ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ, বিএনপির নানা কর্মসূচি আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ স্থানীয় যুবককে চট্টগ্রামে প্রেরণ পেকুয়ায় মৎস্য প্রজেক্ট দখলে নিতে গুলিবর্ষণ, আহত ২ কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক শারিকা নুর তাহেরা তুবা কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল পুলিশ সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসও সদস্যের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি মাদ্রাসার তালাবদ্ধ কক্ষে কৃষকের বীজ! লোহাগাড়ায় ইউএনওর অভিযানে উদ্ধার ১৩ বস্তা
মন্তব্য কলাম

মায়ানমার: শান্তি ও গণতন্ত্রের নামে দাবার খেলায় রেফারি কে?

মায়ানমারের জান্তা জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা এখনো জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের হাতে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে ‘ট্যাকটিকাল রিব্র্যান্ডিং’ আখ্যা দিয়েছে। “এটি গণতন্ত্রে রূপান্তর নয়, বরং জান্তার ক্ষমতা বৈধ করার কৌশল” বলছে টাইম ম্যাগাজিন।

মায়ানমার কি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের দাবার বোর্ডে?

ট্রাম্প প্রশাসন রেয়ার আর্থ (rare-earth) খনিজে প্রবেশ এবং সামরিক প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। চীন আরাকান আর্মিকে ব্যবহার করে রাখাইন করিডোরে প্রভাব বিস্তার করছে। ভারত কালাদান প্রকল্প রক্ষা করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করেছে। এশিয়া টাইমস এর মতে “মায়ানমার এখন আঞ্চলিক শক্তি গুলোর জন্য একটি ভূরাজনৈতিক দাবার বোর্ড।”

আরাকান আর্মি কি ক্ষমতার নতুন খেলোয়াড়?

রাখাইনের ৯০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখআরাকান আর্মি নিজস্ব প্রশাসন চালাচ্ছে। চীন অস্ত্র দিচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। সিএসআইএস বলেছে “শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধান এখন আরাকান আর্মি ছাড়া অসম্ভব।”

রোহিঙ্গা সংকট কি মানবিক বিপর্যয়ের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি?

নতুন সংঘাতে ১ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ভেঙে পড়ছে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। “এটি শুধু মানবিক সংকট নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি” বলছে ওয়াশিংটন পোস্ট ।

মায়ানমারের সামরিক প্রভাব অটুট রাখতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে দাবা খেলছে, আরাকান আর্মি নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, আর রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা গুরুতর ভাবে বিপর্যস্ত হবে।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য কলাম

মায়ানমার: শান্তি ও গণতন্ত্রের নামে দাবার খেলায় রেফারি কে?

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

মায়ানমারের জান্তা জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা এখনো জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের হাতে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে ‘ট্যাকটিকাল রিব্র্যান্ডিং’ আখ্যা দিয়েছে। “এটি গণতন্ত্রে রূপান্তর নয়, বরং জান্তার ক্ষমতা বৈধ করার কৌশল” বলছে টাইম ম্যাগাজিন।

মায়ানমার কি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের দাবার বোর্ডে?

ট্রাম্প প্রশাসন রেয়ার আর্থ (rare-earth) খনিজে প্রবেশ এবং সামরিক প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। চীন আরাকান আর্মিকে ব্যবহার করে রাখাইন করিডোরে প্রভাব বিস্তার করছে। ভারত কালাদান প্রকল্প রক্ষা করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করেছে। এশিয়া টাইমস এর মতে “মায়ানমার এখন আঞ্চলিক শক্তি গুলোর জন্য একটি ভূরাজনৈতিক দাবার বোর্ড।”

আরাকান আর্মি কি ক্ষমতার নতুন খেলোয়াড়?

রাখাইনের ৯০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখআরাকান আর্মি নিজস্ব প্রশাসন চালাচ্ছে। চীন অস্ত্র দিচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। সিএসআইএস বলেছে “শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধান এখন আরাকান আর্মি ছাড়া অসম্ভব।”

রোহিঙ্গা সংকট কি মানবিক বিপর্যয়ের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি?

নতুন সংঘাতে ১ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ভেঙে পড়ছে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। “এটি শুধু মানবিক সংকট নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি” বলছে ওয়াশিংটন পোস্ট ।

মায়ানমারের সামরিক প্রভাব অটুট রাখতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে দাবা খেলছে, আরাকান আর্মি নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, আর রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা গুরুতর ভাবে বিপর্যস্ত হবে।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।