ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫ ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, ভাসমান ১৩ জেলে উদ্ধার কক্সবাজারে ৪৬ মামলার প্রায় ৯৯ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০ রাখাইনে আবারও সংঘাতের আগুন উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।