ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারের চার আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল; কে কতো ভোটে জিতলেন কত ভোট পেলেন তাসনিম জারা সরকার গঠনে জোট করার প্রশ্নই আসে না: সালাহউদ্দিন তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা, কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন দূতাবাস তারেক রহমানকে মোদির অভিনন্দন রুমিন ফারহানা–তাহসিনা রুশদীর–শামা ওবায়েদসহ জয়ী হলেন ৭ নারী পোস্টাল ব্যালটের চূড়ান্ত হিসাব জানালো ইসি সারা দেশে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ: ইসি ২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, প্রথমবার বিরোধী দলে জামায়াত নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯ আসনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের খবর শাহজাহান চৌধুরীর তাক লাগানো বিজয় ‘আল্লাহ হলেন সহায়’ ‘পরীক্ষিত সন্তান’ কাজলের বাজিমাত দুই দ্বীপে তৃতীয়বার ভিড়ল আলমগীর ফরিদের জয়ের তরী! ‘বিএনপি বিজয় উল্লাস করবে না, দায়িত্ব বেশি’ – ৪র্থ বার জয়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ

সরকার গঠনে জোট করার প্রশ্নই আসে না: সালাহউদ্দিন

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 790

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মেজরিটি নিয়ে বিএনপি জাতীয় সংসদে যাবে। সুতরাং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দলের বা কারো সঙ্গে জোট করার কোনো প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ফলাফল হাতে পাওয়ার পর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন সোর্স, গণমাধ্যমের বন্ধুদের সংবাদ, কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের যে নির্বাচনি সেল আছে ওখান থেকে যেটুকু জেনেছি এবং সারা দেশের জেলা পর্যায়ে থেকে আমরা যে ফলাফলগুলো বেসরকারিভাবে কালেকশন করে যেগুলো জানতে পেরেছি তাতে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মেজরিটি নিয়ে ইনশাআল্লাহ জাতীয় সংসদে যাবে। সুতরাং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দলের বা কারো সঙ্গে কোয়ালিশন (জোট) করার কোনো সুযোগ নেই বা প্রশ্নই আসে না, দরকার নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জাতীয় সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে আমাদের ৩১ দফাতে উল্লেখ করেছি- যারা আমাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, যুগপৎ আন্দোলনে শরিক ছিল তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করা এবং যদি ফ্যাসিবাদের পতন হয় তখনকার ভাষ্যে বলেছি, সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠন করব, এই জাতীয় সরকার কিন্তু সংসদে যারাই আছে সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার নয়, ঐকমত্যের ভিত্তিতে যারা আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুগপতের সঙ্গী ছিলাম তাদেরকে নিয়ে সরকার গঠন করা, নির্বাচন করা, সেটা আমরা করেছি। নির্বাচন হয়েছে এবং এরপরে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের সেই মনোযোগটা থাকবে, প্রতিশ্রুতি থাকবে।

সংসদে কেমন বিরোধী দল দরকার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভেরি ভাইব্রেন্ট (খুব প্রাণবন্ত) বিরোধী দল দরকার সংসদে। কারণ, এটা সুশাসনের জন্য যেটা বলা হয় যে দায়িত্বশীল সরকার নিশ্চিত করার জন্য একটা শক্তিশালী বিরোধী দল সবসময় জাতীয় সংসদে দরকার, যাতে চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে। সেরকম আমরা আশা করি।

প্রতিদ্বন্দ্বী দল যারা ছিলেন এ মুহূর্তে তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কোনো বার্তা আছে কিনা? পাশাপাশি এ ভূমিধস বিজয়ের উল্লাসটা কীভাবে উদযাপন করা হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো বিজয় উল্লাস করব না। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কর্তব্যের বোঝা অনেক বেশি। বিজয় উল্লাস করার মধ্য দিয়ে আমরা কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাই না। আর এ বিজয় আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। আমরা নির্বাচনের আগেও এবং নির্বাচনের পরে আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরে আমরা জনগণের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখেছি এবং যে সমর্থন পেয়েছি, সারা দেশে আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে দেখার জন্য, উনার কথা শোনার জন্য সারারাত ধরে মানুষ অপেক্ষা করেছে, ভোর রাত পর্যন্ত। তখনই আমরা মেসেজ পেয়ে গেছি এ দেশের মানুষ কী চায়? তাছাড়া বিএনপি এ দেশের গণমানুষের পরীক্ষিত দল। গণতন্ত্রকে বারবার রক্ষা করার, উদ্ধার করার দল। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দল এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার দল।

সালেহউদ্দিন আরও বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দল, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দল। সুতরাং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপি কখনো কখনো দুই-একটা ভুল করতে পারে যেটা খুব স্বাভাবিক। তাছাড়া এদেশের মানুষ বিচার করেছে যে বিএনপির হাতেই এদেশ নিরাপদ, এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা সবকিছুই বিএনপির হাতেই নিরাপদ। সুতরাং তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে এবং আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব যেটা বলেছেন যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, সেই প্রতিশ্রুতি তো কাগজে বিষয় নয় সেটা বাস্তব আমরা উদাহরণসহ জনগণের সামনে দেখিয়েছি যে আমরা এই এই করতে চাই জনগণের জন্য, দেশের জন্য, দেশের উন্নতির জন্য, তরুণ প্রজন্মের জন্য কি করতে চাই- প্রযুক্তিনির্ভর, মেধানির্ভর, জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বেসরকারি ফলে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। মোট প্রার্থী ৩ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।

সুত্র:যুগান্তর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

সরকার গঠনে জোট করার প্রশ্নই আসে না: সালাহউদ্দিন

আপডেট সময় : ০২:০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মেজরিটি নিয়ে বিএনপি জাতীয় সংসদে যাবে। সুতরাং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দলের বা কারো সঙ্গে জোট করার কোনো প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ফলাফল হাতে পাওয়ার পর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন সোর্স, গণমাধ্যমের বন্ধুদের সংবাদ, কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের যে নির্বাচনি সেল আছে ওখান থেকে যেটুকু জেনেছি এবং সারা দেশের জেলা পর্যায়ে থেকে আমরা যে ফলাফলগুলো বেসরকারিভাবে কালেকশন করে যেগুলো জানতে পেরেছি তাতে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মেজরিটি নিয়ে ইনশাআল্লাহ জাতীয় সংসদে যাবে। সুতরাং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দলের বা কারো সঙ্গে কোয়ালিশন (জোট) করার কোনো সুযোগ নেই বা প্রশ্নই আসে না, দরকার নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জাতীয় সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে আমাদের ৩১ দফাতে উল্লেখ করেছি- যারা আমাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, যুগপৎ আন্দোলনে শরিক ছিল তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করা এবং যদি ফ্যাসিবাদের পতন হয় তখনকার ভাষ্যে বলেছি, সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠন করব, এই জাতীয় সরকার কিন্তু সংসদে যারাই আছে সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার নয়, ঐকমত্যের ভিত্তিতে যারা আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুগপতের সঙ্গী ছিলাম তাদেরকে নিয়ে সরকার গঠন করা, নির্বাচন করা, সেটা আমরা করেছি। নির্বাচন হয়েছে এবং এরপরে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের সেই মনোযোগটা থাকবে, প্রতিশ্রুতি থাকবে।

সংসদে কেমন বিরোধী দল দরকার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভেরি ভাইব্রেন্ট (খুব প্রাণবন্ত) বিরোধী দল দরকার সংসদে। কারণ, এটা সুশাসনের জন্য যেটা বলা হয় যে দায়িত্বশীল সরকার নিশ্চিত করার জন্য একটা শক্তিশালী বিরোধী দল সবসময় জাতীয় সংসদে দরকার, যাতে চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে। সেরকম আমরা আশা করি।

প্রতিদ্বন্দ্বী দল যারা ছিলেন এ মুহূর্তে তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কোনো বার্তা আছে কিনা? পাশাপাশি এ ভূমিধস বিজয়ের উল্লাসটা কীভাবে উদযাপন করা হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো বিজয় উল্লাস করব না। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কর্তব্যের বোঝা অনেক বেশি। বিজয় উল্লাস করার মধ্য দিয়ে আমরা কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাই না। আর এ বিজয় আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। আমরা নির্বাচনের আগেও এবং নির্বাচনের পরে আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরে আমরা জনগণের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখেছি এবং যে সমর্থন পেয়েছি, সারা দেশে আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে দেখার জন্য, উনার কথা শোনার জন্য সারারাত ধরে মানুষ অপেক্ষা করেছে, ভোর রাত পর্যন্ত। তখনই আমরা মেসেজ পেয়ে গেছি এ দেশের মানুষ কী চায়? তাছাড়া বিএনপি এ দেশের গণমানুষের পরীক্ষিত দল। গণতন্ত্রকে বারবার রক্ষা করার, উদ্ধার করার দল। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দল এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার দল।

সালেহউদ্দিন আরও বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দল, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দল। সুতরাং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপি কখনো কখনো দুই-একটা ভুল করতে পারে যেটা খুব স্বাভাবিক। তাছাড়া এদেশের মানুষ বিচার করেছে যে বিএনপির হাতেই এদেশ নিরাপদ, এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা সবকিছুই বিএনপির হাতেই নিরাপদ। সুতরাং তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে এবং আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব যেটা বলেছেন যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, সেই প্রতিশ্রুতি তো কাগজে বিষয় নয় সেটা বাস্তব আমরা উদাহরণসহ জনগণের সামনে দেখিয়েছি যে আমরা এই এই করতে চাই জনগণের জন্য, দেশের জন্য, দেশের উন্নতির জন্য, তরুণ প্রজন্মের জন্য কি করতে চাই- প্রযুক্তিনির্ভর, মেধানির্ভর, জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বেসরকারি ফলে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। মোট প্রার্থী ৩ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।

সুত্র:যুগান্তর