টেকনাফ সীমান্তকে ঘিরে মাদক পাচার রোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মাদক সংশ্লিষ্টতায় কারও প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সেটি বাহিনীর সদস্য হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) টেকনাফে বিজিবি সদর দপ্তরে উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। তবে এই সমস্যাকে পুরোপুরি নির্মূল করতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।”
দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই টেকনাফকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোর সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত এক বছরে সীমান্ত এলাকায় ৩০৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৩৯ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৭৩ লাখ পিস ইয়াবা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। যার মধ্যে আধুনিক পিস্তল ও একে-৪৭ রাইফেলও রয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম, লে. কর্নেল হানিফুর রহমান, উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিমসহ প্রশাসন ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার বিজিবি রিজিয়নের অধীনে উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
ইমরান হোসাইন 



















