শীত এলেই সবচেয়ে বেশি শোনা যায় একটি প্রশ্ন—তাপমাত্রা কত নামল? তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের তীব্রতা নির্ধারণে শুধু থার্মোমিটারের সংখ্যাই শেষ কথা নয়। শীত বেশি বা কম অনুভূত হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে তাপ (Heat), বিশেষ করে ভূপৃষ্ঠের তাপ, সূর্যের উপস্থিতি, বাতাসের গতি ও আর্দ্রতা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান,“শীত সাধারণত ভূপৃষ্ঠের উত্তাপের ওপর নির্ভর করে। শুধু তাপমাত্রা কম হলেই শীত বেশি অনুভূত হবে—এমন নয়।”
তাপ ও তাপমাত্রা: একই নয়
কক্সবাজারের এই আবহাওয়াবিদের ব্যাখ্যায়,তাপ ও তাপমাত্রা এক বিষয় নয়। তাপ হলো এক ধরনের শক্তি, যা সূর্য বা উষ্ণ বস্তু থেকে ভূপৃষ্ঠ ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই তাপ ভূপৃষ্ঠে জমা থাকলে আশপাশের বাতাস উষ্ণ থাকে।
অন্যদিকে, তাপমাত্রা হলো কোনো স্থানের বাতাস কতটা গরম বা ঠান্ডা—তার পরিমাপ। অর্থাৎ তাপমাত্রা শুধু একটি সংখ্যা, কিন্তু শীতের অনুভূতি নির্ভর করে তাপের উপস্থিতি ও তার প্রবাহের ওপর।
রোদ থাকলে ঠান্ডা কম লাগে কেন?
আব্দুল হান্নান বলেন,“দিনের বেলা সূর্যের তাপ ভূপৃষ্ঠে পড়লে সেই তাপ ধীরে ধীরে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাপমাত্রা কম থাকলেও ঠান্ডা কম অনুভূত হয়।”
অন্যদিকে, মেঘলা আকাশ, কুয়াশা বা সূর্যের অনুপস্থিতিতে ভূপৃষ্ঠ পর্যাপ্ত তাপ পায় না। ফলে বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং শীতের অনুভূতি বেড়ে যায়।
অনুভূত তাপমাত্রা কীভাবে কমে যায়?
আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান,প্রকৃত তাপমাত্রা ও মানুষের শরীর যে তাপমাত্রা অনুভব করে—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে। একে বলা হয় অনুভূত তাপমাত্রা (Feels Like Temperature)।
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে মি. হান্নান বলেন,“তাপমাত্রা যদি ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে বাতাসের গতি, রোদের অনুপস্থিতি ও ভূপৃষ্ঠের কম তাপের কারণে সেটি মানুষের কাছে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মতো অনুভূত হতে পারে।”
আবহাওয়াবিদের এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শীত বোঝার ক্ষেত্রে শুধু তাপমাত্রা নয়, বরং তাপ, ভূপৃষ্ঠের উত্তাপ, সূর্যের আলো ও বাতাস—সব মিলিয়েই প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারিত হয়। এ কারণেই একই তাপমাত্রায় কখনো শীত বেশি লাগে, আবার কখনো তুলনামূলক কম।
আফজারা রিয়া 



















