ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদিপাহাড়ে সাইফুল হত্যাকান্ড : সিহাব নামের যুবক আটক চকরিয়ায় শিক্ষার্থীকে অপহরণ : যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি কক্সবাজারে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবাসহ ১৩৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ২৯ হলদিয়ায় কিশোরকে মারধর করে অপহরণ : থানায় অভিযোগ দায়ের মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার

র‍্যাব পরিচয়ে রোহিঙ্গা অপহরণ!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‍্যাবের দাবী সে এ ঘটনায় মূল হোতা এবং তার নেতৃত্বে রয়েছে অপহরণকারীচক্র।

র‍্যাব বলছে, ধারাবাহিক অভিযানে একাধিক আসামিকে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র এবং র‍্যাবের ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে র‍্যাব-১৫ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল হাসান জানান, ১১ জুন রাতে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে মো. হাফিজ উল্লাহ নামের এক যুবককে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিল ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ নবী হোসেন, এনায়েত উল্লাহ এবং বরখাস্তকৃত সেনা সদস্য মো. সুমন। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

মো. কামরুল হাসান বলেন, র‍্যাব এর অভিযানে ১৩ জুন প্রথমে দুই সন্দেহভাজন আফ্রিদি ও আব্দুল গফুরকে আটক করা হয়। এরপর ১৪ জুন গ্রেফতার করা হয় অপহরণ চক্রের মূল হোতা বরখাস্তকৃত সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫ জুন র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ২৫০ সদস্য রঙ্গিখালীর গহীন অরণ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করে।

“উদ্ধার অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, গুলি, র‍্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।”

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ২৭ জুন ‘কুখ্যাত ডাকাত’ শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ২৮ জুন আটক করা হয় অপর সন্ত্রাসী মো. জায়েদ হোসেন ফারুককে। সে উখিয়ার পশ্চিম মরিচ্যা ১নং ওয়ার্ডের আঃ শুক্কুরের ছেলে।

“ফারুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪টি র‍্যাব ইউনিফর্ম, র‍্যাবের নকল আইডি কার্ড, বিদেশি ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম” – বলেন লে. কর্ণেল কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, “গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বরখাস্ত সৈনিক সুমন নিজেই রাজধানীর শাহ আলী মার্কেট থেকে র‍্যাবের পোশাক তৈরির ব্যবস্থা করেছিল।”

র‍্যাব ১৫ এর অধিনায়ক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক তৈরির নামে কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন ও কুখ্যাত ডাকাত শাহ আলম এখনো পলাতক রয়েছে।তাদের গ্রেফতারেএই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক কামরুল হাসান দেশের সব টেইলর এবং পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরি ও বিক্রি গুরুতর অপরাধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য”।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

র‍্যাব পরিচয়ে রোহিঙ্গা অপহরণ!

আপডেট সময় : ০৬:৫০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‍্যাবের দাবী সে এ ঘটনায় মূল হোতা এবং তার নেতৃত্বে রয়েছে অপহরণকারীচক্র।

র‍্যাব বলছে, ধারাবাহিক অভিযানে একাধিক আসামিকে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র এবং র‍্যাবের ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে র‍্যাব-১৫ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল হাসান জানান, ১১ জুন রাতে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে মো. হাফিজ উল্লাহ নামের এক যুবককে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিল ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ নবী হোসেন, এনায়েত উল্লাহ এবং বরখাস্তকৃত সেনা সদস্য মো. সুমন। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

মো. কামরুল হাসান বলেন, র‍্যাব এর অভিযানে ১৩ জুন প্রথমে দুই সন্দেহভাজন আফ্রিদি ও আব্দুল গফুরকে আটক করা হয়। এরপর ১৪ জুন গ্রেফতার করা হয় অপহরণ চক্রের মূল হোতা বরখাস্তকৃত সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫ জুন র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ২৫০ সদস্য রঙ্গিখালীর গহীন অরণ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করে।

“উদ্ধার অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, গুলি, র‍্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।”

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ২৭ জুন ‘কুখ্যাত ডাকাত’ শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ২৮ জুন আটক করা হয় অপর সন্ত্রাসী মো. জায়েদ হোসেন ফারুককে। সে উখিয়ার পশ্চিম মরিচ্যা ১নং ওয়ার্ডের আঃ শুক্কুরের ছেলে।

“ফারুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪টি র‍্যাব ইউনিফর্ম, র‍্যাবের নকল আইডি কার্ড, বিদেশি ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম” – বলেন লে. কর্ণেল কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, “গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বরখাস্ত সৈনিক সুমন নিজেই রাজধানীর শাহ আলী মার্কেট থেকে র‍্যাবের পোশাক তৈরির ব্যবস্থা করেছিল।”

র‍্যাব ১৫ এর অধিনায়ক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক তৈরির নামে কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন ও কুখ্যাত ডাকাত শাহ আলম এখনো পলাতক রয়েছে।তাদের গ্রেফতারেএই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক কামরুল হাসান দেশের সব টেইলর এবং পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরি ও বিক্রি গুরুতর অপরাধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য”।