ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান কক্সবাজার থেকে অস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছিল ঢাকায় : লোহাগাড়ায় পুলিশের হাতে দুটি অস্ত্রসহ আটক ৩ মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কক্সবাজারে পাঁচ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ পাহাড় কর্তনকারী ও বন্যায় স্লুইসগেট বন্ধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশ কততম, শীর্ষে কারা? সড়ক দুর্ঘটনায় সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ক্যথিং এবং সাবেক এমপি এথিন রাখাইন আহত পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, পুনর্বাসনের আশ্বাস জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটিকে স্বাগত, আশাবাদী রোহিঙ্গারা বৃহত্তর গর্জনিয়ায় বানভাসীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ত্রাণ বিতরণ করলেন ডিসি ও ইউএনও

‘সালাউদ্দিন আহমেদ’ কে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন প্রেস সচিব

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তার সংগ্রামগুলোই শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।

রোববার সকাল ১০টার দিকে দেওয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্টটি শেয়ার করেন।

পোস্টে প্রেস সচিব লিখেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিরাপত্তা বাহিনী অপহরণ, নির্যাতন এবং সীমান্ত পার করে দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তিনি গোপন স্থান থেকে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছিল। খালেদা জিয়াকে গুলশানের অফিসে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।’

তিনি লিখেছেন, ‘দলের শীর্ষ নেতারা অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান, কেউবা ধরা পড়েন পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের হাতে। আমি এবং আমার দক্ষিণ এশিয়া প্রধান ক্রিস অটন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের সঙ্গে গোপনে খালেদা জিয়ার অফিসে প্রবেশ করে তার সাক্ষাৎকার নেই। সেখানে দায়িত্বে থাকা সাদাপোশাকধারী নিরাপত্তা কর্মীরা ভেবেছিল আমরা ব্রিটিশ হাইকমিশনের লোক।’

শফিকুল আলম জানান, ‘সেই সময় প্রতিদিন সালাহউদ্দিন আহমেদের বিবৃতি পেতাম। ক্রিস এবং আমি তার বিবৃতি আমাদের রিপোর্টে নিয়মিত ব্যবহার করতাম। কারণ, সেগুলো ছিল সুগঠিত, তীব্র এবং সোজাসাপটা। আমি সবসময় মনে করতাম, রুহুল কবির রিজভী দেশের অন্যতম আবেগপ্রবণ রাজনৈতিক কর্মী। কিন্তু তার লেখা বিবৃতি জটিল বাক্যে ভর্তি থাকত। একটা ভালো, চিত্তাকর্ষক উদ্ধৃতি খুঁজে পেতে কষ্ট হতো।’

‘কিন্তু রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমেদ যখন মুখপাত্রের দায়িত্ব নিলেন, তখন তার পাঠানো বিবৃতিগুলো ছিল বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী এবং জ্বালাময়ী। এগুলো যেন বিস্ফোরণ ঘটাতো, সরাসরি শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতো। ভাষা ছিল কঠিন, সরাসরি এবং বারবার লক্ষ্যে আঘাত হানত। আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে শুনেছিলাম, শেখ হাসিনা এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন যে, তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের নির্দেশ দেন।’

‘অবশেষে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ অপহৃত হন এবং গুম করা হয়। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ একজন সাহসী নারী হিসেবে সেই সময় তার স্বামীর মুক্তির দাবিতে যেভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা ছিল অভাবনীয়। তার সেই অবিরাম লড়াই এবং দৃঢ়তা — যেমনটি দেখা গেছে ‘মায়ের ডাক’-এর হাজেরা খাতুন ও তার মেয়েদের কাছ থেকেও — শেখ হাসিনার শাসনামলে এক নিদারুণ প্রতিরোধের ইতিহাস হয়ে আছে।’

প্রেস সচিব লিখেন, ‘সম্ভবত হাসিনা আহমেদের এই প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সোচ্চার অবস্থান এবং মিডিয়ার নজরই কিছুটা হলেও সালাহউদ্দিনকে সীমান্ত পেরিয়ে শিলং পাঠানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের অনেক তরুণ ও সহিষ্ণুতা হারানো বিএনপি কর্মী সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা ভুলে গেছে। গতকাল আমরা দেখেছি কীভাবে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত — এই সংগ্রামগুলোই শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগই আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের সেই সোনালী এবং গৌরবময় অধ্যায়গুলো ভুলে গেছেন। আজকের ভালো সময়গুলো আমাদের সমস্ত খারাপ স্মৃতি মুছে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান

‘সালাউদ্দিন আহমেদ’ কে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ১২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তার সংগ্রামগুলোই শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।

রোববার সকাল ১০টার দিকে দেওয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্টটি শেয়ার করেন।

পোস্টে প্রেস সচিব লিখেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিরাপত্তা বাহিনী অপহরণ, নির্যাতন এবং সীমান্ত পার করে দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তিনি গোপন স্থান থেকে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছিল। খালেদা জিয়াকে গুলশানের অফিসে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।’

তিনি লিখেছেন, ‘দলের শীর্ষ নেতারা অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান, কেউবা ধরা পড়েন পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের হাতে। আমি এবং আমার দক্ষিণ এশিয়া প্রধান ক্রিস অটন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের সঙ্গে গোপনে খালেদা জিয়ার অফিসে প্রবেশ করে তার সাক্ষাৎকার নেই। সেখানে দায়িত্বে থাকা সাদাপোশাকধারী নিরাপত্তা কর্মীরা ভেবেছিল আমরা ব্রিটিশ হাইকমিশনের লোক।’

শফিকুল আলম জানান, ‘সেই সময় প্রতিদিন সালাহউদ্দিন আহমেদের বিবৃতি পেতাম। ক্রিস এবং আমি তার বিবৃতি আমাদের রিপোর্টে নিয়মিত ব্যবহার করতাম। কারণ, সেগুলো ছিল সুগঠিত, তীব্র এবং সোজাসাপটা। আমি সবসময় মনে করতাম, রুহুল কবির রিজভী দেশের অন্যতম আবেগপ্রবণ রাজনৈতিক কর্মী। কিন্তু তার লেখা বিবৃতি জটিল বাক্যে ভর্তি থাকত। একটা ভালো, চিত্তাকর্ষক উদ্ধৃতি খুঁজে পেতে কষ্ট হতো।’

‘কিন্তু রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমেদ যখন মুখপাত্রের দায়িত্ব নিলেন, তখন তার পাঠানো বিবৃতিগুলো ছিল বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী এবং জ্বালাময়ী। এগুলো যেন বিস্ফোরণ ঘটাতো, সরাসরি শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতো। ভাষা ছিল কঠিন, সরাসরি এবং বারবার লক্ষ্যে আঘাত হানত। আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে শুনেছিলাম, শেখ হাসিনা এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন যে, তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের নির্দেশ দেন।’

‘অবশেষে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ অপহৃত হন এবং গুম করা হয়। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ একজন সাহসী নারী হিসেবে সেই সময় তার স্বামীর মুক্তির দাবিতে যেভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা ছিল অভাবনীয়। তার সেই অবিরাম লড়াই এবং দৃঢ়তা — যেমনটি দেখা গেছে ‘মায়ের ডাক’-এর হাজেরা খাতুন ও তার মেয়েদের কাছ থেকেও — শেখ হাসিনার শাসনামলে এক নিদারুণ প্রতিরোধের ইতিহাস হয়ে আছে।’

প্রেস সচিব লিখেন, ‘সম্ভবত হাসিনা আহমেদের এই প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সোচ্চার অবস্থান এবং মিডিয়ার নজরই কিছুটা হলেও সালাহউদ্দিনকে সীমান্ত পেরিয়ে শিলং পাঠানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের অনেক তরুণ ও সহিষ্ণুতা হারানো বিএনপি কর্মী সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা ভুলে গেছে। গতকাল আমরা দেখেছি কীভাবে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত — এই সংগ্রামগুলোই শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগই আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের সেই সোনালী এবং গৌরবময় অধ্যায়গুলো ভুলে গেছেন। আজকের ভালো সময়গুলো আমাদের সমস্ত খারাপ স্মৃতি মুছে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।’