ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে আড়ং ও স্বপ্ন সুপার শপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ‎৩ দিন ধরে নির্যাতনের পর পাহাড়তলী টমটম গ্যারেজ থেকে আব্দুল হাকিমের লাশ উদ্ধার উখিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ প্রদীপের বিরুদ্ধে সৈকতে ৫০ ফুট উচ্চতার ৫ টনের প্লাস্টিক দানব! শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব উদযাপনে সহযোগীতা করুন- লোহাগাড়ায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার রাজুকে ফেরত দিলো কুমিল্লা পুলিশ, ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন,জাহাজ ছাড়ার স্থান ও সংখ্যা নিয়ে পরিবর্তন আসছে সারা দেশে দুইদিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা কক্সবাজারে সিএনজি থেকে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের দাফন সম্পন্ন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলা‌দে‌শি আহত বাড়িতে স্ত্রীর লাশ রেখে মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

টেকনাফে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অপহৃত কিশোর উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত এক কিশোরকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে টেকনাফ মডেল থানার একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের মোচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত কিশোর মো. রিয়াজ উদ্দিনকে (১৫) উদ্ধার করে। তিনি টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লেদা এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে। রিয়াজ প্রতিদিনের মতো টমটম গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রিয়াজের বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায়, রিয়াজ তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে চাইলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণ না দিলে রিয়াজকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা আবদুর রশিদ বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে এসআই নাজমুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। তবে কৌশলে কিশোর রিয়াজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পলাতক অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “অভিযানে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণকারীরা চিহ্নিত৷ তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হ্নীলা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবারের সফল এ অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে আড়ং ও স্বপ্ন সুপার শপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

টেকনাফে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অপহৃত কিশোর উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত এক কিশোরকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে টেকনাফ মডেল থানার একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের মোচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত কিশোর মো. রিয়াজ উদ্দিনকে (১৫) উদ্ধার করে। তিনি টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লেদা এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে। রিয়াজ প্রতিদিনের মতো টমটম গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রিয়াজের বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায়, রিয়াজ তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে চাইলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণ না দিলে রিয়াজকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা আবদুর রশিদ বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে এসআই নাজমুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। তবে কৌশলে কিশোর রিয়াজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পলাতক অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “অভিযানে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণকারীরা চিহ্নিত৷ তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হ্নীলা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবারের সফল এ অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।