‘টিউশন’ শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অসচ্ছলতা দূর করার পাশাপাশি পড়ালেখার প্রয়োজনীয় খরচ যোগাতে কার্যকর সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এর মাধ্যমে তারা স্বনির্ভর হয়ে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং পরিবারে আর্থিক চাপও কিছুটা কমে।
বর্তমানে কর্মসংস্থানের বিকল্প উৎস হিসেবে হোম টিউশন তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এই খাতেই বাড়ছে প্রতারণার ঝুঁকি। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক টিউশন মিডিয়ার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে ভুয়া বা ফেইক টিউশন মিডিয়ার একটি অসাধু চক্র। এসব প্রতারক চক্র টিউশন প্রত্যাশী হোম টিউটরদের সহজ লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রতিনিয়ত আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে।
ভুয়া টিউশন মিডিয়ার প্রতারণা ঠেকাতে সচেতনতার পাশাপাশি দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ জরুরি। প্রতারণার শিকার হলে জিডি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ, লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুয়া পেইজ রিপোর্ট করলে ভবিষৎ-এ কেউ প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং ক্ষতিকর দিক হতে প্রতিকার পাওয়া সহজ হয়।
তবে টিউশন মিডিয়ার নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অগ্রীম টাকা লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। টিউশন বা যেকোনো সেবার ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বাস্তব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
টিউশন মিডিয়ার নামে প্রতারণা কেবল ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষা সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি করছে। ভুয়া টিউশন মিডিয়ার দৌরাত্ম্য রোধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও হোম টিউটরদের সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও আইনানুগ পদক্ষেপ অপরিহার্য। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিবন্ধনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে টিউশন খাতকে নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
লেখক: মাহাবুব কাউসার, উন্নয়নকর্মী।
মাহাবুব কাউসার 























