ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ শাহপরীরদ্বীপে সাগরে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ম্যাজিস্ট্রেট এড়িয়ে গেলেও ডিসি বললেন- অগোচরে চলছিল প্যারাসেইলিং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, আসছে আরও নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে ৭৬ কেজি গাঁজা, একাধিক মামলার আসামিসহ আটক ২ নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ  মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ, আটক ২৩ সাড়ে ৬ বছরে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ হাজার ৩৮৪ জন Scars Still Fresh, Yet Flood Victims in Chakaria Strive to Rebuild Their Lives এখনো মুছেনি ক্ষত, তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চকরিয়ার বন্যা দুর্গতরা রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ: মালয়েশিয়ার নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিবৃতি

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।