ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন মহেশখালীতে মাছ ধরার সময় হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু সেন্টমার্টিনে বিশাল অজগর !

দুই জান্নাতের মুখে হাসি ফোটাতে ইউএনওর মানবিক উদ্যোগ: “এমএসআই নিলো দায়িত্ব

কক্সবাজার সদর উপজেলার দুই শিশু—মরিয়ম জান্নাত ও ফাতেমা জান্নাত—জন্মগত হার্টের ছিদ্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিল। অবশেষে তাদের চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে মাল্টিসার্ভ ইন্টারন্যাশনাল নামের এনজিও। এই মানবিক কাজটির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিদায়ী ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে মরিয়ম জান্নাতের হার্ট অপারেশনের অনুদান নিশ্চিত হয়। এর মধ্যেই ফাতেমা জান্নাত নামের আরেক শিশুর বাবা—একজন অটোরিকশা চালক—মেয়ের জন্মগত হার্টের ছিদ্র অপারেশনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চান। সীমিত আয়ে চিকিৎসা চালাতে না পেরে তিনি প্রশাসনের কাছে শেষ আশ্রয় নেন।

ইউএনও জানান—
“সেই বাবা যখন অসহায় চোখে সাহায্য চাইলেন, বিদায়ের সময় কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। এরপরও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এনজিওর সঙ্গে কথা বলি—আরেকটি শিশুর জন্য সহায়তা পাওয়া যায় কি না। আলহামদুলিল্লাহ, খুব অল্প সময়েই দুই জান্নাতের জন্যই ফান্ড পাওয়া গেছে।”

ইউএনও আরও বলেন—
“ওদের হাসিমুখ দেখার অপেক্ষায় আছি। অপারেশন যেন সফল হয়—সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।”

চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া এনজিও এমএসআইয়ের প্রকল্প সমন্বয়ক মোজাম্মেল হক জানান, ৭ ডিসেম্বর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে দুই শিশুরই অপারেশন সম্পন্ন হবে। প্রতিজনের জন্যে খরচ হবে ৩ লক্ষ করে মোট ৬ লক্ষ টাকা।

মোজাম্মেল জানান,এমএসআইয়ের অর্থায়নে এ দুই শিশু ছাড়াও ২০ টি শিশুর নাকের পলিপ ও টনসিল অপারেশন করা হবে কক্সবাজারের ইউনিয়ন হাসপাতালে।যা শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর থেকে।

স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও এবং সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতায় দুই শিশুর জীবন বাঁচানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

দুই জান্নাতের মুখে হাসি ফোটাতে ইউএনওর মানবিক উদ্যোগ: “এমএসআই নিলো দায়িত্ব

আপডেট সময় : ০৮:২২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার সদর উপজেলার দুই শিশু—মরিয়ম জান্নাত ও ফাতেমা জান্নাত—জন্মগত হার্টের ছিদ্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিল। অবশেষে তাদের চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে মাল্টিসার্ভ ইন্টারন্যাশনাল নামের এনজিও। এই মানবিক কাজটির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিদায়ী ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে মরিয়ম জান্নাতের হার্ট অপারেশনের অনুদান নিশ্চিত হয়। এর মধ্যেই ফাতেমা জান্নাত নামের আরেক শিশুর বাবা—একজন অটোরিকশা চালক—মেয়ের জন্মগত হার্টের ছিদ্র অপারেশনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চান। সীমিত আয়ে চিকিৎসা চালাতে না পেরে তিনি প্রশাসনের কাছে শেষ আশ্রয় নেন।

ইউএনও জানান—
“সেই বাবা যখন অসহায় চোখে সাহায্য চাইলেন, বিদায়ের সময় কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। এরপরও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এনজিওর সঙ্গে কথা বলি—আরেকটি শিশুর জন্য সহায়তা পাওয়া যায় কি না। আলহামদুলিল্লাহ, খুব অল্প সময়েই দুই জান্নাতের জন্যই ফান্ড পাওয়া গেছে।”

ইউএনও আরও বলেন—
“ওদের হাসিমুখ দেখার অপেক্ষায় আছি। অপারেশন যেন সফল হয়—সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।”

চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া এনজিও এমএসআইয়ের প্রকল্প সমন্বয়ক মোজাম্মেল হক জানান, ৭ ডিসেম্বর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে দুই শিশুরই অপারেশন সম্পন্ন হবে। প্রতিজনের জন্যে খরচ হবে ৩ লক্ষ করে মোট ৬ লক্ষ টাকা।

মোজাম্মেল জানান,এমএসআইয়ের অর্থায়নে এ দুই শিশু ছাড়াও ২০ টি শিশুর নাকের পলিপ ও টনসিল অপারেশন করা হবে কক্সবাজারের ইউনিয়ন হাসপাতালে।যা শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর থেকে।

স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও এবং সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতায় দুই শিশুর জীবন বাঁচানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।