ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইয়াবা দিয়ে উখিয়ায় সংগীতশিল্পী ও তার স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগ মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১ বৃষ্টি বাধ সাধেনি: শেষ হলো এইচএসসি ও সমমানের তৃতীয় দিনের পরীক্ষা, নকলের দায়ে বহিস্কৃত ২ টানা বৃষ্টিতে লামার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : প্রশাসনের সতর্কতা জারি লোহাগাড়ায় টানা বৃষ্টি :পানিবন্দী অসংখ্য মানুষ সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়ায় মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশন : মৎস্য খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াবা দিয়ে উখিয়ায় সংগীতশিল্পী ও তার স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

মানবিক আশ্রয়ের আড়ালে শিশু অপহরণ, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী আটক

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা পরিবারের চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার কারাগারে আসেন রংবাহার নামে এক নারী। পরবর্তীতে বিপদে পড়লে তাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন শহরের জেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের চার বছরের শিশু আলভী হোসেনকে নিয়ে যান রংবাহার। এরপর শিশুটি আর বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার পর্যায়ক্রমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করে। এরপরও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় মহেশখালীর দেবেঙ্গপাহাড় এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অপহরণের অভিযোগে রংবাহার নামের ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, “আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে এমন কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।” পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মুক্তিপণের পুরো অর্থ আদায়ের আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।