ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারগামী ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে শিশু আহত ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নেই, কক্সবাজারেও ভোগান্তি আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশনের স্বর্ণপদক বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুল অর্জন করলেন টেকনাফের সাউদা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না – উখিয়ায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান বাংলা চ্যানেল পাড়ি ২ নারীসহ ৩৫ সাঁতারুর গণভোটের ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছেন ইইউ’র ৫৬ পর্যবেক্ষক দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল, নতুনভাবে গঠন জনতার কাফেলা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে- কক্সবাজারে আদিলুর রহমান খান ইসিতে অষ্টম দিনের আপিল শুনানি শুরু হোয়াইক্যং সীমান্তের চিংড়ি ঘের থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার পেকুয়ায় লবণ চাষিকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ সীমান্তে মা ই ন বি স্ফো র ণে এক পা হারানো হানিফের অন্য পা নিয়েও শঙ্কা

মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র- বাঙালি হিন্দুদের জন্য একে অন্যের পরিপূরক.. 

মহালয়া মানেই অমাবস্যার অন্ধকার ভেদ করে আলোর আগমনী। পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবীপক্ষের সূচনার সেতুবন্ধন এই ভোর। ভোররাতের আকাশে ধূপের গন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর রেডিওতে মহালয়ার ভরাট কণ্ঠ মিলেমিশে তৈরি করে  এক অনন্য আবেশ। মহালয়ার সকাল তাই বাঙালি হিন্দুদের আবেগ, ভক্তি আর শিকড়ের টানে মিশে আছে।

এ ভোরকে চিরস্মরণীয় করে তোলেন এক মানুষ—বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর কণ্ঠে মহালয়া ছাড়া যেন এ সকাল অসম্পূর্ণ।

তবে ১৯৭৬ সালের সেই ভোর ছিল অন্যরকম। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ভেসে এল মহানায়ক উত্তম কুমারের কণ্ঠ। সঙ্গে ছিল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা শিল্পী লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলের গান। নতুন নাম দেওয়া হলো—“দেবীং দুর্গতিহারিণীম।” সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দরভাবে রেকর্ডিং হলেও ভদ্রের কণ্ঠে অভ্যস্ত বাঙালি তা মেনে নিতে পারল না। একের পর এক ফোন আসতে লাগল রেডিও দপ্তরে, ডাকবাক্স ভরে গেল অভিযোগে। রেডিও অফিসের জানালা ভাঙল জনরোষে, রাস্তায় দেখা গেল ভাঙা রেডিওর স্তূপ।

 

অবশেষে রেডিও স্টেশনের কর্তারা ভুল বুঝতে পারলেন। বুঝতে পারলেন বাঙালি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ছাড়া আর কাউকেই এই জায়গায় বসাতে পারবে না। হোক সেটি মহানায়ক উত্তম কুমার। তাই ষষ্ঠীর দিন ভোরে রেডিওতে আবার ভেসে এল চেনা সেই কণ্ঠ—

“আশ্বিনের শারদপ্রাতে,
বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর,
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা,
প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা,
আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন।”

এই আবির্ভাবেই শান্ত হলো জনরোষ। বাঙালি ফিরে পেল তার চিরচেনা মহালয়া।

১৯৩০ সালে প্রথম চণ্ডীপাঠ শুরু করেছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তখনও সমালোচনা হয়েছিল—কারণ তিনি ব্রাহ্মণ নন। শান্ত কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন—“আমি পাঠ করি না, পুজো করি।” আজ সেই সমালোচকরা ইতিহাসে মিলিয়ে গেছেন, অথচ তাঁর কণ্ঠ আজও অমলিন।

 

আজও তাই সনাতনীদের ঘরে ঘরে ভোরবেলা শোনা যায় শ্রীশ্রীচণ্ডীর শ্লোক—

“যা চণ্ডী, মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী, যা মাহিষোন্মূলিনী
যা ধূম্রেক্ষণচণ্ডমুণ্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী ।
শক্তিঃ শুম্ভনিশুম্ভ-দৈত্যদলনী যা সিদ্ধিদাত্রী পরা
সা দেবী নবকোটীমূর্তিসহিতা মাং পাতু বিশ্বেশ্বরী।”

এই আবহ ছাড়া যেন দেবীপক্ষের সূচনা অসম্পূর্ণ।

শ্রদ্ধা বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রকে—যাঁর কণ্ঠ ছাড়া সনাতনীদের মহালয়ার সকাল ভাবাই যায় না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারগামী ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে শিশু আহত

This will close in 6 seconds

মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র- বাঙালি হিন্দুদের জন্য একে অন্যের পরিপূরক.. 

আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মহালয়া মানেই অমাবস্যার অন্ধকার ভেদ করে আলোর আগমনী। পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবীপক্ষের সূচনার সেতুবন্ধন এই ভোর। ভোররাতের আকাশে ধূপের গন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর রেডিওতে মহালয়ার ভরাট কণ্ঠ মিলেমিশে তৈরি করে  এক অনন্য আবেশ। মহালয়ার সকাল তাই বাঙালি হিন্দুদের আবেগ, ভক্তি আর শিকড়ের টানে মিশে আছে।

এ ভোরকে চিরস্মরণীয় করে তোলেন এক মানুষ—বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর কণ্ঠে মহালয়া ছাড়া যেন এ সকাল অসম্পূর্ণ।

তবে ১৯৭৬ সালের সেই ভোর ছিল অন্যরকম। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ভেসে এল মহানায়ক উত্তম কুমারের কণ্ঠ। সঙ্গে ছিল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা শিল্পী লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলের গান। নতুন নাম দেওয়া হলো—“দেবীং দুর্গতিহারিণীম।” সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দরভাবে রেকর্ডিং হলেও ভদ্রের কণ্ঠে অভ্যস্ত বাঙালি তা মেনে নিতে পারল না। একের পর এক ফোন আসতে লাগল রেডিও দপ্তরে, ডাকবাক্স ভরে গেল অভিযোগে। রেডিও অফিসের জানালা ভাঙল জনরোষে, রাস্তায় দেখা গেল ভাঙা রেডিওর স্তূপ।

 

অবশেষে রেডিও স্টেশনের কর্তারা ভুল বুঝতে পারলেন। বুঝতে পারলেন বাঙালি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ছাড়া আর কাউকেই এই জায়গায় বসাতে পারবে না। হোক সেটি মহানায়ক উত্তম কুমার। তাই ষষ্ঠীর দিন ভোরে রেডিওতে আবার ভেসে এল চেনা সেই কণ্ঠ—

“আশ্বিনের শারদপ্রাতে,
বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর,
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা,
প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা,
আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন।”

এই আবির্ভাবেই শান্ত হলো জনরোষ। বাঙালি ফিরে পেল তার চিরচেনা মহালয়া।

১৯৩০ সালে প্রথম চণ্ডীপাঠ শুরু করেছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তখনও সমালোচনা হয়েছিল—কারণ তিনি ব্রাহ্মণ নন। শান্ত কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন—“আমি পাঠ করি না, পুজো করি।” আজ সেই সমালোচকরা ইতিহাসে মিলিয়ে গেছেন, অথচ তাঁর কণ্ঠ আজও অমলিন।

 

আজও তাই সনাতনীদের ঘরে ঘরে ভোরবেলা শোনা যায় শ্রীশ্রীচণ্ডীর শ্লোক—

“যা চণ্ডী, মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী, যা মাহিষোন্মূলিনী
যা ধূম্রেক্ষণচণ্ডমুণ্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী ।
শক্তিঃ শুম্ভনিশুম্ভ-দৈত্যদলনী যা সিদ্ধিদাত্রী পরা
সা দেবী নবকোটীমূর্তিসহিতা মাং পাতু বিশ্বেশ্বরী।”

এই আবহ ছাড়া যেন দেবীপক্ষের সূচনা অসম্পূর্ণ।

শ্রদ্ধা বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রকে—যাঁর কণ্ঠ ছাড়া সনাতনীদের মহালয়ার সকাল ভাবাই যায় না।