ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশে থাকার কারণে বন্যার সময় আসতে পারিনি,তার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি: নিজ সংসদীয় আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান : ২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর যুবক নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের ​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি সরকারের মূল লক্ষ্য এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা- লোহাগাড়ায় অর্থমন্ত্রী হোয়ানকের সন্ত্রাসী মিন্টু গ্রেফতার : অস্ত্র, গোলাবারুদ,অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো ‘আমরা থামছি না’— ফাইনালের আগে হুঙ্কার আর্জেন্টিনার চকরিয়ার বন্যকবলিত এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী/ সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা স্টেজ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু চৌধুরী বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার : অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপজয়ীদের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং দেবে ফিফা বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এমপি কাজলের ডিও লেটার: রামুর ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি

দুই শর্তে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে: আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সন্দেহের অবকাশে ৫৪ ধারায় ইচ্ছামতো গ্রেফতার করা হতো। সেখানে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছি। তিনি বলেন, যদি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে যিনি গ্রেফতার করবেন—তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে তার সামনে অপরাধ ঘটেছে এবং তার বিশ্বাস করার কারণ আছে—ওই ব্যক্তিই অপরাধ করেছেন। সেটি সেই কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করলো। নন-কগনিজেবল অপরাধের ক্ষেত্রে একই কাজ করতে হবে এবং তাকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে কাজটি না করলে লোকটা পালিয়ে যেতে পারে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ছিল গ্রেফতারের বিষয়ে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকে। গ্রেফতারের পরবর্তীকালে গ্রেফতার করা ব্যক্তির যেন অধিকার থাকে। এ নিয়ে দুটি রায় ছিল। এই রায়ের আলোকে আরও বিস্তারিতভাবে আমরা বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সবার সঙ্গে বৈঠক করে আজকে চূড়ান্ত করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হচ্ছে—সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পর থেকে যে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার করবেন, তার পরিষ্কার পরিচয় থাকতে হবে। তার ইউনিফর্মে নেমপ্লেট থাকতে হবে, আইডি কার্ড থাকতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেফতার হচ্ছেন—তার চাহিদামাত্র পুলিশ কর্মকর্তার আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এরপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যখন থানায় নিয়ে আসা হবে, যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু, কিংবা আইনজীবীকে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। এই কাজে কোনও অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে যদি কোনও আঘাতের চিহ্ন থাকে বা সেই ব্যক্তি যদি অসুস্থবোধ করেন, তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘এছাড়া প্রত্যেকটি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে একটা মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট রাখতে হবে, ডিটেইল তথ্য থাকতে হবে। কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কী অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, কোন আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে, কে গ্রেফতার করেছে বিস্তারিত সেখানে থাকতে হবে। আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন এজেন্সি গ্রেফতার করতো। গ্রেফতার করে বলতো ‘আমরা জানি না’। র‍্যাব গ্রেফতার করে বলতো ‘পুলিশ জানে’, পুলিশ গ্রেফতার করে অন্য আরেক সংস্থার নাম বলতো, আমরা আইনে বলেছি—যেই সংস্থাই গ্রেফতার করুক তাদের সংশ্লিষ্ট অফিসে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সব তথ্য সেখানে থাকতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে। আমরা আরও বলেছি, নিয়মিতভাবে প্রত্যেক থানায়, জেলা সুপারের কার্যালয়ে, পুলিশ হেড কোয়ার্টারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের তালিকা থাকবে। এগুলো সব বাধ্যতামূলক।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা যে আইন করেছি সেখানে অনলাইন বেল বন্ড সাবমিশনের বিধান আছে, ডিজিটাল সমন জারি করা যাবে। এছাড়া বিচারিক তদারকি আরও শক্তিশালী করেছি। আমরা মনে করি, এই আইন যদি সঠিকভাবে প্রতিপালন করা যায়, ইচ্ছামতো মানুষকে গ্রেফতার হয়রানি, গ্রেফতার করে অস্বীকার করা, গুম করা বন্ধের ক্ষেত্রে বিরাট যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে থাকার কারণে বন্যার সময় আসতে পারিনি,তার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি: নিজ সংসদীয় আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুই শর্তে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় : ০৬:১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সন্দেহের অবকাশে ৫৪ ধারায় ইচ্ছামতো গ্রেফতার করা হতো। সেখানে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছি। তিনি বলেন, যদি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে যিনি গ্রেফতার করবেন—তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে তার সামনে অপরাধ ঘটেছে এবং তার বিশ্বাস করার কারণ আছে—ওই ব্যক্তিই অপরাধ করেছেন। সেটি সেই কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করলো। নন-কগনিজেবল অপরাধের ক্ষেত্রে একই কাজ করতে হবে এবং তাকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে কাজটি না করলে লোকটা পালিয়ে যেতে পারে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ছিল গ্রেফতারের বিষয়ে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকে। গ্রেফতারের পরবর্তীকালে গ্রেফতার করা ব্যক্তির যেন অধিকার থাকে। এ নিয়ে দুটি রায় ছিল। এই রায়ের আলোকে আরও বিস্তারিতভাবে আমরা বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সবার সঙ্গে বৈঠক করে আজকে চূড়ান্ত করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হচ্ছে—সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পর থেকে যে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার করবেন, তার পরিষ্কার পরিচয় থাকতে হবে। তার ইউনিফর্মে নেমপ্লেট থাকতে হবে, আইডি কার্ড থাকতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেফতার হচ্ছেন—তার চাহিদামাত্র পুলিশ কর্মকর্তার আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এরপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যখন থানায় নিয়ে আসা হবে, যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু, কিংবা আইনজীবীকে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। এই কাজে কোনও অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে যদি কোনও আঘাতের চিহ্ন থাকে বা সেই ব্যক্তি যদি অসুস্থবোধ করেন, তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘এছাড়া প্রত্যেকটি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে একটা মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট রাখতে হবে, ডিটেইল তথ্য থাকতে হবে। কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কী অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, কোন আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে, কে গ্রেফতার করেছে বিস্তারিত সেখানে থাকতে হবে। আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন এজেন্সি গ্রেফতার করতো। গ্রেফতার করে বলতো ‘আমরা জানি না’। র‍্যাব গ্রেফতার করে বলতো ‘পুলিশ জানে’, পুলিশ গ্রেফতার করে অন্য আরেক সংস্থার নাম বলতো, আমরা আইনে বলেছি—যেই সংস্থাই গ্রেফতার করুক তাদের সংশ্লিষ্ট অফিসে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সব তথ্য সেখানে থাকতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে। আমরা আরও বলেছি, নিয়মিতভাবে প্রত্যেক থানায়, জেলা সুপারের কার্যালয়ে, পুলিশ হেড কোয়ার্টারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের তালিকা থাকবে। এগুলো সব বাধ্যতামূলক।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা যে আইন করেছি সেখানে অনলাইন বেল বন্ড সাবমিশনের বিধান আছে, ডিজিটাল সমন জারি করা যাবে। এছাড়া বিচারিক তদারকি আরও শক্তিশালী করেছি। আমরা মনে করি, এই আইন যদি সঠিকভাবে প্রতিপালন করা যায়, ইচ্ছামতো মানুষকে গ্রেফতার হয়রানি, গ্রেফতার করে অস্বীকার করা, গুম করা বন্ধের ক্ষেত্রে বিরাট যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন