ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শাহাদাত হোসাইনের পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালী, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

র‍্যাব পরিচয়ে রোহিঙ্গা অপহরণ!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‍্যাবের দাবী সে এ ঘটনায় মূল হোতা এবং তার নেতৃত্বে রয়েছে অপহরণকারীচক্র।

র‍্যাব বলছে, ধারাবাহিক অভিযানে একাধিক আসামিকে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র এবং র‍্যাবের ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে র‍্যাব-১৫ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল হাসান জানান, ১১ জুন রাতে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে মো. হাফিজ উল্লাহ নামের এক যুবককে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিল ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ নবী হোসেন, এনায়েত উল্লাহ এবং বরখাস্তকৃত সেনা সদস্য মো. সুমন। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

মো. কামরুল হাসান বলেন, র‍্যাব এর অভিযানে ১৩ জুন প্রথমে দুই সন্দেহভাজন আফ্রিদি ও আব্দুল গফুরকে আটক করা হয়। এরপর ১৪ জুন গ্রেফতার করা হয় অপহরণ চক্রের মূল হোতা বরখাস্তকৃত সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫ জুন র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ২৫০ সদস্য রঙ্গিখালীর গহীন অরণ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করে।

“উদ্ধার অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, গুলি, র‍্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।”

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ২৭ জুন ‘কুখ্যাত ডাকাত’ শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ২৮ জুন আটক করা হয় অপর সন্ত্রাসী মো. জায়েদ হোসেন ফারুককে। সে উখিয়ার পশ্চিম মরিচ্যা ১নং ওয়ার্ডের আঃ শুক্কুরের ছেলে।

“ফারুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪টি র‍্যাব ইউনিফর্ম, র‍্যাবের নকল আইডি কার্ড, বিদেশি ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম” – বলেন লে. কর্ণেল কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, “গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বরখাস্ত সৈনিক সুমন নিজেই রাজধানীর শাহ আলী মার্কেট থেকে র‍্যাবের পোশাক তৈরির ব্যবস্থা করেছিল।”

র‍্যাব ১৫ এর অধিনায়ক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক তৈরির নামে কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন ও কুখ্যাত ডাকাত শাহ আলম এখনো পলাতক রয়েছে।তাদের গ্রেফতারেএই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক কামরুল হাসান দেশের সব টেইলর এবং পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরি ও বিক্রি গুরুতর অপরাধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য”।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শাহাদাত হোসাইনের

র‍্যাব পরিচয়ে রোহিঙ্গা অপহরণ!

আপডেট সময় : ০৬:৫০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‍্যাবের দাবী সে এ ঘটনায় মূল হোতা এবং তার নেতৃত্বে রয়েছে অপহরণকারীচক্র।

র‍্যাব বলছে, ধারাবাহিক অভিযানে একাধিক আসামিকে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র এবং র‍্যাবের ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে র‍্যাব-১৫ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল হাসান জানান, ১১ জুন রাতে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে মো. হাফিজ উল্লাহ নামের এক যুবককে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিল ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ নবী হোসেন, এনায়েত উল্লাহ এবং বরখাস্তকৃত সেনা সদস্য মো. সুমন। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

মো. কামরুল হাসান বলেন, র‍্যাব এর অভিযানে ১৩ জুন প্রথমে দুই সন্দেহভাজন আফ্রিদি ও আব্দুল গফুরকে আটক করা হয়। এরপর ১৪ জুন গ্রেফতার করা হয় অপহরণ চক্রের মূল হোতা বরখাস্তকৃত সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫ জুন র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ২৫০ সদস্য রঙ্গিখালীর গহীন অরণ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করে।

“উদ্ধার অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, গুলি, র‍্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।”

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ২৭ জুন ‘কুখ্যাত ডাকাত’ শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ২৮ জুন আটক করা হয় অপর সন্ত্রাসী মো. জায়েদ হোসেন ফারুককে। সে উখিয়ার পশ্চিম মরিচ্যা ১নং ওয়ার্ডের আঃ শুক্কুরের ছেলে।

“ফারুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪টি র‍্যাব ইউনিফর্ম, র‍্যাবের নকল আইডি কার্ড, বিদেশি ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম” – বলেন লে. কর্ণেল কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, “গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বরখাস্ত সৈনিক সুমন নিজেই রাজধানীর শাহ আলী মার্কেট থেকে র‍্যাবের পোশাক তৈরির ব্যবস্থা করেছিল।”

র‍্যাব ১৫ এর অধিনায়ক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক তৈরির নামে কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন ও কুখ্যাত ডাকাত শাহ আলম এখনো পলাতক রয়েছে।তাদের গ্রেফতারেএই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক কামরুল হাসান দেশের সব টেইলর এবং পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরি ও বিক্রি গুরুতর অপরাধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য”।