ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আবারও প্রাণহানি : মারা গেল রোহিঙ্গা যুবক ৫ দিন আগে খুঁড়েছিলেন কবর / ঘুমে প্রাণ গেল তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের, শোকে কাতর এলাকাবাসী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩১ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো টেকনাফের স্কুল শিক্ষকের প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল পেশকারপাড়ার রাস্তায় পড়ে থাকা বিচ্ছিন্ন মানব পা কার? ‎ বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি টেকনাফে চাঁদা দাবির অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে অপহৃত ৫ কিশোর উদ্ধার বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি রামুতে প্রিতম শর্মা নামের কিশোরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, আদালতে জামিন ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে পেকুয়ায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মাদকের থেকেও ভয়াবহ: মানব পাচারের অন্ধকার বাস্তবতা চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও শিশুসহ নিহত ২, আহত ২০

টেকনাফে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অপহৃত কিশোর উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত এক কিশোরকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে টেকনাফ মডেল থানার একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের মোচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত কিশোর মো. রিয়াজ উদ্দিনকে (১৫) উদ্ধার করে। তিনি টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লেদা এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে। রিয়াজ প্রতিদিনের মতো টমটম গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রিয়াজের বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায়, রিয়াজ তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে চাইলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণ না দিলে রিয়াজকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা আবদুর রশিদ বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে এসআই নাজমুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। তবে কৌশলে কিশোর রিয়াজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পলাতক অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “অভিযানে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণকারীরা চিহ্নিত৷ তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হ্নীলা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবারের সফল এ অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আবারও প্রাণহানি : মারা গেল রোহিঙ্গা যুবক

টেকনাফে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অপহৃত কিশোর উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত এক কিশোরকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে টেকনাফ মডেল থানার একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের মোচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত কিশোর মো. রিয়াজ উদ্দিনকে (১৫) উদ্ধার করে। তিনি টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লেদা এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে। রিয়াজ প্রতিদিনের মতো টমটম গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রিয়াজের বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায়, রিয়াজ তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে চাইলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণ না দিলে রিয়াজকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা আবদুর রশিদ বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে এসআই নাজমুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। তবে কৌশলে কিশোর রিয়াজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পলাতক অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “অভিযানে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণকারীরা চিহ্নিত৷ তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হ্নীলা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবারের সফল এ অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।