ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে সাধারণ সভা ১৫ মে গর্জনিয়ায় সোহেলের বসতঘর থেকে মিললো ১ লাখ পিস ইয়াবা : এলাকায় চাঞ্চল্য কোরবানি পশুর চামড়ার দাম বাড়ল এবার কক্সবাজার সরকারি কলেজে ইউনিফর্ম পরে টিকটক-রিলস নিষিদ্ধ, নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির সতর্কতা বাবার নামে হোটেল ‘সায়মন’ নামকরণ করেছিলেন ইঞ্জি. মোশাররফ ঢাকায় অপহৃত স্কুলছাত্রী কক্সবাজারে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ ১ মাসের শিশু হুমাইরাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন… পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায় এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি তরুণদের দক্ষ করে তুললে বিশ্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্যকর খাবার ওটস সবার জন্য ‘উপকারী’ নয়, কারণ জানুন হামের টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই দুর্ঘটনা কমাতে চুনতিতে ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ শুরু মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আরও ২ কাঠবোঝাই ট্রলার, ফিরছে সীমান্ত বাণিজ্যের প্রাণচাঞ্চল্য

‘ রাখাইনে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের উপর ‘যুদ্ধাপরাধ’ করছে ‘ – ফোর্টিফাই রাইটস

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) কর্তৃক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও গলা কেটে হত্যার মতো যুদ্ধাপরাধের তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির এক নতুন তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণকারী এএ তাদের নিয়ন্ত্রিত গ্রাম ও অস্থায়ী বন্দিশিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটিয়েছে।

ফোর্টিফাই রাইটসের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইজাজ মিন খান্ট বলেন, “আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে অপহরণ, বর্বর নির্যাতন ও হত্যার জন্য দায়ী—এমনকি কিছু ভুক্তভোগীর মরদেহ গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আইসিসির এখতিয়ার রয়েছে, এবং তাদের উচিত এ সকল অপরাধ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।”

২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, যারা ২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী দফায় পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এএ, এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বলছে—তারা এখন আরাকান আর্মির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগেই মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলা চলছে। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়।

তদন্তে যা পাওয়া গেলো

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ফোর্টিফাই রাইটস ৩৯ জন রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেয়, যাদের মধ্যে ৮ জন নারী ছিলেন। তারা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এএ’র হাতে সংঘটিত সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী।

তদন্তে সংগৃহীত ছবি ও ভিডিও প্রমাণাদিও বিশ্লেষণ করে এসব অভিযোগের ভিত্তি শক্ত হয়েছে বলে জানায় ফোর্টিফাই রাইটস।

প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচটি গলা কেটে হত্যার ঘটনা, গ্রামে ও বন্দিশিবিরে একাধিক হত্যাকাণ্ড, এবং আটকের পর নির্যাতন ও হত্যার একটি পদ্ধতিগত ধারা তুলে ধরা হয়।

বেঁচে ফেরা অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের ভুয়া অভিযোগে – যেমন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক বা এএ-তে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এইসব কারণে আটক করে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে।

ফোর্টিফাই রাইটস আরও জানায়, এর আগেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মংডুর নাফ নদী এলাকায় এক গণহত্যা এবং মে মাসে রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

যদিও আরাকান আর্মি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা স্বীকার করে যে, তাদের সদস্যরা দুই যুদ্ধবন্দিকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে—যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

২০১৮ সালে আইসিসি’র প্রধান কৌঁসুলি রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে অনুমতি পান।

ফোর্টিফাই রাইটস আহবান জানিয়েছে, চলমান সেই তদন্তে যেন আরাকান আর্মির মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইজাজ মিন খান্ট বলেন, “আরাকান আর্মির নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। যদি তারা নিজেদের একটি বৈধ বিপ্লবী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তবে তাদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং নিজেদের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে সাধারণ সভা ১৫ মে

‘ রাখাইনে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের উপর ‘যুদ্ধাপরাধ’ করছে ‘ – ফোর্টিফাই রাইটস

আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) কর্তৃক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও গলা কেটে হত্যার মতো যুদ্ধাপরাধের তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির এক নতুন তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণকারী এএ তাদের নিয়ন্ত্রিত গ্রাম ও অস্থায়ী বন্দিশিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটিয়েছে।

ফোর্টিফাই রাইটসের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইজাজ মিন খান্ট বলেন, “আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে অপহরণ, বর্বর নির্যাতন ও হত্যার জন্য দায়ী—এমনকি কিছু ভুক্তভোগীর মরদেহ গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আইসিসির এখতিয়ার রয়েছে, এবং তাদের উচিত এ সকল অপরাধ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।”

২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, যারা ২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী দফায় পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এএ, এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বলছে—তারা এখন আরাকান আর্মির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগেই মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলা চলছে। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়।

তদন্তে যা পাওয়া গেলো

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ফোর্টিফাই রাইটস ৩৯ জন রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেয়, যাদের মধ্যে ৮ জন নারী ছিলেন। তারা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এএ’র হাতে সংঘটিত সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী।

তদন্তে সংগৃহীত ছবি ও ভিডিও প্রমাণাদিও বিশ্লেষণ করে এসব অভিযোগের ভিত্তি শক্ত হয়েছে বলে জানায় ফোর্টিফাই রাইটস।

প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচটি গলা কেটে হত্যার ঘটনা, গ্রামে ও বন্দিশিবিরে একাধিক হত্যাকাণ্ড, এবং আটকের পর নির্যাতন ও হত্যার একটি পদ্ধতিগত ধারা তুলে ধরা হয়।

বেঁচে ফেরা অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের ভুয়া অভিযোগে – যেমন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক বা এএ-তে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এইসব কারণে আটক করে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে।

ফোর্টিফাই রাইটস আরও জানায়, এর আগেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মংডুর নাফ নদী এলাকায় এক গণহত্যা এবং মে মাসে রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

যদিও আরাকান আর্মি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা স্বীকার করে যে, তাদের সদস্যরা দুই যুদ্ধবন্দিকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে—যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

২০১৮ সালে আইসিসি’র প্রধান কৌঁসুলি রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে অনুমতি পান।

ফোর্টিফাই রাইটস আহবান জানিয়েছে, চলমান সেই তদন্তে যেন আরাকান আর্মির মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইজাজ মিন খান্ট বলেন, “আরাকান আর্মির নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। যদি তারা নিজেদের একটি বৈধ বিপ্লবী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তবে তাদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং নিজেদের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”