ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা

বদলির আদেশের মাস পেরোলেও বহাল এলএ শাখার ৩ সার্ভেয়ার, আছে নানান অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনস্বার্থে ১৮ জন সার্ভেয়ারকে বদলির আদেশ জারি করলেও, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার কয়েক মাস পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার তিন সার্ভেয়ার এখনও বহাল রয়েছেন। একই সময়ে তাদের একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও গড়িমসির লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কক্সবাজার এলএ শাখায় কর্মরত (প্রেষণে সংযুক্ত) সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেন, সৈকত চাকমা ও মো. রাসেল মজুমদারকে যথাক্রমে বান্দরবানের থানচি, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এবং বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। একই আদেশে তাদের ২৯ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান এবং অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ওই তিন কর্মকর্তা এখনও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে বদলির আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বদলিকৃত সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝিলংজা মৌজার এলএ মামলা নং-০৬/২০২৩-২৪ এ দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন প্রস্তুতে গড়িমসি এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে গত ১৭ মে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, ০.২৪ একর অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত দখলদার ও স্বত্ববানদের বাদ দিয়ে দখলবিহীন ব্যক্তিদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি, দলিলপত্র ও লিখিত বক্তব্য দাখিল করা হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং প্রকৃত দখল সরেজমিনে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত, সংশ্লিষ্ট এলএ মামলা থেকে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার, নতুন সার্ভেয়ার নিয়োগ এবং প্রকৃত দাবিদারদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, “তারা যেহেতু পুরোনো ফাইলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সেসব নথিপত্র বুঝে নেওয়ার সুবিধার্থে কিছুদিন রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের বদলির বিষয়টি কার্যকর করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে সার্ভেয়ার সৈকত চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমার সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই।”

অপর সার্ভেয়ার মো. রাসেল মজুমদার বলেন, “চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তবে কেন এখনো যাওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”

প্রসঙ্গত, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। এরপরও তিন সার্ভেয়ারের কক্সবাজারে বহাল থাকা এবং একই সময়ে একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ

বদলির আদেশের মাস পেরোলেও বহাল এলএ শাখার ৩ সার্ভেয়ার, আছে নানান অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনস্বার্থে ১৮ জন সার্ভেয়ারকে বদলির আদেশ জারি করলেও, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার কয়েক মাস পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার তিন সার্ভেয়ার এখনও বহাল রয়েছেন। একই সময়ে তাদের একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও গড়িমসির লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কক্সবাজার এলএ শাখায় কর্মরত (প্রেষণে সংযুক্ত) সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেন, সৈকত চাকমা ও মো. রাসেল মজুমদারকে যথাক্রমে বান্দরবানের থানচি, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এবং বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। একই আদেশে তাদের ২৯ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান এবং অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ওই তিন কর্মকর্তা এখনও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে বদলির আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বদলিকৃত সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝিলংজা মৌজার এলএ মামলা নং-০৬/২০২৩-২৪ এ দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন প্রস্তুতে গড়িমসি এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে গত ১৭ মে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, ০.২৪ একর অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত দখলদার ও স্বত্ববানদের বাদ দিয়ে দখলবিহীন ব্যক্তিদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি, দলিলপত্র ও লিখিত বক্তব্য দাখিল করা হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং প্রকৃত দখল সরেজমিনে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত, সংশ্লিষ্ট এলএ মামলা থেকে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার, নতুন সার্ভেয়ার নিয়োগ এবং প্রকৃত দাবিদারদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, “তারা যেহেতু পুরোনো ফাইলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সেসব নথিপত্র বুঝে নেওয়ার সুবিধার্থে কিছুদিন রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের বদলির বিষয়টি কার্যকর করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে সার্ভেয়ার সৈকত চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমার সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই।”

অপর সার্ভেয়ার মো. রাসেল মজুমদার বলেন, “চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তবে কেন এখনো যাওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”

প্রসঙ্গত, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। এরপরও তিন সার্ভেয়ারের কক্সবাজারে বহাল থাকা এবং একই সময়ে একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে