো কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

সুস্বাদু কোরাল তথা ভেটকি মাছের কদর দেশব্যাপী। বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি।

শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এক জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ। সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এই লাল কোরাল মাছ বেশি ধরা পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরের মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল থেকেই ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা
বলেন,মাছটি সাধারণত ১ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। এই মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। তা ছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এদের দেখা মিলে।

প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় সাগরে এখন বড় বড় কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সশস্ত্র সংঘাতের গুলিতে বিদ্ধ বাংলাদেশি জেলে

This will close in 6 seconds

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়লো ৪৩ মণ লাল কোরাল : বিক্রি ১০ লাখ টাকায়

আপডেট সময় : ১২:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে এক জেলের জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে।

বাংলাদেশে এই মাছ লাল কোরাল ও ভেটকি দুই নামেই পরিচিত। তবে চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন এই মাছকে লাল পানসা, রাঙা ছইক্কা বা রাঙাচই নামে চেনে।

ট্রলারে ধরা পড়া একেকটি মাছের ওজন দুই থেকে চার কেজির বেশি।

বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের মৌলভীর শীল এলাকায় মোহাম্মদ জাকারিয়ার (৪০) মালিকানাধীন ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে মাছগুলো।

বিকাল ৫টার সময় ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটে ফিরে জেলেরা।

ট্রলার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, একদিন আগে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারি ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ট্রলারটি ছেড়ে যায়। ট্রলারের মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে নয়জন মাঝিমাল্লা ছিলেন ট্রলারটিতে। সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিনে দ্বীপের উত্তর পাশে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জেলেরা জাল বসান। সকালে তাতেই লাল কোরালগুলো ধরা পড়ে।

৬৮৭টি মাছ থেকে ১০টি রেখে দিয়ে বাকি ৬৭৭টি বিক্রি করা হয়েছে ১০ লাখ টাকায় । প্রথমে মণ ২৪ হাজার টাকা দরে মাছ গুলোর দাম হাঁকা হয়েছিল ১২ লাখ টাকা। পরে দর–কষাকষি করে ২৩ হাজার টাকা মণে ১০ লাখ টাকায় রহিম উল্লাহ নামের মৎস্য ব্যবসায়ী কে বিক্রি করা হয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার মাছগুলো কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

সুস্বাদু কোরাল তথা ভেটকি মাছের কদর দেশব্যাপী। বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি।

শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এক জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ। সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এই লাল কোরাল মাছ বেশি ধরা পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরের মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল থেকেই ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা
বলেন,মাছটি সাধারণত ১ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। এই মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। তা ছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এদের দেখা মিলে।

প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় সাগরে এখন বড় বড় কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।