ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত আলমগীর মারা গেছেন বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’: বর্ষা বন্দনা-১৪৩৩-এর সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী গুরুতর আহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেকে প্রেরণ ২৩ মামলার আসামী সমিতি পাড়ার নুর কাদেরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫ সহজেই মিলছে সরকারি লাইসেন্স! রিজভির গরুর খামারে সাদা হচ্ছে ইয়াবার কালো টাকা সমুদ্রে ভেঁসে যাওয়া ছেলে জীবিত উদ্ধার হলেও খোঁজ মিলছে না বাবার এক সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ : মিশকাতুল মমতজা মুমুর একক পরিবেশনা লন্ডনের হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে মিলল মাদক গ্রহণের প্রমাণ চুনতিতে গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডব ​টেকনাফ-উখিয়ার নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন: বঙ্গভবন জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়: শফিকুর রহমান গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার : ফখরুল পুলিশের কাজ মানুষের সেবা করা-ইলিয়াছ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ সুপার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার
মন্তব্য কলাম

দক্ষিণ এশিয়ায় গণঅভ্যুত্থান ও ভূরাজনীতির জুয়া

দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারতের পাশেই দুটি ছোট দেশ; বাংলাদেশ ও নেপাল। এই দুটি দেশেই সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যেন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে: আসলে কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কারা এর পেছনে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই ভয়ঙ্কর ভূরাজনীতির জুয়ায় কারা জড়িত?

গতানুগতিক বিশ্লেষণ বলবে; অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, শাসক শ্রেণীর অব্যবস্থাপনা। কিন্তু আজকের দুনিয়ায় এগুলো আংশিক ব্যাখ্যা মাত্র। তাবৎ দুনিয়ার বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ঘটনাগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক জোট, আরকান অঞ্চলের সামরিক কৌশল, চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল অঙ্ক।

ভারত এখানে এক দ্বৈত অবস্থানে আছে। একদিকে সে কোয়াডের প্রভাবশালী সদস্য ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। অন্যদিকে ভারতের চারপাশে যেন নদী ভাঙনের মতো দেশ গুলো একে একে অস্থিতিশীল হচ্ছে; নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে; এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি কোনো বৃহৎ শক্তির পরিকল্পিত গেম প্ল্যান?

আমেরিকা আসলে কী চায়? যুদ্ধ নয়, বরং ভারতের ওপর চাপ তৈরি করা, যাতে সে চীনের বিরুদ্ধে পুরোপুরি মার্কিন নীতির অংশীদার হয়। এক দিকে অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে উস্কে দেওয়া, অন্যদিকে ভাঙনের ভয় দেখানো। পাকিস্তান তো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, এখন বাকি আছে ভুটান, যা হয়তো পরবর্তী পরীক্ষার ময়দান।

এর পাশাপাশি রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, বঙ্গোপসাগরীয় করিডর নিয়ে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষি। এশিয়ার সামুদ্রিক ভূ-রাজনীতি আজ কেবল নোনা জলের ভৌগোলিক প্রশ্ন নয়, বরং হৃদয়ের গভীর কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রশ্ন কেবল “কে ক্ষমতায়” নয়, বরং “এই অঞ্চল কার কৌশলগত ছকে বন্দি?” ভারত কি হবে শক্তিশালী অখণ্ড রাষ্ট্র, নাকি ভাঙনের আতঙ্কে জর্জরিত এক আঞ্চলিক শক্তি? আর বাংলাদেশ-নেপালের গণঅভ্যুত্থান, তা কি কেবল ছাত্রজনতার ক্রোধ, নাকি বৃহৎ শক্তির মহড়া?

এখন দক্ষিণ এশিয়া দাঁড়িয়ে আছে এক সড়কবিভাজনে। কোন পথে যাবে, সেটাই ভবিষ্যতের ইতিহাস লিখবে।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত আলমগীর মারা গেছেন

মন্তব্য কলাম

দক্ষিণ এশিয়ায় গণঅভ্যুত্থান ও ভূরাজনীতির জুয়া

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারতের পাশেই দুটি ছোট দেশ; বাংলাদেশ ও নেপাল। এই দুটি দেশেই সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যেন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে: আসলে কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কারা এর পেছনে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই ভয়ঙ্কর ভূরাজনীতির জুয়ায় কারা জড়িত?

গতানুগতিক বিশ্লেষণ বলবে; অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, শাসক শ্রেণীর অব্যবস্থাপনা। কিন্তু আজকের দুনিয়ায় এগুলো আংশিক ব্যাখ্যা মাত্র। তাবৎ দুনিয়ার বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ঘটনাগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক জোট, আরকান অঞ্চলের সামরিক কৌশল, চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল অঙ্ক।

ভারত এখানে এক দ্বৈত অবস্থানে আছে। একদিকে সে কোয়াডের প্রভাবশালী সদস্য ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। অন্যদিকে ভারতের চারপাশে যেন নদী ভাঙনের মতো দেশ গুলো একে একে অস্থিতিশীল হচ্ছে; নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে; এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি কোনো বৃহৎ শক্তির পরিকল্পিত গেম প্ল্যান?

আমেরিকা আসলে কী চায়? যুদ্ধ নয়, বরং ভারতের ওপর চাপ তৈরি করা, যাতে সে চীনের বিরুদ্ধে পুরোপুরি মার্কিন নীতির অংশীদার হয়। এক দিকে অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে উস্কে দেওয়া, অন্যদিকে ভাঙনের ভয় দেখানো। পাকিস্তান তো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, এখন বাকি আছে ভুটান, যা হয়তো পরবর্তী পরীক্ষার ময়দান।

এর পাশাপাশি রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, বঙ্গোপসাগরীয় করিডর নিয়ে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষি। এশিয়ার সামুদ্রিক ভূ-রাজনীতি আজ কেবল নোনা জলের ভৌগোলিক প্রশ্ন নয়, বরং হৃদয়ের গভীর কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রশ্ন কেবল “কে ক্ষমতায়” নয়, বরং “এই অঞ্চল কার কৌশলগত ছকে বন্দি?” ভারত কি হবে শক্তিশালী অখণ্ড রাষ্ট্র, নাকি ভাঙনের আতঙ্কে জর্জরিত এক আঞ্চলিক শক্তি? আর বাংলাদেশ-নেপালের গণঅভ্যুত্থান, তা কি কেবল ছাত্রজনতার ক্রোধ, নাকি বৃহৎ শক্তির মহড়া?

এখন দক্ষিণ এশিয়া দাঁড়িয়ে আছে এক সড়কবিভাজনে। কোন পথে যাবে, সেটাই ভবিষ্যতের ইতিহাস লিখবে।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।