ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক

সার্বক্ষণিক ইবাদত আল্লাহর জিকির

জিকির হলো সর্বোত্তম ইবাদত। জিকির শব্দের অর্থ হচ্ছে স্মরণ করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। অর্থাৎ নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর আনুগত্য করা।

সব ইবাদতের প্রাণ হচ্ছে আল্লাহর জিকির।

আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সর্বাবস্থায় অধিক হারে তাঁর জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন—আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)
সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে হবে

সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে হবে দাঁড়িয়ে, বসে, এমনকি শুয়ে যেভাবে পারা যায়, আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা-গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টি বিষয়ে (তারা বলে) হে আমাদের রব! এসব আপনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি।

’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

জিকিরের অনন্য বৈশিষ্ট্য

জিকির এমন একটি ইবাদত যার কোনো সময়, সীমা, পরিমাণ ও শর্ত নেই। দিনে-রাতে, সকাল-সন্ধ্যায়, হাঁটতে-বসতে এমনকি শয়ন অবস্থায় এবং অজু অবস্থায় হোক কিংবা অজুবিহীন হোক সর্বাবস্থায় জিকির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া এ ইবাদতের জন্য কোনো বিশেষ পরিশ্রমও করতে হয় না। এবং কোনো অবসরের দরকার পড়ে না।

জিকিরের মাধ্যমে পার্থিব কার্যক্রমও ইবাদতে পরিণত হয়ে যায়। যেমন—আহার করার সময় আহারের দোয়া পড়লে, ঘুমানোর সময় ঘুমের দোয়া পড়লে এগুলো ইবাদতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ সর্বদা আল্লাহর স্মরণ রাখা—কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ সম্পর্কে অমনোযোগী ও গাফিল না হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তোমরা যখন নামাজ সম্পন্ন করো, তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহ জিকির করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)
জিকিরকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত জীবিতদের মতো

আল্লাহর জিকিরকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত জীবিত ব্যক্তিদের মতো।

যারা আল্লাহর জিকির করে না, তাদের কলব মরে যায় যদিও তারা জীবিত থাকে। জিকিরের মাধ্যমে মানুষের মরা কলব জিন্দা হয়। যেমন—আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ঈমানদার তারা এমন লোক যে যখন আল্লাহর জিকির করা হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় রবের ওপর ভরসা করে।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২)
জিকির থেকে গাফিল ব্যক্তি মৃততুল্য

কখনো জিকির থেকে গাফিল হওয়া যাবে না। জিকির থেকে গাফিল হলে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নানা বিপদাপদ নাজিল হয়ে থাকে। যারা জিকির থেকে গাফিল হয় তাদের দৃষ্টান্ত হলো—যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে এবং যে আল্লাহর জিকির করে না তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতদের মতো। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০৭, মুসলিম, হাদিস : ৭৭৯)

জিকিরকারী ব্যক্তি আল্লাহর বেশি পছন্দনীয়

আল্লাহ তাআলা জিকিরকারীকে পছন্দ করেন। জিকিরকারীর দোয়া কবুল করেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক হই এবং আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমার জিকির করে। যদি সে তার মনে মনে আমার জিকির করে আমি তাকে আমার কুদরতি মনে জিকির করি। আর যদি সে আমাকে মজলিসে গণজমায়েতে জিকির করে তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। (বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫, মুসলিম, হাদিস : ২৬৭৫)

মহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি জিকির করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার

সার্বক্ষণিক ইবাদত আল্লাহর জিকির

আপডেট সময় : ১২:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

জিকির হলো সর্বোত্তম ইবাদত। জিকির শব্দের অর্থ হচ্ছে স্মরণ করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। অর্থাৎ নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর আনুগত্য করা।

সব ইবাদতের প্রাণ হচ্ছে আল্লাহর জিকির।

আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সর্বাবস্থায় অধিক হারে তাঁর জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন—আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)
সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে হবে

সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে হবে দাঁড়িয়ে, বসে, এমনকি শুয়ে যেভাবে পারা যায়, আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা-গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টি বিষয়ে (তারা বলে) হে আমাদের রব! এসব আপনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি।

’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

জিকিরের অনন্য বৈশিষ্ট্য

জিকির এমন একটি ইবাদত যার কোনো সময়, সীমা, পরিমাণ ও শর্ত নেই। দিনে-রাতে, সকাল-সন্ধ্যায়, হাঁটতে-বসতে এমনকি শয়ন অবস্থায় এবং অজু অবস্থায় হোক কিংবা অজুবিহীন হোক সর্বাবস্থায় জিকির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া এ ইবাদতের জন্য কোনো বিশেষ পরিশ্রমও করতে হয় না। এবং কোনো অবসরের দরকার পড়ে না।

জিকিরের মাধ্যমে পার্থিব কার্যক্রমও ইবাদতে পরিণত হয়ে যায়। যেমন—আহার করার সময় আহারের দোয়া পড়লে, ঘুমানোর সময় ঘুমের দোয়া পড়লে এগুলো ইবাদতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ সর্বদা আল্লাহর স্মরণ রাখা—কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ সম্পর্কে অমনোযোগী ও গাফিল না হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তোমরা যখন নামাজ সম্পন্ন করো, তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহ জিকির করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)
জিকিরকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত জীবিতদের মতো

আল্লাহর জিকিরকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত জীবিত ব্যক্তিদের মতো।

যারা আল্লাহর জিকির করে না, তাদের কলব মরে যায় যদিও তারা জীবিত থাকে। জিকিরের মাধ্যমে মানুষের মরা কলব জিন্দা হয়। যেমন—আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ঈমানদার তারা এমন লোক যে যখন আল্লাহর জিকির করা হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় রবের ওপর ভরসা করে।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২)
জিকির থেকে গাফিল ব্যক্তি মৃততুল্য

কখনো জিকির থেকে গাফিল হওয়া যাবে না। জিকির থেকে গাফিল হলে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নানা বিপদাপদ নাজিল হয়ে থাকে। যারা জিকির থেকে গাফিল হয় তাদের দৃষ্টান্ত হলো—যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে এবং যে আল্লাহর জিকির করে না তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতদের মতো। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০৭, মুসলিম, হাদিস : ৭৭৯)

জিকিরকারী ব্যক্তি আল্লাহর বেশি পছন্দনীয়

আল্লাহ তাআলা জিকিরকারীকে পছন্দ করেন। জিকিরকারীর দোয়া কবুল করেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক হই এবং আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমার জিকির করে। যদি সে তার মনে মনে আমার জিকির করে আমি তাকে আমার কুদরতি মনে জিকির করি। আর যদি সে আমাকে মজলিসে গণজমায়েতে জিকির করে তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। (বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫, মুসলিম, হাদিস : ২৬৭৫)

মহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি জিকির করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।