ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাজিলকে ‘আমরা ভয় পাই না’: হাকিমি প্রাণের দাবি পুরণ হলো কক্সবাজারবাসীর: মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নত করা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন প্রয়াত কারিনা কায়সার বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের মূলহোতা নূরুল ইসলাম নাহিদ আটক পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – বিএনপি দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী মালুমঘাটে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের জন্য আমার নেতার বৃহত্তর মাস্টার প্ল্যান আছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে পিএমখালীতে যান প্রধানমন্ত্রী, পাশে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন তারেক রহমান, দিনব্যাপী অংশ নেবেন ১১ কর্মসূচিতে  কক্সবাজারের পথে সপরিবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি
মন্তব্য কলাম

দক্ষিণ এশিয়ায় গণঅভ্যুত্থান ও ভূরাজনীতির জুয়া

দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারতের পাশেই দুটি ছোট দেশ; বাংলাদেশ ও নেপাল। এই দুটি দেশেই সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যেন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে: আসলে কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কারা এর পেছনে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই ভয়ঙ্কর ভূরাজনীতির জুয়ায় কারা জড়িত?

গতানুগতিক বিশ্লেষণ বলবে; অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, শাসক শ্রেণীর অব্যবস্থাপনা। কিন্তু আজকের দুনিয়ায় এগুলো আংশিক ব্যাখ্যা মাত্র। তাবৎ দুনিয়ার বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ঘটনাগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক জোট, আরকান অঞ্চলের সামরিক কৌশল, চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল অঙ্ক।

ভারত এখানে এক দ্বৈত অবস্থানে আছে। একদিকে সে কোয়াডের প্রভাবশালী সদস্য ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। অন্যদিকে ভারতের চারপাশে যেন নদী ভাঙনের মতো দেশ গুলো একে একে অস্থিতিশীল হচ্ছে; নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে; এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি কোনো বৃহৎ শক্তির পরিকল্পিত গেম প্ল্যান?

আমেরিকা আসলে কী চায়? যুদ্ধ নয়, বরং ভারতের ওপর চাপ তৈরি করা, যাতে সে চীনের বিরুদ্ধে পুরোপুরি মার্কিন নীতির অংশীদার হয়। এক দিকে অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে উস্কে দেওয়া, অন্যদিকে ভাঙনের ভয় দেখানো। পাকিস্তান তো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, এখন বাকি আছে ভুটান, যা হয়তো পরবর্তী পরীক্ষার ময়দান।

এর পাশাপাশি রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, বঙ্গোপসাগরীয় করিডর নিয়ে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষি। এশিয়ার সামুদ্রিক ভূ-রাজনীতি আজ কেবল নোনা জলের ভৌগোলিক প্রশ্ন নয়, বরং হৃদয়ের গভীর কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রশ্ন কেবল “কে ক্ষমতায়” নয়, বরং “এই অঞ্চল কার কৌশলগত ছকে বন্দি?” ভারত কি হবে শক্তিশালী অখণ্ড রাষ্ট্র, নাকি ভাঙনের আতঙ্কে জর্জরিত এক আঞ্চলিক শক্তি? আর বাংলাদেশ-নেপালের গণঅভ্যুত্থান, তা কি কেবল ছাত্রজনতার ক্রোধ, নাকি বৃহৎ শক্তির মহড়া?

এখন দক্ষিণ এশিয়া দাঁড়িয়ে আছে এক সড়কবিভাজনে। কোন পথে যাবে, সেটাই ভবিষ্যতের ইতিহাস লিখবে।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলকে ‘আমরা ভয় পাই না’: হাকিমি

মন্তব্য কলাম

দক্ষিণ এশিয়ায় গণঅভ্যুত্থান ও ভূরাজনীতির জুয়া

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারতের পাশেই দুটি ছোট দেশ; বাংলাদেশ ও নেপাল। এই দুটি দেশেই সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যেন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে: আসলে কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কারা এর পেছনে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই ভয়ঙ্কর ভূরাজনীতির জুয়ায় কারা জড়িত?

গতানুগতিক বিশ্লেষণ বলবে; অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, শাসক শ্রেণীর অব্যবস্থাপনা। কিন্তু আজকের দুনিয়ায় এগুলো আংশিক ব্যাখ্যা মাত্র। তাবৎ দুনিয়ার বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ঘটনাগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক জোট, আরকান অঞ্চলের সামরিক কৌশল, চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল অঙ্ক।

ভারত এখানে এক দ্বৈত অবস্থানে আছে। একদিকে সে কোয়াডের প্রভাবশালী সদস্য ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। অন্যদিকে ভারতের চারপাশে যেন নদী ভাঙনের মতো দেশ গুলো একে একে অস্থিতিশীল হচ্ছে; নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে; এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি কোনো বৃহৎ শক্তির পরিকল্পিত গেম প্ল্যান?

আমেরিকা আসলে কী চায়? যুদ্ধ নয়, বরং ভারতের ওপর চাপ তৈরি করা, যাতে সে চীনের বিরুদ্ধে পুরোপুরি মার্কিন নীতির অংশীদার হয়। এক দিকে অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে উস্কে দেওয়া, অন্যদিকে ভাঙনের ভয় দেখানো। পাকিস্তান তো অনেক আগেই রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, এখন বাকি আছে ভুটান, যা হয়তো পরবর্তী পরীক্ষার ময়দান।

এর পাশাপাশি রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, বঙ্গোপসাগরীয় করিডর নিয়ে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষি। এশিয়ার সামুদ্রিক ভূ-রাজনীতি আজ কেবল নোনা জলের ভৌগোলিক প্রশ্ন নয়, বরং হৃদয়ের গভীর কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রশ্ন কেবল “কে ক্ষমতায়” নয়, বরং “এই অঞ্চল কার কৌশলগত ছকে বন্দি?” ভারত কি হবে শক্তিশালী অখণ্ড রাষ্ট্র, নাকি ভাঙনের আতঙ্কে জর্জরিত এক আঞ্চলিক শক্তি? আর বাংলাদেশ-নেপালের গণঅভ্যুত্থান, তা কি কেবল ছাত্রজনতার ক্রোধ, নাকি বৃহৎ শক্তির মহড়া?

এখন দক্ষিণ এশিয়া দাঁড়িয়ে আছে এক সড়কবিভাজনে। কোন পথে যাবে, সেটাই ভবিষ্যতের ইতিহাস লিখবে।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।