ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের টুটুল, মাসুসহ ৫ নেতা আটক শহরের বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সদ্য সাবেক কউক চেয়ারম্যানের বড় ভাই আলাউদ্দিন রাজা মারা গেছেন কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ পেকুয়ার জাহেদ পেলেন পিপিএম পদক আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট হাসপাতাল, হাট-বাজার, সমুদ্র সৈকত : ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাস প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পেকুয়ায় ‘ইউসুফ আলী’ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামি গ্রেফতার বিশ্ব পর্যটন দিবস : ১৩ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ৮ ফ্যাসিবাদীদেরকে তথ্য দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা: পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ বছর পর পর্দা উঠলো পর্যটন মেলার, তারকামানের হোটেলে বিশেষ ছাড় কুতুবদিয়া থানা কাবাডি দলের জার্সি উন্মোচন কক্সবাজারে চোরাই মালামালসহ গ্রেপ্তার ২

বদলির আদেশের মাস পেরোলেও বহাল এলএ শাখার ৩ সার্ভেয়ার, আছে নানান অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনস্বার্থে ১৮ জন সার্ভেয়ারকে বদলির আদেশ জারি করলেও, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার কয়েক মাস পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার তিন সার্ভেয়ার এখনও বহাল রয়েছেন। একই সময়ে তাদের একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও গড়িমসির লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কক্সবাজার এলএ শাখায় কর্মরত (প্রেষণে সংযুক্ত) সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেন, সৈকত চাকমা ও মো. রাসেল মজুমদারকে যথাক্রমে বান্দরবানের থানচি, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এবং বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। একই আদেশে তাদের ২৯ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান এবং অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ওই তিন কর্মকর্তা এখনও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে বদলির আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বদলিকৃত সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝিলংজা মৌজার এলএ মামলা নং-০৬/২০২৩-২৪ এ দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন প্রস্তুতে গড়িমসি এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে গত ১৭ মে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, ০.২৪ একর অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত দখলদার ও স্বত্ববানদের বাদ দিয়ে দখলবিহীন ব্যক্তিদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি, দলিলপত্র ও লিখিত বক্তব্য দাখিল করা হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং প্রকৃত দখল সরেজমিনে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত, সংশ্লিষ্ট এলএ মামলা থেকে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার, নতুন সার্ভেয়ার নিয়োগ এবং প্রকৃত দাবিদারদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, “তারা যেহেতু পুরোনো ফাইলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সেসব নথিপত্র বুঝে নেওয়ার সুবিধার্থে কিছুদিন রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের বদলির বিষয়টি কার্যকর করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে সার্ভেয়ার সৈকত চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমার সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই।”

অপর সার্ভেয়ার মো. রাসেল মজুমদার বলেন, “চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তবে কেন এখনো যাওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”

প্রসঙ্গত, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। এরপরও তিন সার্ভেয়ারের কক্সবাজারে বহাল থাকা এবং একই সময়ে একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের টুটুল, মাসুসহ ৫ নেতা আটক

বদলির আদেশের মাস পেরোলেও বহাল এলএ শাখার ৩ সার্ভেয়ার, আছে নানান অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনস্বার্থে ১৮ জন সার্ভেয়ারকে বদলির আদেশ জারি করলেও, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার কয়েক মাস পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার তিন সার্ভেয়ার এখনও বহাল রয়েছেন। একই সময়ে তাদের একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও গড়িমসির লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কক্সবাজার এলএ শাখায় কর্মরত (প্রেষণে সংযুক্ত) সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেন, সৈকত চাকমা ও মো. রাসেল মজুমদারকে যথাক্রমে বান্দরবানের থানচি, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এবং বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। একই আদেশে তাদের ২৯ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান এবং অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ওই তিন কর্মকর্তা এখনও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে বদলির আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বদলিকৃত সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝিলংজা মৌজার এলএ মামলা নং-০৬/২০২৩-২৪ এ দখল ও মালিকানা প্রতিবেদন প্রস্তুতে গড়িমসি এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে গত ১৭ মে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, ০.২৪ একর অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত দখলদার ও স্বত্ববানদের বাদ দিয়ে দখলবিহীন ব্যক্তিদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি, দলিলপত্র ও লিখিত বক্তব্য দাখিল করা হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং প্রকৃত দখল সরেজমিনে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত, সংশ্লিষ্ট এলএ মামলা থেকে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার, নতুন সার্ভেয়ার নিয়োগ এবং প্রকৃত দাবিদারদের নামে ফিল্ড বুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, “তারা যেহেতু পুরোনো ফাইলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সেসব নথিপত্র বুঝে নেওয়ার সুবিধার্থে কিছুদিন রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের বদলির বিষয়টি কার্যকর করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে সার্ভেয়ার সৈকত চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমার সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই।”

অপর সার্ভেয়ার মো. রাসেল মজুমদার বলেন, “চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তবে কেন এখনো যাওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”

প্রসঙ্গত, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ মার্চ থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। এরপরও তিন সার্ভেয়ারের কক্সবাজারে বহাল থাকা এবং একই সময়ে একজনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে