ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সৈকত খেলাঘর আসর নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিললো গর্তে কক্সবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল:গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে জনগণ নোট অব ডিসেন্ট দেবে খেলাঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝিনুকমালার নানান আয়োজন  পেকুয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা কক্সবাজারে গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার টেকনাফে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু হঠাৎ রমনা থানা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্কাউটসের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড এর মৌখিক ও সাঁতার মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি : তারেক রহমান চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে গণপিটুনিতে ‘বাইন্না ডাকাত’ নিহত কচ্ছপিয়ার বড় জাংছড়ি খালে মাছ শিকারের উৎসবে  কক্সবাজারে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা

দুই শর্তে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে: আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সন্দেহের অবকাশে ৫৪ ধারায় ইচ্ছামতো গ্রেফতার করা হতো। সেখানে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছি। তিনি বলেন, যদি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে যিনি গ্রেফতার করবেন—তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে তার সামনে অপরাধ ঘটেছে এবং তার বিশ্বাস করার কারণ আছে—ওই ব্যক্তিই অপরাধ করেছেন। সেটি সেই কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করলো। নন-কগনিজেবল অপরাধের ক্ষেত্রে একই কাজ করতে হবে এবং তাকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে কাজটি না করলে লোকটা পালিয়ে যেতে পারে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ছিল গ্রেফতারের বিষয়ে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকে। গ্রেফতারের পরবর্তীকালে গ্রেফতার করা ব্যক্তির যেন অধিকার থাকে। এ নিয়ে দুটি রায় ছিল। এই রায়ের আলোকে আরও বিস্তারিতভাবে আমরা বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সবার সঙ্গে বৈঠক করে আজকে চূড়ান্ত করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হচ্ছে—সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পর থেকে যে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার করবেন, তার পরিষ্কার পরিচয় থাকতে হবে। তার ইউনিফর্মে নেমপ্লেট থাকতে হবে, আইডি কার্ড থাকতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেফতার হচ্ছেন—তার চাহিদামাত্র পুলিশ কর্মকর্তার আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এরপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যখন থানায় নিয়ে আসা হবে, যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু, কিংবা আইনজীবীকে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। এই কাজে কোনও অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে যদি কোনও আঘাতের চিহ্ন থাকে বা সেই ব্যক্তি যদি অসুস্থবোধ করেন, তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘এছাড়া প্রত্যেকটি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে একটা মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট রাখতে হবে, ডিটেইল তথ্য থাকতে হবে। কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কী অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, কোন আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে, কে গ্রেফতার করেছে বিস্তারিত সেখানে থাকতে হবে। আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন এজেন্সি গ্রেফতার করতো। গ্রেফতার করে বলতো ‘আমরা জানি না’। র‍্যাব গ্রেফতার করে বলতো ‘পুলিশ জানে’, পুলিশ গ্রেফতার করে অন্য আরেক সংস্থার নাম বলতো, আমরা আইনে বলেছি—যেই সংস্থাই গ্রেফতার করুক তাদের সংশ্লিষ্ট অফিসে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সব তথ্য সেখানে থাকতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে। আমরা আরও বলেছি, নিয়মিতভাবে প্রত্যেক থানায়, জেলা সুপারের কার্যালয়ে, পুলিশ হেড কোয়ার্টারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের তালিকা থাকবে। এগুলো সব বাধ্যতামূলক।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা যে আইন করেছি সেখানে অনলাইন বেল বন্ড সাবমিশনের বিধান আছে, ডিজিটাল সমন জারি করা যাবে। এছাড়া বিচারিক তদারকি আরও শক্তিশালী করেছি। আমরা মনে করি, এই আইন যদি সঠিকভাবে প্রতিপালন করা যায়, ইচ্ছামতো মানুষকে গ্রেফতার হয়রানি, গ্রেফতার করে অস্বীকার করা, গুম করা বন্ধের ক্ষেত্রে বিরাট যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ

দুই শর্তে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে: আসিফ নজরুল

আপডেট সময় : ০৬:১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সন্দেহের অবকাশে ৫৪ ধারায় ইচ্ছামতো গ্রেফতার করা হতো। সেখানে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছি। তিনি বলেন, যদি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে যিনি গ্রেফতার করবেন—তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে তার সামনে অপরাধ ঘটেছে এবং তার বিশ্বাস করার কারণ আছে—ওই ব্যক্তিই অপরাধ করেছেন। সেটি সেই কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করলো। নন-কগনিজেবল অপরাধের ক্ষেত্রে একই কাজ করতে হবে এবং তাকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে কাজটি না করলে লোকটা পালিয়ে যেতে পারে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ছিল গ্রেফতারের বিষয়ে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকে। গ্রেফতারের পরবর্তীকালে গ্রেফতার করা ব্যক্তির যেন অধিকার থাকে। এ নিয়ে দুটি রায় ছিল। এই রায়ের আলোকে আরও বিস্তারিতভাবে আমরা বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সবার সঙ্গে বৈঠক করে আজকে চূড়ান্ত করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হচ্ছে—সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পর থেকে যে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার করবেন, তার পরিষ্কার পরিচয় থাকতে হবে। তার ইউনিফর্মে নেমপ্লেট থাকতে হবে, আইডি কার্ড থাকতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেফতার হচ্ছেন—তার চাহিদামাত্র পুলিশ কর্মকর্তার আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এরপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যখন থানায় নিয়ে আসা হবে, যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু, কিংবা আইনজীবীকে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। এই কাজে কোনও অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে যদি কোনও আঘাতের চিহ্ন থাকে বা সেই ব্যক্তি যদি অসুস্থবোধ করেন, তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘এছাড়া প্রত্যেকটি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে একটা মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট রাখতে হবে, ডিটেইল তথ্য থাকতে হবে। কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কী অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, কোন আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে, কে গ্রেফতার করেছে বিস্তারিত সেখানে থাকতে হবে। আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন এজেন্সি গ্রেফতার করতো। গ্রেফতার করে বলতো ‘আমরা জানি না’। র‍্যাব গ্রেফতার করে বলতো ‘পুলিশ জানে’, পুলিশ গ্রেফতার করে অন্য আরেক সংস্থার নাম বলতো, আমরা আইনে বলেছি—যেই সংস্থাই গ্রেফতার করুক তাদের সংশ্লিষ্ট অফিসে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সব তথ্য সেখানে থাকতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে। আমরা আরও বলেছি, নিয়মিতভাবে প্রত্যেক থানায়, জেলা সুপারের কার্যালয়ে, পুলিশ হেড কোয়ার্টারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের তালিকা থাকবে। এগুলো সব বাধ্যতামূলক।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা যে আইন করেছি সেখানে অনলাইন বেল বন্ড সাবমিশনের বিধান আছে, ডিজিটাল সমন জারি করা যাবে। এছাড়া বিচারিক তদারকি আরও শক্তিশালী করেছি। আমরা মনে করি, এই আইন যদি সঠিকভাবে প্রতিপালন করা যায়, ইচ্ছামতো মানুষকে গ্রেফতার হয়রানি, গ্রেফতার করে অস্বীকার করা, গুম করা বন্ধের ক্ষেত্রে বিরাট যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন