ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা

পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস ও সড়ক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে শিশুটি মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম। নিহত আলিয়া সোলতানা স্থানীয় বাসিন্দা।

অবিরাম বৃষ্টিতে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার অন্তত চারটি গ্রাম এবং বাইশারীসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের শৈলচূড়া এলাকায় সড়কের পাশ ধসে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

ঘুমধুমের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের তুমব্রু বাজার, তুমব্রু গ্রাম, মধ্যমপাড়া ও পশ্চিমপাড়াসহ সীমান্তবর্তী অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা তুমব্রু বাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।

অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার আদর্শ গ্রামে সড়কের ওপর গাছ পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি, আলিম এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজারো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ

পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস ও সড়ক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে শিশুটি মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম। নিহত আলিয়া সোলতানা স্থানীয় বাসিন্দা।

অবিরাম বৃষ্টিতে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার অন্তত চারটি গ্রাম এবং বাইশারীসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের শৈলচূড়া এলাকায় সড়কের পাশ ধসে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

ঘুমধুমের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের তুমব্রু বাজার, তুমব্রু গ্রাম, মধ্যমপাড়া ও পশ্চিমপাড়াসহ সীমান্তবর্তী অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা তুমব্রু বাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।

অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার আদর্শ গ্রামে সড়কের ওপর গাছ পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি, আলিম এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজারো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।