ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়ায় মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশন : মৎস্য খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ

পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস ও সড়ক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে শিশুটি মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম। নিহত আলিয়া সোলতানা স্থানীয় বাসিন্দা।

অবিরাম বৃষ্টিতে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার অন্তত চারটি গ্রাম এবং বাইশারীসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের শৈলচূড়া এলাকায় সড়কের পাশ ধসে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

ঘুমধুমের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের তুমব্রু বাজার, তুমব্রু গ্রাম, মধ্যমপাড়া ও পশ্চিমপাড়াসহ সীমান্তবর্তী অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা তুমব্রু বাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।

অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার আদর্শ গ্রামে সড়কের ওপর গাছ পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি, আলিম এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজারো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ

পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস ও সড়ক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে শিশুটি মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম। নিহত আলিয়া সোলতানা স্থানীয় বাসিন্দা।

অবিরাম বৃষ্টিতে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার অন্তত চারটি গ্রাম এবং বাইশারীসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের শৈলচূড়া এলাকায় সড়কের পাশ ধসে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

ঘুমধুমের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের তুমব্রু বাজার, তুমব্রু গ্রাম, মধ্যমপাড়া ও পশ্চিমপাড়াসহ সীমান্তবর্তী অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা তুমব্রু বাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।

অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার আদর্শ গ্রামে সড়কের ওপর গাছ পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি, আলিম এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজারো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।