ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শাহাদাত হোসাইনের পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালী, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

লাল চান্দা নামে কুতুপালং বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হয় লাখ টাকার নি’ষি’দ্ধ ‘পিরানহা’!

বিশ্বের অন্যতম শরণার্থী শিবির লাগোয়া উখিয়ার কুতুপালং বাজার, প্রতিদিন এই বাজারে লাখ টাকার নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছে সংঘবদ্ধ একটি অসাধু চক্র।

স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্রেতাদের টার্গেট করে বাজারের কতিপয় কিছু মাছ ব্যবসায়ী এই প্রতারণায় লিপ্ত।

সরজমিনের তথ্যপ্রমাণ বলছে, লাল চান্দা মাছ দাবী করে কেজি প্রতি ৪৫০-৫০০ টাকা পিরানহা বিক্রি করছে তারা।

চক্রটির মূল হোতা কুতুপালংয়ের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা খায়রুল আমিন, যার মাধ্যমে চকরিয়া-টেকনাফ সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা হয় নিষিদ্ধ এই মাছ।

সোমবার সকালে বাজারে মাছ কিনতে আসেন একটি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা আবিদ ইসলাম, তিনি পিরানহার প্রকাশ্যে বিক্রি দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেন।

আবিদ বলেন, ‘ পিরানহার অপর নাম রাক্ষুসে মাছ, এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই মাছ বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের তৎপর হওয়া উচিত।’

পরিবারের জন্য ‘লাল চান্দা’ মনে করে ক্রয় করা ২ কেজি পিরানহা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করা রোহিঙ্গা শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ আমি স্বল্প বেতনে ক্যাম্পের স্কুলে চাকরি করি। পরিবারের জন্য এই মাছ কিনেছি, বিক্রেতা আমাকে লাল চান্দা বলে বিক্রি করেছে।’

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সরকারও রাক্ষুসে স্বভাবের কারণে পিরানহা মাছ চাষ, উৎপাদন, পোনা উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধি, বাজারে বিক্রি এবং বাজার থেকে ক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে সরকার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বলেন, রাক্ষুসে মাছ হিসেবে পরিচিত পিরানহা বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

উপজেলায় যদি কেউ নিষিদ্ধ এই মাছ বিক্রি করে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শাহাদাত হোসাইনের

লাল চান্দা নামে কুতুপালং বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হয় লাখ টাকার নি’ষি’দ্ধ ‘পিরানহা’!

আপডেট সময় : ১১:২৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

বিশ্বের অন্যতম শরণার্থী শিবির লাগোয়া উখিয়ার কুতুপালং বাজার, প্রতিদিন এই বাজারে লাখ টাকার নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছে সংঘবদ্ধ একটি অসাধু চক্র।

স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্রেতাদের টার্গেট করে বাজারের কতিপয় কিছু মাছ ব্যবসায়ী এই প্রতারণায় লিপ্ত।

সরজমিনের তথ্যপ্রমাণ বলছে, লাল চান্দা মাছ দাবী করে কেজি প্রতি ৪৫০-৫০০ টাকা পিরানহা বিক্রি করছে তারা।

চক্রটির মূল হোতা কুতুপালংয়ের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা খায়রুল আমিন, যার মাধ্যমে চকরিয়া-টেকনাফ সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা হয় নিষিদ্ধ এই মাছ।

সোমবার সকালে বাজারে মাছ কিনতে আসেন একটি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা আবিদ ইসলাম, তিনি পিরানহার প্রকাশ্যে বিক্রি দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেন।

আবিদ বলেন, ‘ পিরানহার অপর নাম রাক্ষুসে মাছ, এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই মাছ বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের তৎপর হওয়া উচিত।’

পরিবারের জন্য ‘লাল চান্দা’ মনে করে ক্রয় করা ২ কেজি পিরানহা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করা রোহিঙ্গা শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ আমি স্বল্প বেতনে ক্যাম্পের স্কুলে চাকরি করি। পরিবারের জন্য এই মাছ কিনেছি, বিক্রেতা আমাকে লাল চান্দা বলে বিক্রি করেছে।’

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সরকারও রাক্ষুসে স্বভাবের কারণে পিরানহা মাছ চাষ, উৎপাদন, পোনা উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধি, বাজারে বিক্রি এবং বাজার থেকে ক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে সরকার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বলেন, রাক্ষুসে মাছ হিসেবে পরিচিত পিরানহা বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

উপজেলায় যদি কেউ নিষিদ্ধ এই মাছ বিক্রি করে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।