ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ব্লু ইকনোমি ও মেরিন সাইন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় ১৫-২০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিলকে ‘আমরা ভয় পাই না’: হাকিমি প্রাণের দাবি পুরণ হলো কক্সবাজারবাসীর: মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নত করা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন প্রয়াত কারিনা কায়সার বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের মূলহোতা নূরুল ইসলাম নাহিদ আটক পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – বিএনপি দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী মালুমঘাটে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের জন্য আমার নেতার বৃহত্তর মাস্টার প্ল্যান আছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে পিএমখালীতে যান প্রধানমন্ত্রী, পাশে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন তারেক রহমান, দিনব্যাপী অংশ নেবেন ১১ কর্মসূচিতে  কক্সবাজারের পথে সপরিবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মন্তব্য কলাম

মায়ানমার: শান্তি ও গণতন্ত্রের নামে দাবার খেলায় রেফারি কে?

মায়ানমারের জান্তা জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা এখনো জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের হাতে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে ‘ট্যাকটিকাল রিব্র্যান্ডিং’ আখ্যা দিয়েছে। “এটি গণতন্ত্রে রূপান্তর নয়, বরং জান্তার ক্ষমতা বৈধ করার কৌশল” বলছে টাইম ম্যাগাজিন।

মায়ানমার কি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের দাবার বোর্ডে?

ট্রাম্প প্রশাসন রেয়ার আর্থ (rare-earth) খনিজে প্রবেশ এবং সামরিক প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। চীন আরাকান আর্মিকে ব্যবহার করে রাখাইন করিডোরে প্রভাব বিস্তার করছে। ভারত কালাদান প্রকল্প রক্ষা করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করেছে। এশিয়া টাইমস এর মতে “মায়ানমার এখন আঞ্চলিক শক্তি গুলোর জন্য একটি ভূরাজনৈতিক দাবার বোর্ড।”

আরাকান আর্মি কি ক্ষমতার নতুন খেলোয়াড়?

রাখাইনের ৯০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখআরাকান আর্মি নিজস্ব প্রশাসন চালাচ্ছে। চীন অস্ত্র দিচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। সিএসআইএস বলেছে “শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধান এখন আরাকান আর্মি ছাড়া অসম্ভব।”

রোহিঙ্গা সংকট কি মানবিক বিপর্যয়ের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি?

নতুন সংঘাতে ১ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ভেঙে পড়ছে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। “এটি শুধু মানবিক সংকট নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি” বলছে ওয়াশিংটন পোস্ট ।

মায়ানমারের সামরিক প্রভাব অটুট রাখতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে দাবা খেলছে, আরাকান আর্মি নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, আর রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা গুরুতর ভাবে বিপর্যস্ত হবে।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ব্লু ইকনোমি ও মেরিন সাইন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় ১৫-২০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য কলাম

মায়ানমার: শান্তি ও গণতন্ত্রের নামে দাবার খেলায় রেফারি কে?

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

মায়ানমারের জান্তা জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা এখনো জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের হাতে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে ‘ট্যাকটিকাল রিব্র্যান্ডিং’ আখ্যা দিয়েছে। “এটি গণতন্ত্রে রূপান্তর নয়, বরং জান্তার ক্ষমতা বৈধ করার কৌশল” বলছে টাইম ম্যাগাজিন।

মায়ানমার কি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের দাবার বোর্ডে?

ট্রাম্প প্রশাসন রেয়ার আর্থ (rare-earth) খনিজে প্রবেশ এবং সামরিক প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। চীন আরাকান আর্মিকে ব্যবহার করে রাখাইন করিডোরে প্রভাব বিস্তার করছে। ভারত কালাদান প্রকল্প রক্ষা করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করেছে। এশিয়া টাইমস এর মতে “মায়ানমার এখন আঞ্চলিক শক্তি গুলোর জন্য একটি ভূরাজনৈতিক দাবার বোর্ড।”

আরাকান আর্মি কি ক্ষমতার নতুন খেলোয়াড়?

রাখাইনের ৯০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখআরাকান আর্মি নিজস্ব প্রশাসন চালাচ্ছে। চীন অস্ত্র দিচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। সিএসআইএস বলেছে “শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধান এখন আরাকান আর্মি ছাড়া অসম্ভব।”

রোহিঙ্গা সংকট কি মানবিক বিপর্যয়ের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি?

নতুন সংঘাতে ১ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ভেঙে পড়ছে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। “এটি শুধু মানবিক সংকট নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি” বলছে ওয়াশিংটন পোস্ট ।

মায়ানমারের সামরিক প্রভাব অটুট রাখতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে দাবা খেলছে, আরাকান আর্মি নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, আর রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা গুরুতর ভাবে বিপর্যস্ত হবে।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।