ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক নির্মুলে কঠোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চার দিনে কক্সবাজারে উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা! ঈদগাঁওতে ‘শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া’ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণা ২৬ তারিখের মধ্যে ‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’ সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ,পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাঁচানো সেই রোহিঙ্গা যুবকের সাথে মেসুত ওজিলের দেখা ১৮ বছর পর বিসিএস কর্মকর্তা হলেন পেকুয়ার চিকিৎসক বেলাল চকরিয়ায় মহাসড়কে বাবা-ছেলে নিহত বিজিবি’র পৃথক অভিযান: ৩ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার,আটক ১ একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন রমজানে চকরিয়ার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি : ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান মিয়ানমারে পাচারকালে ২ বোটভর্তি সিমেন্টসহ ১৯ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি কেন বাধ্য নয়? জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ বৈঠক- “রমাদানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান তিনদিনের সফরে কক্সবাজার এলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যাবেন মা-বাবা কবর জিয়ারতে

বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাঁচানো সেই রোহিঙ্গা যুবকের সাথে মেসুত ওজিলের দেখা

রাখাইনে মিয়ানমারের জান্তার নিপীড়ন শুরু হলে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে পালিয়ে আসে লাখো রোহিঙ্গা। সে সময় নিজের বৃদ্ধ মা-বাবাকে দুই কাঁধে ঝুড়িতে ভর করে ১৬০ কিলোমিটারের অনিশ্চিত যাত্রায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ১৫ দিন পর বাংলাদেশে পৌঁছান রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আইয়ুব।

এই ঘটনার একটি হৃদয়বিদারক ছবি ইন্টারনেটে তখন আলোড়ন তুলে, ৯ বছর পরও যেনো সেই ছবি ধারণ করে চলেছে রোহিঙ্গাদের উপরে চলা অমানবিক নির্যাতনের গল্প।

উখিয়ার ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করা সেই আইয়ুবের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও
তুরস্কের রাষ্ট্রপতির পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান, একই টেবিলে বসে তারা করেছেন ইফতার।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ অনুসারীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সফর বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন মেসুত ওজিল।

আইয়ুবের সাথে ইফতার করার ছবিসহ সফরের কয়েকটি মুহুর্তের ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া পোস্টে ওজিল লিখেন, ‘ রমজানের প্রথম দিন বাংলাদেশের কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিলাল এরদোয়ানের সাথে ছিলাম। আমরা একটি ফিল্ড হাসপাতাল, স্কুল এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিছু অবিশ্বাস্য কাজ করতে দেখেছি। টিকা এবং দিয়ানেত ভাকফি ( দাতব্য সংস্থা) কে ধন্যবাদ, আমরা আমাদের রোহিঙ্গা ভাই বোনদের জন্য আরো কিছু করতে পারি। চলুন একসাথে আসুন এবং একটি পার্থক্য গড়ে দেই!।

নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর সঙ্গী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ওজিল।

তুর্কি সরকারের সহযোগী সংস্থা ‘টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) এর আমন্ত্রণে আসা সফরে ওজিল এই দিন বিকেলে উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন।

সন্ধ্যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইয়ুবের ঘরে তাঁর পরিবারের সাথে ইফতার করেন মেসুত ওজিল
ও নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান সহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সফর প্রসঙ্গে এরদোয়ানের পুত্র বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারে সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান নেকমোদ্দিন এরদোয়ান।

অন্যদিকে, আশ্রয় জীবনে আইয়ুব এমন একটি স্মরণীয় মুহুর্ত উপহার পেয়ে বলেন, ‘ আমি খুব গর্বিত, টিকার কাছে কৃতজ্ঞ। ওজিলের মতো ফুটবলার ও বিলাল এরদোয়ানের মতো বড় মানুষ আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন, একসাথে ইফতার করেছেন আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি এমন কিছু আমার জীবনে ঘটবে।’

সীমান্ত পেড়িয়ে আসার সেই রুদ্ধশ্বাস যাত্রার দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করে আইয়ুব বলেন, ‘ নিজের ঘর-ভিটা ছেড়ে মা বাবাকে বাঁচাতে অনেক দুরের পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি, এখনো কষ্টের সময়গুলো মনে আছে। এদেশ আমার নয়, নিজের দেশে কখন ফিরে যাবো অপেক্ষায় আছি।’ বর্তমানে আইয়ুব ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিকার একটি প্রকল্পে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্মরত আছেন।

টিকা’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ আইয়ুব শুরু থেকে আমাদের সাথে আছেন। টিকা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক কর্মসূচিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’

ওজিল-বিলাল এরদোয়ানের সফরকে রোহিঙ্গা মানবিক কর্মসূচি ও এই সংকট সমাধানে বিশ্বের দৃষ্টি আর্কষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ তুরস্ক সরকার রোহিঙ্গা মানবিক কর্মসূচির অন্যতম দাতা সহযোগী। দেশটিতে রমজানের প্রথম দিন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে একত্রে ইফতার করার একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিনিধিদলটি ক্যাম্পে এসেছেন। তারা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে বসে তাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছেন। ‘

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, এর মাধ্যমে তুরস্কসহ বিশ্ববাসীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলো – ‘ রোহিঙ্গারা একা নয়, বিশ্বমানবতার অংশ’।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক নির্মুলে কঠোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চার দিনে কক্সবাজারে উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা!

This will close in 6 seconds

বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাঁচানো সেই রোহিঙ্গা যুবকের সাথে মেসুত ওজিলের দেখা

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাখাইনে মিয়ানমারের জান্তার নিপীড়ন শুরু হলে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে পালিয়ে আসে লাখো রোহিঙ্গা। সে সময় নিজের বৃদ্ধ মা-বাবাকে দুই কাঁধে ঝুড়িতে ভর করে ১৬০ কিলোমিটারের অনিশ্চিত যাত্রায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ১৫ দিন পর বাংলাদেশে পৌঁছান রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আইয়ুব।

এই ঘটনার একটি হৃদয়বিদারক ছবি ইন্টারনেটে তখন আলোড়ন তুলে, ৯ বছর পরও যেনো সেই ছবি ধারণ করে চলেছে রোহিঙ্গাদের উপরে চলা অমানবিক নির্যাতনের গল্প।

উখিয়ার ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করা সেই আইয়ুবের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও
তুরস্কের রাষ্ট্রপতির পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান, একই টেবিলে বসে তারা করেছেন ইফতার।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ অনুসারীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সফর বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন মেসুত ওজিল।

আইয়ুবের সাথে ইফতার করার ছবিসহ সফরের কয়েকটি মুহুর্তের ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া পোস্টে ওজিল লিখেন, ‘ রমজানের প্রথম দিন বাংলাদেশের কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিলাল এরদোয়ানের সাথে ছিলাম। আমরা একটি ফিল্ড হাসপাতাল, স্কুল এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিছু অবিশ্বাস্য কাজ করতে দেখেছি। টিকা এবং দিয়ানেত ভাকফি ( দাতব্য সংস্থা) কে ধন্যবাদ, আমরা আমাদের রোহিঙ্গা ভাই বোনদের জন্য আরো কিছু করতে পারি। চলুন একসাথে আসুন এবং একটি পার্থক্য গড়ে দেই!।

নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর সঙ্গী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ওজিল।

তুর্কি সরকারের সহযোগী সংস্থা ‘টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) এর আমন্ত্রণে আসা সফরে ওজিল এই দিন বিকেলে উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন।

সন্ধ্যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইয়ুবের ঘরে তাঁর পরিবারের সাথে ইফতার করেন মেসুত ওজিল
ও নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান সহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সফর প্রসঙ্গে এরদোয়ানের পুত্র বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারে সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান নেকমোদ্দিন এরদোয়ান।

অন্যদিকে, আশ্রয় জীবনে আইয়ুব এমন একটি স্মরণীয় মুহুর্ত উপহার পেয়ে বলেন, ‘ আমি খুব গর্বিত, টিকার কাছে কৃতজ্ঞ। ওজিলের মতো ফুটবলার ও বিলাল এরদোয়ানের মতো বড় মানুষ আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন, একসাথে ইফতার করেছেন আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি এমন কিছু আমার জীবনে ঘটবে।’

সীমান্ত পেড়িয়ে আসার সেই রুদ্ধশ্বাস যাত্রার দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করে আইয়ুব বলেন, ‘ নিজের ঘর-ভিটা ছেড়ে মা বাবাকে বাঁচাতে অনেক দুরের পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি, এখনো কষ্টের সময়গুলো মনে আছে। এদেশ আমার নয়, নিজের দেশে কখন ফিরে যাবো অপেক্ষায় আছি।’ বর্তমানে আইয়ুব ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিকার একটি প্রকল্পে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্মরত আছেন।

টিকা’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ আইয়ুব শুরু থেকে আমাদের সাথে আছেন। টিকা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক কর্মসূচিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’

ওজিল-বিলাল এরদোয়ানের সফরকে রোহিঙ্গা মানবিক কর্মসূচি ও এই সংকট সমাধানে বিশ্বের দৃষ্টি আর্কষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ তুরস্ক সরকার রোহিঙ্গা মানবিক কর্মসূচির অন্যতম দাতা সহযোগী। দেশটিতে রমজানের প্রথম দিন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে একত্রে ইফতার করার একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিনিধিদলটি ক্যাম্পে এসেছেন। তারা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে বসে তাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছেন। ‘

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, এর মাধ্যমে তুরস্কসহ বিশ্ববাসীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলো – ‘ রোহিঙ্গারা একা নয়, বিশ্বমানবতার অংশ’।