ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি,জাল কাগজে যন্ত্রাংশ এনে তৈরীকৃত ৩ টি বিলাসবহুল গাড়ী জব্দ বারে কথা কাটাকাটির জের : কক্সবাজার শহরে ঝরলো দুই প্রাণ সমুদ্র সৈকতে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে ঢাকায় বাপার মানববন্ধন ও ৭ দফা দাবি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল সারাদেশে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও চোটের মিছিল দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী থাকলেও তাদের মান নিয়ে সংশয় রয়েছে: আইনমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া, প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিক আদালতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহেদ গ্রেপ্তার খুরুশকুলের মোস্তাক আহমেদ আর নেই শহরের পানশালায় তর্কাতর্কি থেকে ভাঙ্গা কাঁচের বোতলের আঘাতে যুবকের মৃত্যু, আটক ১ সভাপতি পদে হাশেম-ফরিদ আর সাধারণ সম্পাদক পদে ২ আমিনের লড়াই অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুতুবদিয়ায় অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সমুদ্র সৈকতে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে ঢাকায় বাপার মানববন্ধন ও ৭ দফা দাবি

ইসিএ আইন লঙ্ঘন এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে ও তা বন্ধের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

শুক্রবার ধানমন্ডির জয়িতা টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে পরিবেশবিদ, নগরবিদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে চলমান পরিবেশবিধ্বংসী প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।

​মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বাপার সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমানত। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল ও বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে উপকূলীয় প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না।

​নগরবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভারত ও নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শেখা উচিত। বালির ওপর অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই রাস্তা নির্মাণের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

​বাপার কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. জাফর আলম দিদার উল্লেখ করেন, বালিয়াড়ি হলো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক কচ্ছপ ও অন্যান্য প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হলে উপকূলীয় ভাঙন তীব্র হবে এবং পর্যটন পরিবেশ নষ্ট হবে।

​সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সুগন্ধা বিচ পয়েন্টে হাইকোর্টের রায় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে এমন আত্মঘাতী উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।

​সমাবেশ থেকে সুগন্ধা বিচে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ, হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণসহ ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি,জাল কাগজে যন্ত্রাংশ এনে তৈরীকৃত ৩ টি বিলাসবহুল গাড়ী জব্দ

সমুদ্র সৈকতে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে ঢাকায় বাপার মানববন্ধন ও ৭ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০৫:০০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ইসিএ আইন লঙ্ঘন এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে ও তা বন্ধের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

শুক্রবার ধানমন্ডির জয়িতা টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে পরিবেশবিদ, নগরবিদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে চলমান পরিবেশবিধ্বংসী প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।

​মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বাপার সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমানত। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল ও বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে উপকূলীয় প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না।

​নগরবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভারত ও নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শেখা উচিত। বালির ওপর অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই রাস্তা নির্মাণের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

​বাপার কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. জাফর আলম দিদার উল্লেখ করেন, বালিয়াড়ি হলো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক কচ্ছপ ও অন্যান্য প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হলে উপকূলীয় ভাঙন তীব্র হবে এবং পর্যটন পরিবেশ নষ্ট হবে।

​সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সুগন্ধা বিচ পয়েন্টে হাইকোর্টের রায় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে এমন আত্মঘাতী উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।

​সমাবেশ থেকে সুগন্ধা বিচে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ, হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণসহ ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়।