ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমিকের বিরুদ্ধে গর্ভপাতের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে প্রকাশ্যে বিচার চেয়েছিলো সুমাইয়া কক্সবাজার সমিতি কাতারের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লোহাগাড়ায় পেয়ারার প্রলোভনে ৫ বছরের কন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : ৫৫ বছরের বৃদ্ধ আটক শিক্ষার মানোন্নয়নে গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাধকতায় প্রার্থী হতে পারিনি, সহকর্মীদের পাশে থাকবো-উখিয়া প্রেসক্লাবের ৩ বারের সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার মগনামায় বিএনপির প্রস্তুতি সভায় বাকবিতন্ডা- হট্টগোল বালিয়াড়ীতে সড়ক নির্মানের বাংলাদেশ-জাপান যৌথ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান টিআইবির মোবাইলে পর্ণ ভিডিও পাওয়ায় ১৪ দিনের কারাদন্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়ায় যুবদলের প্রস্তুতি সভা কক্সবাজারে পালং সার্ভিসের গাড়ি থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ সালমান হত্যা মামলা : নিহত রাশেদের ২ ভাইসহ ৮ আসামী সৈকতের বালিয়াড়ি নষ্ট করে সড়ক নির্মাণ, কাজ বন্ধ চায় বিআইপি জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি খুরুশকুলের আরিফ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার কক্সবাজারে গ্রিন ট্যুরিজম বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় সভা সেপ্টেম্বর থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমিকের বিরুদ্ধে গর্ভপাতের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে প্রকাশ্যে বিচার চেয়েছিলো সুমাইয়া

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।